JPEG, PNG, GIF কী?

image_pdfimage_print

➡ একই জিনিস একেক জনের দৃষ্টি ভঙ্গিতে একেক রকম হয়ে থাকে। যেমন সাধারন ব্যবহারকারীদের কাছে যেকোন ইমেজ ফরমেট একই রকম। এগুলোর মাঝে তারা মৌলিক কোন পার্থক্য খুঁজে পান না। কিন্তু একটু এডভান্স দিক থেকে চিন্তা করলে সবগুলো ইমেজ ফরমেট কিন্তু একই রকম না। তাদের ভেতর রয়েছে মৌলিক কিছু পার্থক্য। যার ফলে যেকোন ক্ষেত্রে ইচ্ছে মতো ইমেজ ফরমেট ব্যবহার করা যায় না। যারা ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কাজ করেন তারা নিশ্চয় ইমেজ ফরমেটগুলো বিষয়ে যথেষ্ট পরিচিত আছেন। কিন্তু যারা সাধারন কম্পিউটার ব্যবহারকারী, যাদের বিচরন ফেসবুক কিংবা ব্লগে দু’একটি লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ তাদের অবগতির জন্য আজকের টিউনের অবতারনা। আজ আমরা পরিপূর্ণ ভাবে পরিচিত ইমেজ ফরমেটগুলো (JPEG, PNG, GIF ইত্যাদি) সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো। যার ফলে আজকের টিউনের পর থেকে সব ইমেজ আপনার কাছে একই রকম মনে হবে না। আপনি খুব সহজেই ইমেজগুলোর ফরমেট দেখে তাদের বৈশিষ্ট্য বলে দিতে পারবেন এবং আপনার নির্দিষ্ট প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট ইমেজ ব্যবহার করতে পারবেন। আমি এর আগে ইমেজ ফরমেটগুলোর মতোই বিভিন্ন মিডিয়া ফাইল ফরমেট সম্পর্কে একটি মেগাটিউন করেছিলাম। আপনারা আগ্রহী হলে আমার সেই টিউনটিও এক নজরে দেখে নিতে পারেন।

JPEG – Joint Photographic Experts Group (JPG)

ডিজিটাল ইমেজের সবচেয়ে পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত ইমেজ ফরমেট হলো JPEG বা JPG ফরমেট যা উচ্চারিত হয় জে-পেগ নামে। ১৯৮৬ সালে এই ফরমেটটি তৈরী হওয়ার পর থেকেই ফটোগ্রাফি এবং ওয়েব এর জন্য সর্বাধিক পরিমাণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অধিকাংশ ডিজিটাল ক্যামেরাতে ডিফল্ট ফটো ফরমেট হিসাবে JPEG/ JPG ফরমেট দেওয়া থাকে। আপনাদের মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ক্যামেরাতে তোলা ছবিগুলোর নিশ্চয় ফরমেট চেক করে দেখেছেন? যাহোক, চলুন তাহলে এই ফরমেটটির কিছু বৈশিষ্ট্য এবং এর ব্যবহার সমূহ জেনে নেই।

JPEG/ JPG ফরমেট এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

  • অধিকাংশ ডিজিটাল ক্যামেরার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ফাইল ফরমেট হলো JPEG/ JPG এবং এটা ১৬ বিট ডাটা ফরমেট সাপোর্ট করে।
  • যখন ফাইলের কোয়ালিটির চাইতে সাইজ মূখ্য বিষয় হয়ে দাড়াবে তখন এই ফরমেট ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ কম সাইজের ইমেজের জন্য JPEG সর্বোত্তম।
  • ওয়েব সাইটে ব্যবহারের জন্য JPEG ফরমেট ইমেজকে প্রায় ৬০%-৭৫% পর্যন্ত সংকোচিত করতে পারে। ছোট ফাইল সাইজ মানেই তো দ্রুত আপলোড এবং দেখার সুবিধা।
  • মানুষের চোখ সব ধরনের কালার কম্বিনেশন দেখতে পারে না। এক্ষেত্রে JPEG ফরমেট মানুষের চোখের উপযোগি করে ইমেজ কম্প্রেস করতে পারে (অপ্রয়োজনীয় কালার গুলোকে বাদ দিয়ে)। ফলে ইমেজ এর কোয়ালিটি ঠিক মনে হলেও ফাইল সাইজ কমে যায়। যেকোন JPEG ফাইলকে কোয়ালিটি ঠিক রেখে প্রায় ৫ ভাগ সংকোচিত করা যায়।

JPEG/ JPG – সর্বোত্তম ব্যবহার

  • স্টিল ইমেজ (স্থির ছবি) তোলার ক্ষেত্রে JPEG ফরমেট সবচেয়ে ভালো।
  • জটিল কালার কম্বিনেশনের ক্ষেত্রে JPEG ফরমেট ব্যবহার করুন। কারন এক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় কালারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়ে যাবে।
  • আলো এবং অন্ধকারের শ্যাড দেওয়ার ক্ষেত্রে JPEG ফরমেট ভালো। কারন এই ইমেজে কোন ট্রান্সপারেন্সি নাই।

তবে JPEG/ JPG ফরমেট এর ইমেজকে লাইন আর্ট এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা অনুচিত। এছাড়াও যে সমস্ত ইমেজে শার্পনেস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেখানে JPEG ফরমেট খুবই বাজে পারফরমেন্স দেয়। এ সমস্ত ব্যাপারে GIF অথবা PNG ফরমেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

GIF – Graphics Interchange Format

১৯৮৭ সালে স্লো ইন্টারনেট কানেকশনে দ্রুত ইমেজ ট্রান্সফারের জন্য Wilhite নামে এক ব্যক্তি এই ইমেজ ফরমেট তৈরী করেন। তবে এর নামের উচ্চারণ নিয়ে একটু বিতর্ক আছে। কারন অনেক ইংরেজি টিউটরিয়ালে ডিজাইনারদের কাউকে জিফ আবার কাউকে গিফ উচ্চারণ করতে শুনেছি। যদিও ইংরেজি বর্ণ G এর উচ্চারণ নিয়ে অনেকেই মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়ে এর উচ্চারণ ‘জ’ হবে নাকি ‘গ’ হবে এটা নিয়ে। ইদানিং ফেসবুকে এই শব্দটির বিকৃত উচ্চারণ অনেকেই ইচ্ছেকৃত ভাবে করে আসছে। এই ধরনের উচ্চারণের অপব্যবহার ভবিষ্যতে ভাষার জন্য খুবই খারাপ প্রভাব ফেলবে। এটার সঠিক উচ্চারণ বলার আগে আপনাদের আমার ব্যক্তিগত একটি বিষয় শেয়ার করি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি G এর উচ্চারণ নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। কখন এর উচ্চারণ ‘জ’ হবে আবার কখন ‘গ’ হবে এটা নিয়ে আমার চিন্তার অন্ত ছিলো না। অবশেষে পুরো ডিকশনারীতে G এর উচ্চারণ দেখে আমি নিশ্চিত হই যে G এর পরে E, I অথবা Y থাকলে কেবল G এর উচ্চারণ ‘জ’ হয় এবং বাকি সবগুলোতে ‘গ’ হয়। এখনকার জন্য বিষয়টা হাস্যকর হলেও ১৫ বছর আগে গ্রামের প্রাইমারি পড়ুয়া একটা ছেলের জন্য বিষয়টা অন্যরকমই ছিলো। যাহোক, এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন ফরমেটটির উচ্চারণ কি হবে? চলুন তাহলে এবার এই ফরমেটটির বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে নেই।

GIF ফরমেট এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

  • এই ফরমেটে মাত্র ২৫৬ ইনডেক্সড কালার ব্যবহৃত হয়। এর ফলে এটি তুলনামূলকভাবে কম সাইজের হয়।
  • কোন লো-কোয়ালিটি ফাইলে পরবর্তি সময়ে প্রয়োজনীয় ডিটেইল যোগ করার সুযোগ রয়েছে।
  • এটা দুই ধরনের কালারকে সমন্বয় করে এক কালারে পরিনত করে ফাইল সাইজ কমিয়ে ফেলতে পারে।
  • এ ধরনের ইমেজ ফাইল পরিপূর্ণভাবে ট্রানপারেন্সি সাপোর্ট করে।
  • এই ধরনের ইমেজ এনিমেটেড হতে পারে।

GIF ফরমেট এর এর সর্বোত্তম ব্যবহার

  • স্বল্প কালারের ওয়েব গ্রাফিক্স তৈরীতে GIF ফরমেট ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • আইকন তৈরীর জন্য GIF ফরমেট কার্যকরী।
  • অ্যানিমেটেড ইমেজ তৈরীতে GIF ফরমেট আপনার একমাত্র ভরসা।
  • এছাড়াও লাইন ড্রয়িং এর জন্যও GIF ফরমেট সর্বোত্তম।

একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ডিজাইনারের একটা ভিডিও টিউটরিয়ালে তাকে বলতে শুনছিলাম যে, “আমি জানি এর সঠিক উচ্চারণ হলো জিফ কিন্তু আমি এটাকে গিফ বলেই বেশি মজা পাই”। জানার পরেও ভুল উচ্চারনের প্রতি এই ধরনের আগ্রহ আমাকে অনেক বেশি উৎসাহিত করেছিলো। এখানে মোরালটা হলো, আমার নিজের যেটা ভালোলাগে আমি সেটাই করবো। ভুল হলো না শুদ্ধ হলো সেটা যায় আসে না!

PNG – Portable Network Graphics

১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে GIF এবং JPEG এর সুবিধাগুলো সমন্বয় করে PNG ফাইল ফরমেট তৈরী করা হয় যাকে পিং কিংবা পিএনজি হিসাবে উচ্চারণ করা হয়। যদিও এখনো পর্যন্ত এই ফরমেটটি মাইক্রোসফট এর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার থেকে শুরু করে অনেক পুরাতন ব্রাউজারে পুরোপুরি সাপোর্ট করে না তবুও ফরমেটটি ট্রানপারেন্সি এবং ফাইলের কালার কম্বিনেশন এর কারনে ব্যবহারকারীদের কাছে শক্ত অবস্থান তৈরী করে ফেলেছে। তো চলুন তাহলে এই ইমেজ ফরমেট সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু ধারনা নিয়ে নেই।

PNG ফরমেট এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

  • এই ফরমেটটি ইমেজে একই সাথে ট্রান্সপারেন্সি (স্বচ্ছতা) এবং অস্বচ্ছতার বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করতে পারে।
  • প্রায় ১৬ মিলিয়ন কালার সাপোর্ট করে তাই এই ফরমেটে ফটোগ্রাফের আসল কালার পাওয়া যাবে এবং ছবি হাই কোয়ালিটির হবে।
  • সংকোচন হার খুবই সীমিত হলেও কোন ডাটা না হারিয়ে ইমেজ ফাইলকে কম্প্রেস করা যায়।

PNG ফরমেট এর এর সর্বোত্তম ব্যবহার

  • ওয়েব সাইটের লোগো এবং এমন সব ইমেজ সেখানে ট্রান্সপারেন্সি এবং ফ্যাডিং প্রয়োজন।
  • কোন ইমেজ এডিটিং এর মাঝামাঝি সময়ে সংরক্ষণ করতে চাইলে এই ফরমেটটি ব্যবহার করা ভালো।
  • যখন ফাইল সাইজের তুলনায় ফটোগ্রাফটাকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে তখন এই ফরমেটটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোন ফরমেটগুলো ব্যবহার করবেন

ফাইল ফরমেটগুলো সম্পর্কে তাত্ত্বিক আলোচনা আজকের মতো শেষ হয়েছে। এবার তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা আপনি কোন ফরমেটটি কোথায় ব্যবহার করবেন। নিচের চিত্রে সংক্ষেপে সবগুলো ফরমেট এর সর্বোত্তম ব্যবহার দেখানো হয়েছে। এখান থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন আপনার কোন প্রয়োজনের জন্য কোন ফরমেট ব্যবহার করা উচিত।

তবে এই ইমেজ ফরমেটগুলোর বাস্তব উদাহরণ এবং তুলনামূলক পার্থক্য বুঝার জন্য নিচের সারণীটি আপনাকে যথেষ্ট সাহায্য করতে পারবে বলে মনে হয়। তো ইমেজগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং তাদের মাঝের মৌলিক পার্থক্যগুলো নিজে নিজে নিরূপন করার চেষ্টা করুন। এটাই তাহলে আপনাদের জন্য হোমওয়ার্ক।

ইমেজ ফরমেট ইমেজ সাইজ ইমেজ নিদর্শন
JPG – হাই কোয়ালিটি ইমেজ 319KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
JPG – মধ্যম কোয়ালিটি ইমেজ 188KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
JPG – ওয়েব কোয়ালিটি 105KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
JPG – লো কোয়ালিটি / সংকোচিত 50KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
JPG – অত্যধিক সংকোচিত 18KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
PNG – সংকোচন ছাড়া 741KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
GIF – মাত্র ২৫৬ কালার 286KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ইমেজ এবং মিডিয়া ফাইলের পরিচিত সবগুলো ফরমেট সম্পর্কে আপনাদের সামান্য করে হলেও আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে ধারনা দিতে চেষ্টা করলাম। জানিনা কতোটুকু বুঝতে পারছেন, তবে আমার টিউনটি যদি আপনাদের জ্ঞানের দুয়ারে সামান্য ইন্ধন যোগাতে পারে তাহলেই আমার সকল পরিশ্রম স্বার্থক হবে। আপনাদের জ্ঞান ভান্ডারে আর কী কী অভাব অনুভব করছেন সেটা আমাকে জানাতে ভুলবেন না যেন।

12 thoughts on “JPEG, PNG, GIF কী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *