QR কোড সম্পর্কে জানতে চান? জেনে নিন

QR কোড সম্পর্কে জানতে চান? জেনে নিন QR কোড সম্পর্কে সাদামাটা কিছু কথা। আরও রয়েছে QR কোড তৈরি এবং স্ক্যান করার কিছু অ্যাপস ডাইরেক্ট ডাউনলোড লিংক!

আপনারা নিশ্চয়ই এর আগে বার কোডের নাম শুনেছেন? যারা শুনেননি বা চিনেন না তাঁরাও এই বার কোড দেখেছেন এটা আমি গ্যারান্টি দিতে পারি। আপনারা যে বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার খান সেগুলোর প্যাকেটেত্র পিছনে একগুলো কালো দাগের লম্বা লম্বা সংকেত আছে না? এগুলাকেই বলে বার কোড। এইবার চিনেছেন তো?

ভাবছেন আমি QR কোডের কথা শিরোনামে বলে আবার বার কোড নিয়ে বলছি কেন? কারণ বারকোডের বড় ভাই QR কোড। বর্তমানে প্রচুর জনপ্রিয় এই QR কোড। কিন্তু QR কোড বা বার কোড দিয়ে কি করে সেটা ভাবছেন? এগুলোতে আসলে ডাটা রাখা হয়। খুবই অবাক করা কথা তাইনা? যদিও এই বিজ্ঞানের যুগে আমরা কিছুতেই অবাক হইনা। কারণ অবাক করা নানা প্রযুক্তি আমাদের সচরাচর ব্যবহার হয়। আগে বার কোডের প্রচলন থাকলেও এখন QR কোড বেশি জনপ্রিয়। আমরা এখন প্রায়ই পত্রিকায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে এই QR কোডের ব্যবহার দেখতে পেয়ে থাকি। যেমন ধরুন, পেপারে একটি বিজ্ঞাপনে অ্যাপস ডাউনলোড করতে বলা হয়েছে। তো সেখানে ডাউনলোড লিঙ্কও দেয়া আছে আবার একটি QR কোডও দেয়া আছে। অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে নিশ্চয়ই আপনাকে ব্রাউজারে লিংকটি টাইপ করে ভিজিট করতে হবে এবং ডাউনলোড করতে হবে। আর QR কোডটির মাধ্যমে আরও সহজে ডাউনলোড করতে পারবেন। মোবাইলের QR কোড স্ক্যানারটা বের করে কোডটির উপরে ক্যামেরা নিয়ে গেলেই আপনাকে সোজা নিয়ে যাবে ওই ডাউনলোড লিংকে। এটি একটি উদাহরন মাত্র। এমন নানা কাজে বিভিন্ন ডাটা ছোট একটি QR কোডে রেখে দেয়া যায়। এখন একটি কোড ৭০৮৯ টি সংখ্যা বা ৪২৯৬ টি অক্ষর ধারণ করতে পারে! একটি QR কোড  QR কোডও বার কোডের মত দেখতে কিন্তু এদের চেহারা একটু আলাদা। কিন্তু এদের চেহারা যাই হোক আপনি কিন্তু এদেরকে আমাদের এই সাধারণ চোখে পড়তে পারবেন না। এদেরকে পড়তে হলে প্রয়োজন স্ক্যানার। আপনারা প্রায়ই পূর্বে বার কোড স্ক্যানার পাওয়া যেত। কিন্তু যুগ তো এখন অনেক ডিজিটাল। এখন আর এসবের প্রয়োজন হয়না। হাতের স্মার্টফোনটাই হলো এই QR কোড স্ক্যানার। প্রয়োজন শুধু ছোট একটি স্ক্যানার অ্যাপস। চিন্তা নাই QR কোড বানানো সাথে স্ক্যান করা দুইটাই শেখানোর চেষ্টা করব।

<figure “=”” class=”wp-caption aligncenter”>QR Code এবং Bar Code<figure “=”” class=”wp-caption aligncenter”>QR কোডের ব্যবহার

এখন আসি কিভাবে আপনিও একটি QR কোড বানাবেন? আপনি চাইলে লেখা, ছবি, লিংক, ইমেজ, এমপিথ্রি, ফেসবুক লিংক ইত্যাদি যা চান সেরকম ডাটা দিয়ে QR কোড বানাতে পারবেন। এই লিংক -এ পিসি থেকে ভিজিট করে আপনি QR কোড তৈরি করে নিতে পারবেন। বিস্তারিত টিউটোরিয়াল লিখছিনা। খুব কষ্ট হবেনা, দেখলেই বুঝতে পারবেন সহজেই! তবে মোবাইল থেকে সম্ভবত এই লিংক থেকে কোড তৈরি করতে পারবেন না। মন খারাপ করার কিছু নেই, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ইউজাররা নিচের যেকোন একটি অ্যাপস ডাউনলোড করে নিন।
কোড তৈরি তো হলো কিন্তু এবার তো সেই কোড পড়তে হবে তাইনা? হ্যাঁ, আগেই তো বলেছি এই কোড পড়তে পারে শুধু কোড স্ক্যানারই। এর জন্য ব্যবহার করতে পারবেন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনই। QR কোড স্ক্যান করারও কিছু অ্যাপস নিচে দিলাম। পছন্দমত একটা ডাউনলোড করে নিন। তারপর অ্যাপস ওপেন করে যেকোন QR কোডের উপর ধরলেই পেয়ে যাবেন সেই কোডে কি বলা আছে তাঁর লুকায়িত ফলাফল!
আমিও বানিয়ে রেখেছি একটি QR কোড আপনাদের পরীক্ষা করার জন্য। কোড স্ক্যানার ডাউনলোড করে আমার তৈরি নিচের কোডটিকে স্ক্যান করে দেখুন তো!
বিস্তারিত জানতে –

আপনারা কিউআর কোড এবং বারকোড অনেক স্থানে ব্যবহার হতে দেখেছেন নিশ্চয়। এগুলো আপনার যেকোনো পার্সেলের উপরে, কোন বইয়ের উপরে, কোন সফট ড্রিঙ্কের বোতলের উপরে কিংবা আপনার টি-শার্টের উপরে দেখতে পাওয়া যায়। বারকোড সাধারনত অনেক বেশি কমন হয়ে থাকে এবং এতে অনেক গুলো লম্বা লাইন দেখতে পাওয়া যায়। তাছাড়া আজকের দিনে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তো কিউআর কোড সম্পর্কে জানেনই। বিভিন্ন অ্যাপস ডাউনলোড করতে, অনলাইনে কোন সাইট ভিজিট করতে এই কোড আপনারা অবশ্যই ব্যবহার করে থাকবেন। এই সাদাকালো লম্বা রেখা এবং চারকোনা কালো ঘরগুলোর মধ্যে কীভাবে কোন তথ্য লুকিয়ে থাকে এবং কীভাবে আপনার স্ক্যানার বা স্মার্টফোন সেগুলো পড়তে পারে, এনিয়েই আজকে বিস্তারিত আলোচনা করবো বন্ধুরা। তো কোন প্রকারের বকবক না করে, চলুন শুরু করি।

বারকোড

বারকোড

বন্ধুরা, বারকোডে লম্বা সাদাকালো রেখার ভেতরে কোন তথ্য সংরক্ষিত করা থাকে—এবং এখানে অনেক ছোট পরিমানের তথ্য সংরক্ষিত রাখা সম্ভব। কিন্তু কোন তথ্য সংরক্ষন করার পরে এথেকে অনেক সহজে সেই তথ্য রীড করাও সম্ভব, আপনাকে ম্যানুয়ালি কোন নাম্বার বা কোড প্রবেশ করানোর প্রয়োজন পরেনা, শুধু কোডটি স্ক্যান করলেই আপনি সকল তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারেন।

আপনি যদি কোন দোকানের মালিক হয়ে থাকেন, তবে বারকোড আপনার প্রোডাক্ট ম্যানেজ করতে আপনাকে অনেক সাহায্য করে থাকবে। মনে করুন আপনার দোকানে ১৫ ধরনের আইটেম রয়েছে, এবং প্রত্যেকের গায়ে আলাদা প্রকারের বারকোড রয়েছে। এখন যখন কোন প্রোডাক্ট বিক্রি হবে, তখন আপনার দোকানের কর্মচারী সেই কোড স্ক্যান করে সহজেই সেই প্রোডাক্টের দাম, সেই প্রোডাক্টটি আর কতটা স্টকে রয়েছে, কতটা বিক্রি হয়েছে ইত্যাদি তথ্য জানতে পারা সম্ভব হবে। আপনি একজন গ্রাহক হিসেবে আপনিও সেই প্রোডাক্টটির গায়ের কোড স্ক্যান করে অনেক তথ্য যেমন, প্রোডাক্টটির প্রস্তুতকারী কোম্পানির নাম, প্রোডাক্টটির তৈরি হওয়ার তারিখ ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারেন।

এখন কথা বলি বারকোড রিডার নিয়ে, এটি কীভাবে কাজ করে তার সম্পর্কে। দেখুন বারকোডের ভেতরে সাধারনত কোন নাম্বার স্টোর করা থাকে—অর্থাৎ ০ থেকে শুরু করে ৯ পর্যন্ত যেকোনো নাম্বার এতে সংরক্ষিত থাকতে পারে, এবং সেই নাম্বার গুলো বিভিন্ন সন্নিবেশে থাকতে পারে। প্রত্যেকটি লম্বা লম্বা লাইনের মধ্যে আলাদা আলাদা নাম্বার সংরক্ষিত করা থাকে। এখন যে স্ক্যানার থাকে সেখান থেকে একটি লেজার লাইট ঐ কোডটির দিকে ছুড়ে মারা হয়। কোডটির যেখানে কালো রেখা থাকে সেখান থেকে কোন প্রতিফলন স্ক্যানারে ফিরে আসেনা এবং সাদা অংশ থেকে আলো প্রতিফলন ফিরে আসে। এখন যেখানে থেকে আলো আসছে না সেটাকে ০ এবং যেখান থেকে আলো ফিরে আসে সেটাকে ১ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এখন এই নাম্বার গুলোকে বিভিন্ন সেগমেন্টে বিভক্ত করার মাধ্যমে সহজেই স্ক্যানারে থাকা রিসিভারটি কোডটি পড়তে পারে।

বন্ধুরা এই বারকোডে লুকিয়ে থাকা তথ্য পড়ার জন্য আগে অনেক বড় আকারের বাল্ব ব্যবহার করা হতো—কিন্তু বর্তমানে একটি হাতের সাহায্যে পরিচালিত স্ক্যানার থাকে এবং সেখান থেকে একটি লেজার রশ্মি ছুড়ে মারা হয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমেই অনেক সহজেই বারকোড রীড করা সম্ভব হয়ে থাকে। কিন্তু বন্ধুরা, বারকোডে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন ধরুন, বারকোডে যদি কোন দাগ পড়ে বা কেটে যায় তাহলে সঠিক তথ্য বেড় করতে মুশকিল হতে পারে, এবং দ্বিতীয়ত এই কোডে অনেক কম পরিমানে তথ্য সংরক্ষন করা যায়। আর এই সমস্যা গুলো অবসান করানোর জন্য আমরা ব্যবহার করে থাকি কিউআর কোড (QR Code)। চলুন এবার এর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

কিউআর কোড

কিউআর কোড

যেকোনো প্রোডাক্টের গায়ে, টিকিটের গায়ে, কোন পত্রিকার বিজ্ঞাপনের উপর বা অনলাইনে কোন ওয়েবসাইটে অবশ্যই কিউআর কোড ব্যবহার হতে দেখেছেন। এই কোডে অনেকগুলো ডট ডট থাকে এবং সম্পূর্ণ কোডটি একটি চারকোনা ঘরের মধ্যে অবস্থিত থাকে। সাধারন বারকোডের মতো এটিও কোন স্ক্যানার দিয়ে পড়া সম্ভব, তাই অতি সহজেই এ থেকে সংরক্ষিত তথ্য গুলো বেড় করে আনা সম্ভব হয়ে থাকে।

কিউআর কোডকে টু ডাইমেন্সনাল বারকোড বা ২ডি বারকোডও বলা হয়ে থাকে। সাধারন বারকোডে এদের রেখাংশের মধ্যে তথ্য লুকিয়ে রাখা হয়, কিন্তু কিউআর কোডে এর সাদাকালো এবং একসাথে অনেক ডট ডটের মধ্যে অনেক বেশি তথ্য রাখা সম্ভব হয়ে থাকে। এই কোড কীভাবে কাজ করে তা জানার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক, এর ব্যাবহারের বিশেষ সুবিধা গুলো সম্পর্কে।

আরো পড়ুন:  ইন্টারনেট স্পিড : ইন্টারনেট সর্বোচ্চ কতটা ফাস্ট হতে পারে?

২ডি বারকোড ব্যাবহারে সুবিধা সমূহ

২ডি বারকোড ব্যাবহারে সুবিধা সমূহ

  • আরো তথ্য সংরক্ষনঃ হ্যাঁ বন্ধুরা, কিউআর কোডে একসাথে অনেক তথ্য সংরক্ষন করে রাখা সম্ভব হয়ে থাকে। সাধারন বারকোডে লম্বালম্বি ভাবে কালো রেখা দেওয়া থাকে ফলে এতে বেশি তথ্য সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়ে থাকে না—সাধারনত ডজন খানেক ডিজিট সংরক্ষন করা সম্ভব হয়ে থাকে (যদি এই ডজন খানেক ডিজিট কোন প্রোডাক্ট চিনতে যথেষ্ট, কিন্তু তারপরেও অনেক কাজ করা সম্ভব নয়)। সাধারন বারকোডকে লম্বা না করলে এতে আরো বেশি তথ্য আঁটানো সম্ভব হয়না। কিন্তু ২ডি বারকোড বা কিউআর কোড চারকোনা হওয়ার ফলে এবং দুইদিক থেকে এর তথ্য অ্যাক্সেস হওয়ার ফলে একে আকারে না বাড়িয়েই অনেক বেশি তথ্য সংরক্ষন করা সম্ভব। সাধারনত এটি ২ডি বারকোড ২০০০ অক্ষরে কোন তথ্যকে চিত্রিত করতে পারে।
  • কম ভুল হয়ঃ সাধারন বারকোডের কোন অংশ নষ্ট হয়ে গেলে বা এতে দাগ পড়ে গেলে এথেকে কোন তথ্য বেড় করে আনা অনেক সমস্যার হয়ে পড়ে। কেনোনা এতে তথ্য সংরক্ষিত রাখার জন্য শুধু কয়েকটি লম্বা রেখা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে কোন তথ্য ব্যাকআপ রাখার কোন সিস্টেম থাকেনা। কিন্তু ২ডি বারকোডে একই তথ্য আলাদা ফর্মে একাধিকবার সেভ করা থাকে। ফলে একটি তথ্য অ্যাক্সেস না হলেও আরেকটি থেকে এর তথ্য পাওয়া যায়। তাই কোড ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কিউআর কোডে কোন সমস্যা হয়ে থাকেনা।
  • তথ্য পড়া অনেক সহজঃ ২ডি বারকোড গুলো স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটারের ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করে অতিসহজেই পড়া সম্ভব। তাই কিউআর কোড পড়তে কোন স্পেশাল স্ক্যানারের প্রয়োজন পড়েনা। এই কোডে অনেক বেশি তথ্য থাকার পরেও একে অনেক দ্রুত পড়া সম্ভব হয়ে থাকে।
  • প্রেরন করা অনেক সহজঃ কিউআর কোডকে সাধারন ম্যাসেজের মাধ্যমে এক সেলফোন থেকে আরেক সেলফোনে পাঠানো সম্ভব।
  • আরো নিরাপদঃ বন্ধুরা এর ভেতরে সংরক্ষিত থাকা ডাটা গুলো ইনক্রিপটেড করে রাখা সম্ভব তাই এটি সাধারন কিউআর কোড থেকে আরো বেশি নিরাপদ।

কীভাবে কিউআর কোড কোন তথ্য সংরক্ষিত রাখে?

সাধারন কিউআর কোড এবং এই প্রকারের সকল কোড মেশিনের দ্বারা রীড করার জন্য প্রস্তুত করা হয়ে থাকে, মানুষের দ্বারা রীড করার জন্য নয়। তাই এই কোড গুলোর একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকে, যার মাধ্যমে এরা তথ্য সংরক্ষিত করে থাকে। নিচে http://techubs.net এর একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে এর বৈশিষ্ট্য গুলো আলোচনা করা হলো।

কিউআর কোড

  1. নীরব এলাকাঃ কোন কিউআর কোডের এই অংশটি মূলত প্রিন্ট কপি থেকে কোডটিকে আলাদা করতে সাহায্য করে। সাধারনত সম্পূর্ণ চারকোনা ঘরের এবং ডট ডটের ভেতর দিয়ে এই সাদা অংশটি থাকে।
  2. নির্দেশকঃ এই সম্পূর্ণ কোডটির তিনকোণায় অবস্থিত তিনটি চারকোনা ঘর, এই কোডটি যে কিউআর কোড তা চিনিয়ে দিতে সাহায্য করে। তাছাড়া এই তিনটি ঘর স্ক্যানারকে নির্দেশ করে যে, ঠিক কোনদিকে কোডটিকে ধরে রাখা হয়েছে—এবং সে অনুসারে স্ক্যান করে এর ভেতরের তথ্য গুলো পড়ার চেষ্টা করে।
  3. শ্রেণীবিন্যাস করার প্যাটার্নঃ এই অংশটি নির্দেশ করে থাকে যে, কোডটি থেকে এর তথ্য রহস্য বেড় করা যাবে কিনা। এমনকি কোডটি ক্ষতিগ্রস্থ হবার পরেও এথেকে জানা সম্ভব।
  4. টাইমিং প্যাটার্নঃ এই প্যাটার্নটি লম্বালম্বি ভাবে এবং সমতল ভাবে উভয় ভাবেই থাকে—এবং এই প্যাটার্নটি তিন কোনায় অবস্থিত তিনটি প্রধান নির্দেশক প্যাটার্নের গা ঘেঁসে থাকে। এই টাইমিং প্যাটার্ন, কিউআর কোডের ভেতর অবস্থিত পৃথক তথ্য কোষ গুলোকে সনাক্ত করতে সাহায্য করে থাকে—বিশেষ করে তখন, যখন কোডটি ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় থাকে।
  5. সংস্করণ সংক্রান্ত তথ্যঃ কিউআর কোড স্ট্যান্ডার্ডের অনেক গুলো ভার্সন রয়েছে; এই ভার্সন সংক্রান্ত তথ্যটি প্রধান নির্দেশক দুটি চারকোনা ঘরের সাথে লাগানো থাকে—এবং এটি নির্দেশ করে যে, কোডটিতে কোন ভার্সন ব্যবহার করা হয়েছে।
  6. তথ্য কোষঃ কিউআর কোডের প্রত্যেকটি ডট ডট আর চারকোনা ঘর শুধু কোন কিছু নির্দেশ করার কাজেই ব্যবহার হয়, তা নয়। এদের মধ্যে অনেকে আসল ডাটা সংরক্ষণ করে রাখে, আর একে তথ্য কোষ বলে।



বিশ্বের যেসব দেশ ভ্রমণে ভিসা লাগে না…

দেশের বাইরে দর্শনীয়স্থানে ঘুরতে যেতে কার না মন চায়। কিন্তু আর্থিক সংগতি থাকলেও অনেকেই বর্হিবিশ্ব ভ্রমণে অনীহা পোষণ করেন। কেন?-এর মূল কারণ ভিসা পেতে নানা বিড়ম্বনাসহ জটিল প্রক্রিয়া। তাই, অনেকের স্বপ্ন আজন্ম অধরাই থেকে যায়। কিন্তু আপনি জানেন কি?-আপনার বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্ন আপনার হাতের মুঠোয়। কারণ, বিশ্বের এমন ৩৭টি দেশ আছে যেখানে আপনি ঘুরতে যেতে চাইলে ভিসার দরকার পড়বে না। ওই দেশগুলোর এয়ারপোর্টে নেমে আপনি সঙ্গে সঙ্গেই হাতে পেয়ে যাবেন আপনার কাংঙ্খিত ভিসাটি। আর এই ভিসার জন্য আগে থেকে আবেদন করতে হবে না।

যেসব দেশে যেতে ভিসা লাগবে না : 

বাহামা, বারবাদোস, ভুটান, ডোমিনিকা, ফিজি, জাম্বিয়া, গ্রেনাডা, হাইতি, ইন্দোনেশিয়া, জেমাইকা, লেসোথো, মাইক্রোনেশিয়া, সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট এন্ড দ্য গ্রেনাদিনেস, ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো, ভানুয়াতু।

ই-ভিসা লাগে : 

শ্রীলংকা

যেসব দেশে এয়ারপোর্ট থেকে ভিসা : 

বলিভিয়া, কম্বোডিয়া, ক্যাপে ভারদে, কমোরস, আইভোরি কোষ্ট, জিবুটি, গিনি-বিসাউ, কেনিয়া, মাদাগাসকার, মালদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, নেপাল, নিকারাগুয়া, সামোয়া, সিসিলি, তিমুর-লেসতে, টোগো, তুভালু, উগান্ডা।




পরির্বতন আসছে পাঁচ জেলার ইংরেজি বানানে

ইংরেজি বানান বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যাগ নিয়েছে সরকার। দেশের পাঁচ জেলার ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা হচ্ছে।বাংলা নামের সঙ্গে মিল করতে এ পরিবর্তন আনছে সরকার।

চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, যশোর ও বগুড়ার ইংরেজি নাম সংশোধনের প্রস্তাব প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগামী ২ এপ্রিল সোমবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্রস্তাবনায় চট্টগ্রামের ইংরেজি বানান Chittagong সংশোধন করে Chattagram, কুমিল্লা জেলার বানান Comilla পরিবর্তে Kumilla, বরিশালের বানান Barisal থেকে Barishal, যশোরের বানান Jessore এর স্থলে Jashore এবং বগুড়া জেলার ইংরেজি বানান Bogra পরিবর্তে Bagura করার বিষয়ে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, পাঁচটি জেলার নামের ইংরেজি বানানে কিছুটা অসঙ্গতি আছে। এটা দূর করতে নিকার সভায় একটি প্রস্তাব উঠছে।

তিনি আরো বলেন, জেলার নামের বানান বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি বা নীতিমালা নেই। তবে নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা ইত্যাদি সৃজন, নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের বিষয়গুলো প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকা)সভায় অনুমোদন করা হয়ে থাকে।




জেনে নিন ৯৯টি সাংসারিক টিপস কাজে লাগবে !

১। অনেকদিন বন্ধ থাকা বা অব্যবহৃত ঘর খুললে একটা ভ্যাপসা গন্ধ বের হয়। দু-তিনটে দেশলাই কাঠি জ্বালালে দু-তিন মিনিটের মধ্যে ঘর থেকে গন্ধ চলে যাবে।

২। চিনির পাত্রের মধ্যে দু-চারটি লবঙ্গ দিয়ে রাখলে পিঁপড়ে ঢুকবে না।

৩। চশমা ঝকঝকে পরিষ্কার রাখতে হলে এক ফোঁটা ভিনিগার দিয়ে কাঁচ পালিশ করুন।

৪। কাঠের আসবাবপত্র ঠাণ্ডা চা-পাতা ফোটানো জল দিয়ে পালিশ করুন। ঝকঝকে হয়ে উঠবে।

৫। ফ্রিজের গায়ে দাগ ধরে গেলে স্পঞ্জে টুথপেস্ট লাগিয়ে ঘষুন। দাগ উঠে যাবে।

৬। ফ্লানেলের টুকরো গ্লিসারিনে ভিজিয়ে দাগধরা জানালার কাঁচে ঘষুন। কাঁচ ঝকঝক করবে। কাঠ বা স্টিলের টেবিলে ঘষুন। সেখানকার দাগ উঠবে।

৭। জানালা, দরজার কাঁচ ঝকঝকে করে তুলতে মিহি চক গুঁড়োর সঙ্গে জল আর স্পিরিট অথবা কেরোসিন মিশিয়ে কিছুক্ষণ কাঁচের ওপর মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে খবরের কাগজ দিয়ে মুছে নিন।

৮। ডিটারজেন্টের সঙ্গে একটা লেবুর রস ও এক চামচ ফিনাইল মিশিয়ে বাথরুমের টাইলস ঘষে দেখুন, কেমন ঝকঝক করে।

৯। হাতব্যাগের ধাতব অংশগুলিতে ন্যাচারাল কালারের নেলপালিশের এক প্রস্থ প্রলেপ দিয়ে রাখুন। সহজে বিবর্ণ হবে না।

১০। ছোট্ট একটুকরো ফ্লানেল বা কম্বলের কাপড়ে পাতিলেবুর রস মাখিয়ে চামড়ার ব্যাগ বা স্যুটকেশে ঘষলে। চামড়ার ঔজ্বল্ল্য বাড়বে।

১১। ঘরে চড়ুই পাখি বাসা বাঁধতে চায়। যদি চড়ুই পাখি তাড়াতে চান তাহলে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দু-চার টুকরো কর্পূর জ্বালিয়ে দিন। আর ঘরমুখো হবে না।

১২। গ্যাসস্টোভের বার্নারে ময়লা ঢুকে গেলে বাড়িতে পরিষ্কার করার সহজ উপায় হল অ্যালুমিনিয়াম স্টিল বা লোহার বালতিতে ফুটন্ত জল ঢেলে তাতে দু টেবিল চামচ ড্রেনেক্স (Drainex) পাউডার গুলে বার্নার দুটি তার মধ্যে দু ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন। জলে ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে ধুয়ে নিন।

১৩। গরম পোশাক বা সিল্কের পোশাক ধোওয়ার পর যদি ইউক্যালিপটাস তেল মেশানো জলে ডুবিয়ে নেন তাহলে পোকায় কাটার ভয় থাকবে না। পোশাকের ঔজ্বল্ল্য বাড়বে। এক বালতি জলে তেলের পরিমাণ হবে দু-টেবিল চামচ।

১৪। উলের পোশাক ধোওয়ার পর এক বালতি জলে আধ চামচ গ্লিসারিন দিয়ে তাতে ডুবিয়ে নিন। পোশাকের নরম ভাব বজায় থাকবে।

১৫। বাচ্চাদের জামাকাপড় বা কাঁথায় যদি তার বমির দুর্গন্ধ থেকে যায়, তবে কাচার পর জলে আধ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে তাতে জামাকাপড় ডুবিয়ে নেবেন। দুর্গন্ধ দূর হবে।

১৬। ইস্ত্রি করার সময় কাপড়ে যে জল ছেটান তাতে কয়েক ফোঁটা পারফিউম ফেলে দিন। ইস্ত্রি হওয়া গোটা কাপড়টি সুগন্ধ ধরে রাখবে।

১৭। সুগন্ধির শিশি সবসময় তুলো বা কাপড়ে জড়িয়ে রাখবেন। তাতে সুগন্ধি ঢের বেশি দিন টিকবে।

১৮। ফ্লাক্সের ভেতরে অংশ ভালভাবে ধুতে হলে ফ্লাক্সে গরম জল ভর্তি করুন। তাতে কয়েক টুকরো কাগজ ফেলে দিন। ঘণ্টাখানেক পর ভাল করে ঝাঁকিয়ে নিয়ে জল ফেলে দিন। ভেতরের যাবতীয় নোংরা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

১৯। অনেক সময় ভ্যাকুয়াম ফ্লাক্স দীর্ঘ ব্যবহারের জন্য দুর্গন্ধ হয়। একটি ডিমের খোলা ভেঙে ফ্লাক্সের মধ্যে ফেলুন।

২০। কিছু কিছু অলংকারের তীক্ষ্ণ বা ধারালো প্রান্তের খোঁচায় পোশাক ছিঁড়ে যায় বা সুতো উঠে যায়। সেইসব ধারালো অংশে ন্যাচারাল নেলপালিশ লাগিয়ে দিন। খোঁচা লাগবে না।

২১। কাঠের ওপর বাচ্চারা আঁকিবুঁকি কাটলে তা তুলতে সিগারেটের ছাই খুব ভাল। সিগারেটের ছাই পাতলা কাপড়ে নিয়ে ঘষে ঘষে তোলা যাবে। একই কাজ হবে কেরোসিন দিয়ে।

২২। সিল্কের শাড়ি বা পোশাকে মাড় দিতে হলে, মাড়ের সঙ্গে একটু পাতলা আঠা গুলে নেবেন। পোশাক শুকিয়ে খটখটে করে ইস্ত্রি করবেন। সিল্ক ঝকঝক করবে।

২৩। পঞ্চাশ গ্রাম সাবুদানা জলে ফুটিয়ে স্বচ্ছ করে ছেঁকে নিন। ঠাণ্ডা করে তাতে দু-টেবিল চামচ সাদা ভিনিগার মেশান। এবার এই মিশ্রণটি একটি খালি স্প্রে বটলে ভরে রাখুন। এই তরল ছিটিয়ে ছিটিয়ে ইস্ত্রি করলে তা মাড়ের কাজ করবে। পোশাক নিভাঁজ হবে।

২৪। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে বর্ষার জুতো, ছোটখাটো জামাকাপড় শুকিয়ে নেওয়া যায়।

২৫। বাচ্চাকে স্নান করানোর আগে নীচে তোয়ালে পেতে নেবেন। বাচ্চা হড়কে যাবে না। বসেও আরাম পাবে।

২৬। স্টিলের বাসন থেকে কোম্পানির নাম লেখা স্টিকারটি তোলা এক ঝামেলা। পাত্রের স্টিকার লাগানো অংশের উল্টোপিঠটা তাতিয়ে নিন। স্টিকার এবার সহজে উঠে আসবে।

২৭। নতুন কেনা জিনিসপত্রের ওপর থেকে দামের লেবেল তুলতে খোঁচাখুঁচি করবেন না। লেবেলের ওপর একটু সেলোটেপ চেপে দিন। তারপর সেলোটেপের এক প্রান্ত ধরে টানলে লেবেলটি উঠে যাবে।

২৮। দেওয়ালে পেরেক গাঁথার আগে পেরেকগুলো যদি ফুটন্ত গরম জলে ডুবিয়ে নেন তাহলে হাতুড়ি মারার সময় দেওয়ালের প্লাস্টার খসবে না।

২৯। শক্ত করে মুখ বন্ধ একটি ছোট্ট শিশিতে কর্পূর পুরে যন্ত্রপাতির বাক্সে রেখে দিন। যন্ত্রপাতিতে মরচে পড়বে না।

৩০। বেশ কিছুদিনের জন্য কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন ফ্রিজ খালি করে? ডিফ্রস্ট করে তা রেখে গেলেন। কিন্তু এসে দেখলেন দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গন্ধ দূর করবার জন্য যাওয়ার আগে ফ্রিজে পাতি লেবু রেখে দিন। দুর্গন্ধ হবে না।

৩১। ফ্রিজের বদগন্ধ দূর করতে সর্ষেগুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন। একটা প্লেটে কিছুটা সর্ষেগুঁড়ো ঢেলে তাতে একটু জল দিয়ে রাতভর ফ্রিজে রাখুন এবং ফ্রিজ খোলাই রাখুন। পরের দিন সকালে দেখবেন সব গন্ধ উধাও।

৩২। ব্যবহারের পর তেল বা পানীয়র টেট্রাপ্যাক ফেলে দেবেন না। কেটে ডিপ ফ্রিজে আইস ট্রেতে পেতে দিন। মাছ মাংসের প্যাকেট আটকে যাবে না।

৩৩। প্রেসার কুকারের গ্যাসকেট মাঝে মাঝে ফ্রিজে পুরে রাখবেন। দীর্ঘদিন টিকবে।

৩৪। টর্চের ফেলে দেওয়া ব্যাটারি কিন্তু কোয়ার্টিজ ঘড়িতে এবং রেডিওতে আরও মাস খানেক চলবে।

৩৫। বাড়িতে আঠা ফুরিয়ে গেছে। খামে স্ট্যাম্প লাগাবেন। ন্যাচারাল কালার নেলপালিশ ব্যবহার করুন।

৩৬। সেলোটেপের মুখ খুঁজে পাচ্ছেন না? মিনিট দশেক ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখে দিন। সেলোটেপের রিলটা খুলে আসবে।

৩৭। খামের ওপর ঠিকানা লিখে একটু মোমবাতি ঘষে দেবেন। জল পড়ে কালি থেবড়ে ঠিকানা অস্পষ্ট হয়ে যাবে না।

৩৮। টেবিল বা ক্যাবিনেটের ড্রয়ার অনেক সময় আটকে যায়। স্বচ্ছন্দে খোলা বা বন্ধ করা যায় না। ড্রয়ারের ধারে মোম ঘষে রাখুন। সহজে আটকাবে না।

৩৯। ব্যবহারের পর বাইসাইকেলের টায়ার ভিজে কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। সহজে কাটবে না।

৪০। নখের কোন ভেঙে গেছে। কিন্তু এমারি বোর্ড নেই। একটা দেশলাই কাঠি নিয়ে বারুদের দিকটা ভাঙা জায়গায় ঘষুন। নিমেষে নখ সমান হয়ে যাবে।

৪১। নেলপালিশ শুকিয়ে জমে গেলে ইউক্যালিপটাস তেল দিন। গলে নরম হবে। তবে নেলপালিশ ফ্রিজে রাখলে সহজে শুকোবে না।

৪২। এক লিটার জলে দু’চার চামচ ডিটারজেণ্ট গুলে ঝাঁকিয়ে দিন। এবার স্প্রেগান বা পিচকিরিতে ভরে ঘরের আনাচে কানাচে যেখান আরশোলার উপদ্রব বেশি সেসব জায়গায় স্প্রে করে দিন। আরশোলা মরবে।

৪৩। মোমবাতি জ্বালানোর আগে যদি বার্নিশ লিগিয়ে নিতে পারেন তো সাশ্রয় হবে। সহজে মোম গলবে না।

৪৪। ক্যাণ্ডেল হোল্ডারে মোমবাতি বসানোর আগে একটু তেল মাখিয়ে নেবেন। ফুরিয়ে গেলে জমা মোম তুলতে অসুবিধে হবে না।

৪৫। বোতলের ছিপি খুব শক্ত হয়ে আটকে গেলে, একটা রুমাল গরম জলে ভিজিয়ে নিংড়ে বোতলের ছিপির নীচে জড়িয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পরে ছিপিটি আলগা হয়ে আসবে।

৪৬। যাদের সিলিণ্ডার ক্যারিয়ার নেই তারা থার্মোকলের টুকরোর ওপর গ্যাস সিলিণ্ডার রাখুন। গ্যাস সিলিণ্ডারেও যেমন মরচে পড়বে না, মেঝেও মরচের দাগ থেকে রেহাই পাবে।

৪৭। গ্যাস ওভেন-এ রান্নার সময় কিছু উপচে পড়ে গেলে নুন ছিটিয়ে দিন। ওভেন ঠাণ্ডা হয়ে গেলে পোড়া জিনিসগুলো ভিজে স্পঞ্জ দিয়ে ভালভাবে মুছে দিন।

৪৮। রাতের দিকে বেসিনের পাইপের মুখে মাঝে মাঝে আধ কাপ মত ভিনিগার ঢেলে দেবেন। সকালে দু’মগ জল ঢেলে দিলেই বেসিনের পাইপ পরিষ্কার থাকবে।

৪৯। সিঙ্কের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে নুন ফুটিয়ে সিঙ্কের মুখে ঢেলে দিন। পরিষ্কার হয়ে যাবে।

৫০। বালতি বা ড্রাম ফুটো হয়ে গেলে ঐ জায়গা পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিয়ে ধুনো গুঁড়ো করে নারকোল তেল এবং সিঁদুর মিশিয়ে মিশ্রণটি লাগান, ফুটো বন্ধ হয়ে যাবে।

৫১। আস্ত ধনেতে পোকা ধরেছে বলে ফেলে দেবেন না। ঘণ্টা খানেক ভিজিয়ে রেখে মাটিতে ছড়িয়ে দিন। ধনে পাতার চাষ হবে আপনার বাগানে।

৫২। দই যদি নষ্ট হয়ে যায় তো ফেলে দেবেন না। বাড়িতে কারি পাতার গাছ থাকলে তার গোড়ায় মাটিতে দিন। এতে পাতার তেজ ও সুগন্ধ দুই-ই বাড়বে।

৫৩। অ্যাকোরিয়ামের জল ফেলে দেবেন না। গাছের গোড়ায় দিন। সার হিসেবে চমৎকার।

৫৪। কাজুবাদাম ব্যবহারের সময় খোসাটা ফেলে দেওয়া হয়। ঐ ফেলে দেওয়া খোসাই গোলাপ গাছের সেরা সার।

৫৫। ব্যবহৃত চা-পাতা ফেলে না দিয়ে ভাল করে রোদে শুকিয়ে নিন। এইভাবে ঐ চা’পাতা ধুনোর বদলে ব্যবহার করুন। শুকনো চা’পাতা পোড়ানো ধোঁয়ায় ঘরের সমস্ত মশা, মাছি পালিয়ে যাবে।

৫৬। মশা তাড়াবার একটা সহজ উপায় হল, কয়েক টুকরো কর্পূর আধকাপ জলে ভিজিয়ে খাটের নীচে রেখে দিন। তারপর নিশ্চিন্তে ঘুমান।

৫৭। কয়লা বা কাঠ-কয়লার আগুনে নিমপাতা পড়লে যে ধোঁয়া হবে তাতে সবংশে মশা পালাবে।

৫৮। লোডশেডিঙের সময় যদি হ্যারিকেন বা কাঁচ ঢাকা বাতিদান জ্বালান তবে তার ওপর দু-একটা ব্যবহৃত মশা মারার রিপেলেন্ট রেখে দেবেন। আলোর সঙ্গে সঙ্গে মশা তাড়ানোর কাজও হবে।

৫৯। প্রতিদিন নিশিন্দা ও নিমপাতার গুঁড়ো ধুনোর সঙ্গে ব্যবহার করলে মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৬০। ঘরের মধ্যে মশার উৎপাত কমাতে চাইলে, ঘরের বৈদ্যুতিক আলোটি হলুদ সেলোফেনে জড়িয়ে দিন। ফলে হলুদ আলো হবে। দেখবেন মশা কমে গেছে, কারণ মশা হলুদ আলো থেকে দূরে থাকতে চায়।

৬১। মাছি তাড়াতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করুন। ছোট গ্লাসে একটু জল নিয়ে তাতে ৫/৬ গাছি পুদিনা রেখে দিন খাবার টেবিলে। ৩ দিন অন্তর জল বদলে দেবেন। জল অনুকূল হলে কিছুদিনের মধ্যে পুদিনা চারাও গজিয়ে যাবে গ্লাসে।

৬২। নিমপাতা ভেজানো বা সেদ্ধ জলে ঘর মুছুন। পোকা-মাকড়ের উপদ্রব কমবে। নিমপাতা তোশক বা গদির তলায় রাখুন পোকামাকড় হবে না।

৬৩। অনেক সময় ঘরে বা রান্নাঘরে সাপ ঢুকে যায়। কিছুটা রসুন বেটে কাপড়ে বেঁধে ঘরের কোণে রেখে দিলে ঘরের ভিতর সাপ ঢুকবে না।

৬৪। নিমপাতা পচা সার গাছে পোকা লাগতে দেয় না।

৬৫। বাচ্চাদের ঘরে মাছি, পিঁপড়ে হয়। যদি নুন ছিটিয়ে ঘর মোছা যায়, পিঁপড়ে মাছি কম হবে।

৬৬। আটা, ময়দা, ডাল পোকার হাত থেকে বাঁচতে হলে একমুঠো নিমপাতা শুকিয়ে উপরে ছড়িয়ে দিন, পোকা হবে না।

৬৭। সোনার গয়না দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে যায়। ব্যবহার করার পর সিঁদুর মাখিয়ে রাখবেন। চকচক করবে। কুমড়োর রস দিয়েও গয়না পরিষ্কার করা যায়।

৬৮। বিয়ে বাড়িতে বা পার্টিতে যেদিন যাবেন, সোনার গয়নাগুলো কাঁচা হলুদ থেঁতো করে বা হলুদ গুঁড়ো জলে গুলে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে ভাল করে মুছে নেবেন। উজ্জ্বলতা বাড়বে।

৬৯। আপনার সোনা-রূপোর গয়না টুথপেস্ট দিয়ে ঘষে নিন। জল দেওয়ার দরকার নেই। শুকনো কাপড়ে পেস্ট মুছে ফেলুন। দেখুন ঝকমকিয়ে উঠবে আপনার গয়না।

৭০। রূপোর জিনিস জলের সঙ্গে নুন আর রিঠা দিয়ে মিনিট পনেরো ফোটালে রূপোর স্বাভাবিক রং ফিরে আসে।

৭১। পাথরের গয়না টুথপেস্ট ঘষে পরিষ্কার করুন। নতুনের মত ঝলমল করবে।

৭২। পেতলের বাসন ঝকঝক করে তুলতে ক’ফোঁটা সেলাই মেশিনের তেলে হলুদ গুঁড়ো মেশান। ঐ তেলে ঘষে তুলুন বাসন। দেখবেন নতুনের মত দেখাচ্ছে।

৭৩। ব্রাসোর সঙ্গে সামান্য পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ঘসুণ, কাঁসার জিনিস সোনার মতো ঝকঝক করবে।

৭৪। হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা সরষের তেল দিয়ে পেতলের বাসন ঘষলে চকচক করবে।

৭৫। রূপোর বাসন, কাঁটা-চামচ বা গয়নাটি তেঁতুল গোলা জলে ফুটিয়ে নিন। ঘষা-মাজা করতে হবে না। ফোটালেই ঝকঝক করবে।

৭৬। এনামেলের বাসন থেকে দাগ তুলতে নুন আর ভিনিগারের মিশ্রণ ব্যবহার করুন।

৭৭। বোন চায়নার বাসনে দাগ ধরে গেলে নেলপালিশ রিমুভার ব্যবহার করতে পারেন। দাগ উঠে যাবে।

৭৮। চাল ধোয়া জলে স্টীল ও কাঁচের বাসন কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে নিলে বাসনগুলো ঝকঝক করবে।

৭৯। পিতলের বা কাঁসার বাসন দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে দাগ ধরে যায়। মাথার চুল ও সরষের তেল সহযোগে মাজুন, দেখবেন ঝকঝক হয়ে উঠবে।

৮০। রান্না পুড়ে পাত্রের তলায় এঁটে গেছে। পাত্রটিকে নুনজলে ভর্তি করুন। তারপর আঁচে বসান। জল ফুটতে শুরু করলেই পোড়া অংশ আলগা হয়ে উঠে যাবে।

৮১। রান্নার সময় হাতে হলুদেড় দাগ হলে, আলুর খোসা ছাড়িয়ে হাতে ঘষে, হাত ধুয়ে নিলে আর হলুদের দাগ থাকবে না।

৮২। টিন থেকে মরচে তুলতে হলে আলু কেটে বাসন ধোয়ার গুঁড়োয় ডুবিয়ে সেটা দিয়ে ঘষলেই মরচে উঠে যাবে।

৮৩। মরচের দাগ তুলতে হলে ১ কাপ চাল ২ লিটার জলে ফুটিয়ে সারারাত রাখতে হবে। পরের দিন সকালে জলটা ছেঁকে নিয়ে সেই জলে মরচে ধরা জায়গাটা ধুলে ফেলতে হবে। যদি এক দফায় না হয়, আবার একই নিয়মে ধুতে হবে।

৮৪। কফির যদি স্বাদ আরো বাড়াতে চান তাহলে সামান্য টেবিল-সল্ট মিশিয়ে নিন।

৮৫। তুলসীপাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখুন। চা তৈরীর সময় দু-চিমটি লিকারে দিয়ে দেবেন। আরো ভাল স্বাদ আসবে। নানা রোগও আটকাবে।

৮৬। বাড়িতে ঘি তৈরি করার জন্য দুধের সরটা বাটিতে ১/২ চামচ টক দই দিয়ে তার উপর রাখতে হবে। সরটা এমনভাবে রাখতে হবে যাতে পুরো দইটা ঢেকে যায়। এই ভাবে দই এর সাথে সর জমলে সর জমা যে গন্ধ হয় সেটা হবে না।

৮৭। এক টুকরো সন্ধক লবণ ঘি এর শিশির মধ্যে রেখে দিন। এতে ঘি বেশি দিন টাটকা থাকবে, স্বাদেরও পরিবর্তন হবে না।

৮৮। ঘিয়ের গন্ধ বজায় রাখতে হলে ঘি রাখার শিশিতে এক টুকরো আখের গুড় রেখে দিন।

৮৯। ভোজ্য তেলে ৮/১০ টা আস্ত গোলমরিচ ফেলে দিন। তেল দীর্ঘদিন অব্যবহৃত হলেও ভাল থাকবে।

৯০। দই পাতবার সময় দুধের সঙ্গে ১ চামচ কর্ণফ্লাওয়ার গুলে দেবেন। দই অনেক বেশি ঘন হবে।

৯১। গরু বা মোষের দুধ ঠিক সময় মতো গরম না করলে দুধ কেটে যাবার ভয় থাকে। দুধের মধ্যে দু-ফোঁটা সরষের তেল দিয়ে রাখলে দুধ যখনই ফোটান হোক না কেন দুধ কাটবে না।

৯২। দীর্ঘদিন বাইরে পড়ে আছে দুধ। ভয় হচ্ছে আঁচে বসালেই কেটে যাবে। আঁচে বসানোর আগে দুধে ১ চিমটি সোভা-বাই-কার্ব মিশিয়ে নিন। দুধ কাটবে না।

৯৩। দুধ পড়ে গেলে বা দুধ থেকে পোড়া গন্ধ দূর করতে হলে তাতে পান পাতা ফেলে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। পোড়া গন্ধ কেটে যাবে।

৯৪। পিঠে, পাটিসাপ্টা, মালপো প্রভৃতি তৈরি করার সময় গোলায় একটু আটা মিশিয়ে দিলে পিঠে ঠিকভাবে তৈরি হয়।

৯৫। চালের গুঁড়োর পিঠে করলে সাধারণত শক্ত হয়। পিঠে করার আগে যদি চালের গুঁড়োতে কিছুটা খই মাখিয়ে নেওয়া হয় তবে পিঠে নরম হয় এবং খেতেও ভাল লাগে।

৯৬। কেক, পুডিঙের ওপর বাদাম, কাজু বা কিশমিশ সাজিয়ে দেবার আগে, ধুয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে পড়ে খসে যাবার ভয় থাকে না।

৯৭। কাস্টার্ড তৈরীর সময় কাপ প্রতি দুধে দু-তিন চামচ মিল্ক পাউডার গুলে নেন তবে চমৎকার আস্বাদ আসবে। তৈরীর পর মোটা চিনির দানা যদি ছড়িয়ে দেন, কাস্টার্ডে সর পড়বে না।

৯৮। ছানা কাটানোর জন্য লেবুর রসের বদলে ফুটন্ত দুধে ১ চামচ দই ফেলে দিন। ছানা নরম হবে।

৯৯। বিস্কুটের টিনে এক টুকরো ব্লটিং পেপার রেখে দিন। বিস্কুট মিইয়ে যাবে না।

১০০। পোড়ামাটির জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখতে হলে ওগুলোর ওপর ন্যাচারাল রঙের নেলপালিশ লাগিয়ে দিন। রং অক্ষত থাকবে আর নোংরা হবে না।




বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নামকরণের ইতিহাস

বাংলাদেশে মোট বিভাগ  ৭ টি। নিম্নে বিভাগ অনুযায়ী প্রত্যেক জেলার নামকরণের ইতিহাস তুলে ধরা হল।

(ক) ঢাকা বিভাগ
(খ) চট্টগ্রাম বিভাগ
(গ) খুলনা বিভাগ
(গ) রাজশাহী বিভাগ
(ঘ) বরিশাল বিভাগ
(ঙ) রংপুর বিভাগ ও
(চ) সিলেট বিভাগ।

(ক) ঢাকা বিভাগ:

১. ঢাকা জেলা:
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভকরে মোঘল যুগে। ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানা যায় না। এ সম্পর্কে প্রচলিতমতগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:

ক) একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ঢাক গাছ (বুটি ফুডোসা) ছিল; খ) রাজধানী উদ্বোধনের দিনে ইসলাম খানেরনির্দেশে এখানে ঢাক অর্থাৎ ড্রাম বাজানো হয়েছিল; গ) ‘ঢাকাভাষা’ নামে একটি প্রাকৃত ভাষা এখানেপ্রচলিত ছিল; ঘ) রাজতরঙ্গিণী-তে ঢাক্কা শব্দটি ‘পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে অথবাএলাহাবাদ শিলালিপিতে উল্লেখিত সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ডবাকই হলো ঢাকা।

কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিতজঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটিমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাই রাজা মন্দিরেরনাম ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে।আবারঅনেক ঐতিহাসিকদের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণাকরেন, তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ শহরে ‘ঢাক’ বাজানোর নির্দেশ দেন। এইঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্দির রূপ ধারণ করে এবং তা থেকেই এই শহরের নাম ঢাকা হয়েযায়। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকেঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর।

২. ফরিদপুর জেলা:
ফরিদপুরের নামকরণ করা হয়েছে এখানকার প্রখ্যাত সুফী সাধক শাহ শেখ ফরিদুদ্দিনের নামানুসারে।

৩. মাদারীপুর জেলা:
মাদারীপুর জেলা একটি ঐতিহাসিক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সাধক হযরত বদরুদ্দিন শাহমাদার (র) এর নামানুসারে এই জেলার নামকরণ করা হয়। প্রাচীনকালে মাদারীপুরের নাম ছিল ইদিলপুর।১৯৮৪ সালে মাদারীপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

৪. গোপালগঞ্জ জেলা:
গোপালগঞ্জ জেলা শহরের রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস। অতীতের রাজগঞ্জ বাজার আজকের জেলা শহরগোপালগঞ্জ। আজ থেকে প্রায় শতাব্দীকাল পূর্বে শহর বলতে যা বুঝায় তার কিছুই এখানে ছিলোনা। এরপরিচিতি ছিলো শুধু একটি ছোট্ট বাজার হিসেবে। এঅঞ্চলটি মাকিমপুর ষ্টেটের জমিদার রানী রাসমণিরএলাকাধীন ছিলো। উল্লেখ্য রানী রাসমণি একজন জেলের মেয়ে ছিলেন। সিপাই মিউটিনির সময় তিনিএকজন উচ্চ পদস্থ ইংরেজ সাহেবের প্রাণ রক্ষা করেন। পরবর্তীতে তারই পুরস্কার হিসাবে বৃটিশ সরকাররাসমণিরকে মাকিমপুর ষ্টেটের জমিদারী প্রদার করেন এবং তাঁকে রানী উপাধিতে ভূষিত করেন। রানীরাসমণির এক নাতির নাম ছিলো নব-গোপাল তিনি তাঁর স্নেহাস্পদ নাতির নাম এবং পুরানো ইতিহাসকেস্মরণীয় করে রাখার জন্য নাতিন নামের ‘গোপাল’ অংশটি প্রথমে রেখে তার সাথে রাজগঞ্জের ‘গঞ্জ’ যোগকরে এ জাযগাটির নতুর নামকরণ করেন গোপালগঞ্জ। ১৯৮৪ সালে ফরিদপুর জেলার মহকুমা থেকেগোপালগঞ্জ জেলা সৃষ্টি হয়।

৫. জামালপুর জেলা:

সাধক দরবেশ হযরত শাহ জামাল (র) এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত গরো পাহাড়েরপাদদেশে যমুনা-ব্রক্ষ্মপুত্র বিধৌত বাংলাদেশের ২০-তম জেলা জামালপুর। হযরত শাহ জামাল (র) এরনামানুসারে জামালপুরের নামকরণ হয়।

৬. কিশোরগঞ্জ জেলা:
১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে কিশোরগঞ্জ মহকুমার জন্ম হয়। মহকুমার প্রথম প্রশাসক ছিলেন মিঃ বকসেল। বর্তমানকিশোরগঞ্জ তৎকালীন জোয়ার হোসেনপুর পরগনার অন্তর্ভক্ত ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকেওকিশোরগঞ্জ এলাকা ‘কাটখালী’ নামে পরিচিত ছিল। ইতিহাসবিদদের ধারণা ও জনশ্রুতি মতে এ জেলারজমিদার ব্রজকিশোর মতান্তরে নন্দকিশোর প্রামানিকের ‘কিশোর’ এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাট বা গঞ্জের ‘গঞ্জ’যোগ করে কিশোরগঞ্জ নামকরণ করা হয়।

৭. গাজীপুর জেলা:
বিলু কবীরের লেখা ‘বাংলাদেশের জেলা : নামকরণের ইতিহাস’ বই থেকে জানা যায়, মহম্মদ বিনতুঘলকের শাসনকালে জনৈক মুসলিম কুস্তিগির গাজী এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং তিনিবহুদিন সাফল্যের সঙ্গে এ অঞ্চল শাসন করেছিলেন। এ কুস্তিগির/পাহলোয়ান গাজীর নামানুসারেই এঅঞ্চলের নাম রাখা হয় গাজীপুর বলে লোকশ্রুতি রয়েছে। আরেকটি জনশ্রুতি এ রকম সম্রাট আকবরেরসময় চব্বিশ পরগনার জায়গিরদার ছিলেন ঈশা খাঁ। এই ঈশা খাঁরই একজন অনুসারীর ছেলের নাম ছিলফজল গাজী। যিনি ছিলেন ভাওয়াল রাজ্যের প্রথম ‘প্রধান’। তারই নাম বা নামের সঙ্গে যুক্ত ‘গাজী’ পদবিথেকে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয় গাজীপুর। গাজীপুর নামের আগে এ অঞ্চলের নাম ছিল জয়দেবপুর। এজয়দেবপুর নামটি কেন হলো, কতদিন থাকল, কখন, কেন সেটা আর থাকল না সেটিও প্রাসঙ্গিক ওজ্ঞাতব্য। ভাওয়ালের জমিদার ছিলেন জয়দেব নারায়ণ রায় চৌধুরী। বসবাস করার জন্য এ জয়দেবনারায়ণ রায় চৌধুরী পীরাবাড়ি গ্রামে একটি গৃহ নির্মাণ করেছিলেন। গ্রামটি ছিল চিলাই নদীর দক্ষিণপাড়ে। এ সময় ওই জমিদার নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে এ অঞ্চলটির নাম রাখেন ‘জয়দেবপুর’ এবং এনামই বহাল ছিল মহকুমা হওয়ার আগ পর্যন্ত। যখন জয়দেবপুরকে মহকুমায় উন্নত করা হয়, তখনই এরনাম পাল্টে জয়দেবপুর রাখা হয়। উল্লেখ্য, এখনো অতীতকাতর-ঐতিহ্যমুখী স্থানীয়দের অনেকেই জেলাকে‘জয়দেবপুর’ বলেই উল্লেখ করে থাকেন। গাজীপুর সদরের রেলওয়ে স্টেশনের নাম এখনো ‘জয়দেবপুররেলওয়ে স্টেশন’। তবে বিস্তারিত আলোচনায় গেলে বলতেই হয়, গাজীপুরের আগের নাম জয়দেবপুর এবংতারও আগের নাম ভাওয়াল। গাজীপুরকে ১৯৮৪খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ জেলা এবং ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৭জানুয়ারী রোজ: সোমবার সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করা হয়।

৮. মানিকগঞ্জ জেলা:
মূরত সংস্কৃত ‘মানিক্য’ শব্দ থেকে মানিক শব্দটি এসেছে। মানিক হচ্ছে চুনি পদ্মরাগ। গঞ্জ শব্দটি ফরাসী।মানিকগঞ্জের নামের ঋৎপত্তি ইতিহাস আজও রহস্যবৃত। অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে সুফি দরবেশ মানিকশাহ সিংগাইর উপজেলার মানিকনগরে আসেন এবং খানকা প্রতিষ্ঠা করে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন।কারও মতে র্দূর্ধষ পাঠান সর্দার মানিক ঢালীর নামানুসারে মানিকগঞ্জ নামের উৎপত্তি। আবার কারোমতে, নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বিশাবাস ঘাতক মানিক চাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তার নমানুসারে১৮৪৫ সালের মে মাসে মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ হয়। মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ সম্পর্কীতউল্লেখ্য তিনটি পৃথক স্থানীয় জনশ্রুতি এবং অনুমান নির্ভর। এর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি,তবে মানিক শাহের নামানুসারে মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ সম্পর্কীত জনশ্রুতি এবং ঘটনা প্রবাহথেকে যে চিত্র পাওয়া যায় তাই সঠিক বলে ধরা হয়।

৯. মুন্সীগঞ্জ জেলা:
মুন্সিগঞ্জে প্রাচীন নাম ছিল ইদ্রাকপুর। মোঘল শাসনামলে এই ইদ্রাকপুর গ্রামে মুন্সী হায়দার হোসেন নামেএকজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মোঘল শাসক দ্বারা ফৌজদার নিযুক্ত ছিলেন। অত্যন্ত সজ্জন ও জনহিতৈষীমুন্সী হায়দার হোসেনের নামে ইদ্রাকপুরের নাম হয় মুন্সীগঞ্জ। কারো কারো মতে জমিদার এনায়েত আলীমুন্সীর নামানুসারে মুন্সীগঞ্জে নামকরণ করা হয়।

১০. ময়মনসিংহ জেলা:
ময়মনসিংহ জেলার নাম নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। ষোড়শ শতাব্দীতেবাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ’র জন্যএ অঞ্চলে একটি নুতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই থেকে নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি।সলিম যুগের উৎস হিসেবে নাসিরাবাদ, নাম আজও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথাও নাসিরাবাদ কথাটিউল্লেখ্য করা হচ্ছে না। ১৭৭৯ সালে প্রকাশিত রেনেল এর ম্যাপে মোমেসিং নামটি ‘ময়মনসিংহ’ অঞ্চলকেইনির্দেশ করে। তার আগে আইন-ই-আকবরীতে ‘মিহমানশাহী’ এবং ‘মনমনিসিংহ’ সকার বাজুহার পরগনাহিসেবে লিখিত আছে। যা বর্তমান ময়মনসিংহকেই ধরা হয়।

১১. নারায়ণগঞ্জ জেলা:
১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বিকন লাল পান্ডে( বেণু ঠাকুর বা লক্ষীনায়ায়ণ ঠাকুর) ইস্ট ইন্ডিয়াকোম্পানির নিকট থেকে এ অঞ্চলের মালিকানা গ্রহণ করে। তিনি প্রভু নারায়ণের সেবার ব্যয়ভার বহনেরজন্য একটি উইলের মাধ্যমে শীতলক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণাকরেন। তাই পরবর্তীকালে এ স্থানের নাম হয় নারায়ণগঞ্জ।

১২. নেত্রকোণা জেলা:

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮০ খিস্টাব্দে হওয়া নেত্রকোণা মহকুমাকে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জানুয়ারিনেত্রকোণা জেলা করা হয়। নেত্রকোণার নামকরণ হয়েছে নাটেরকোণা নামক গ্রামের নাম থেকে।

১৩. নরসিংদী জেলা:
কথিত আছে, প্রাচীনকালে এ অঞ্চলটি নরসিংহ নামক একজন রাজার শাসনাধীন ছিল। আনুমানিক পঞ্চদশশতাব্দীর প্রথম দিকে রাজা নরসিংহ প্রাচীন ব্যক্ষ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে নরসিংহপুর নামে একটি ছোটনগর স্থাপন করেছিলেনঅ তাঁরই নামানুসারে নরসিংদী নামটি আবির্ভূত হয়। নরসিংহ নামের সাথে ‘দী’যুক্ত হয়ে নরসিংদী হয়েছে। নরসিংহদী শব্দের পরিবর্তিত রূপই “নরসিংদী”।

১৪. রাজবাড়ী জেলা:
রাজা সূর্য্য কুমারের নামানুসারে রাজবাড়ীর নামকরণ করা হয়। রাজা সূর্য্য কুমারের পিতামহ প্রভুরামনবাব সিরাজ-উদ-দৌলার রাজকর্মী থাকাকালীন কোন কারণে ইংরেজদের বিরাগভাজন হলে পলাশীরযুদ্ধের পর লক্ষীকোলে এস আত্মগোপন করেন। পরে তাঁর পুত্র দ্বিগেন্দ্র প্রসাদ এ অঞ্চলে জমিদারী গড়েতোলেন। তাঁরই পুত্র রাজা সূর্য্য কুমার ১৮৮৫ সালে জনহিতকর কাজের জন্য রাজা উপাধি প্রাপ্ত হন।১৯৮৪ সালে ১মার্চ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৫. শরীয়তপুর জেলা:
বৃটিশ বিরোধী তথা ফরায়েজী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারেশরীয়তপুরের নামকরণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে ১লা মার্চ শরীয়তপুর জেলা শুভ উদ্বোধন করেনতৎকালীন তথ্য মন্ত্রী জনাব নাজিম উদ্দিন হাসিম।

১৬. শেরপুর জেলা:
বাংলার নবাবী আমলে গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজী দশ কাহনিয়া অঞ্চল দখল করেস্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। এই শের আলী গাজীর নামে দশ কাহনিয়ার নাম হয় শেরপুর।

১৭. টাঙ্গাইল জেলা:
টাঙ্গাইলের নামকরণ বিষয়ে রয়েছে বহুজনশ্রুতি ও নানা মতামত। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত রেনেল তাঁরমানচিত্রে এ সম্পূর্ণ অঞ্চলকেই আটিয়া বলে দেখিয়েছেন। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের আগে টাঙ্গাইল নামে কোনোস্বতন্ত্র স্থানের পরিচয় পাওয়া যায় না। টাঙ্গাইল নামটি পরিচিতি লাভ করে ১৫ নভেম্বর ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দেমহকুমা সদর দপ্তর আটিয়া থেকে টাঙ্গাইলে স্থানান্তরের সময় থেকে।
টাঙ্গাইলের ইতিহাস প্রণেতা খন্দকার আব্দুর রহিম সাহেবের মতে, ইংরেজ আমলে এদেশের লোকেরা উচুশব্দের পরিবর্তে ‘টান’ শব্দই ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিল বেশি। এখনো টাঙ্গাইল অঞ্চলে ‘টান’ শব্দের প্রচলনআছে। এই টানের সাথে আইল শব্দটি যুক্ত হয়ে হয়েছিল টান আইল। আর সেই টান আইলটি রূপান্তরিতহয়েছে টাঙ্গাইলে। টাঙ্গাইলের নামকরণ নিয়ে আরো বিভিন্নজনে বিভিন্ন সময়ে নানা মত প্রকাশ করেছেন।কারো কারো মতে, বৃটিশ শাসনামলে মোগল প্রশাসন কেন্দ্র আটিয়াকে আশ্রয় করে যখন এই অঞ্চল জম-জমাট হয়ে উঠে। সে সময়ে ঘোড়ার গাড়িছিল যাতায়াতের একমাত্র বাহন, যাকে বর্তমান টাঙ্গাইলেরস্থানীয় লোকেরা বলত ‘টাঙ্গা’। বর্তমান শতকের মাঝামাঝি পর্যন্তও এ অঞ্চলের টাঙ্গা গাড়ির চলাচল স্থলপথে সর্বত্র। আল শব্দটির কথা এ প্রসঙ্গে চলে আসে। বর্তমান টাঙ্গাইল অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের নামের সাথেএই আল শব্দটির যোগ লক্ষ্য করা যায়। আল শব্দটির অর্থ সম্ভবত সীমা নির্দেশক যার স্থানীয় উচ্চারণআইল। একটি স্থানকে যে সীমানা দিয়ে বাঁধা হয় তাকেই আইল বলা হয়। টাঙ্গাওয়ালাদের বাসস্থানেরসীমানাকে ‘টাঙ্গা+আইল’ এভাবে যোগ করে হয়েছে ‘টাঙ্গাইল’ এমতটি অনেকে পোষণ করেন। আইল শব্দটিকৃষিজমির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই শব্দটি আঞ্চলিক ভাবে বহুল ব্যবহৃত শব্দ। টাঙ্গাইলের ভূ-প্রকৃতি অনুসারেস্বাভাবিক ভাবে এর ভূমি উঁচু এবং ঢালু। স্থানীয়ভাবে যার সমার্থক শব্দ হলো টান। তাই এই ভূমিরূপেরকারণেই এ অঞ্চলকে হয়তো পূর্বে ‘টান আইল’ বলা হতো। যা পরিবর্তীত হয়ে টাঙ্গাইল হয়েছে।

(খ) চট্টগ্রাম বিভাগ:

১. বান্দরবন জেলা:
বান্দরবন জেলার নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি আছে, এলাকার বাসিন্দাদের মুখে প্রচলিত রূপকথায়অত্র এলাকায় এ সময় অসংখ্য বানর বাস করত। আর এ ই বানরগুলো শহরের প্রবেশ মুখে ছড়ার পাড়েপ্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসত। এক সময় অতি বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেলে বানরের দল ছড়াপাড় থেকে পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পার হয়। বানরের ছড়াপারাপারের এই র্দশ্য ধেকতে পায় এই জনপদের মানুষ। এই সময় থেকে জায়গাটি “ম্যাঅকছি ছড়া” হিসেবেপরিচিতি লাভ করে। মার্মা ভাষায় ম্যাঅক শব্দটির অর্থ হল বানর আর ছিঃ শব্দটির অর্থ হল বাধঁ। কালেরপ্রবাহে বাংল ভাষাভাষির সাধারণ উচ্চারণে এই এলাকার নাম বান্দরবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।তবে মার্মা ভাষায় বান্দরবনের প্রকৃত নাম “রদ ক্যওচি চিম্রো’।

২. ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলা:

১৯৮৪ সালে ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার আগে এটি কুমিল্লা জেলার একটি মহকুমাছিল। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাইনি, আপনাদের জানা থাকলে দয়া করেজানাবেন।

৩. চাঁদপুর জেলা:
১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ জরিপকারী মেজর জেমস রেনেল তৎকালনি বাংলার যেমানচিত্র অংকন করেছিলেন তাতে চাঁদপুর নামে এক অখ্যাত জনপদ ছিল। তখন চাঁদপুরের দক্ষিণেনরসিংহপুর নামক ( বর্তমানে যা নদীগর্ভে বিলীন) স্থানে চাঁদপুরের অফিস-আদালত ছিল। পদ্মা ও মেঘনারসঙ্গমস্থল ছিল বতৃমান স্থান থেকে পাওয়া প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে। মেঘনা নদীর ভাঙ্গাগড়ার খেলায়এ এলাকা বর্তমানে বিলীন। বার ভূঁইয়াদের আমলে চাঁদপুর অঞ্চল বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের দখলেছিল। ঐতিহাসিক জে.এম সেনগুপ্তের মতে চাঁদরায়ের নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর। কথিত আছেচাঁপুরের (কোড়ালিয়া) পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ ফকিরের নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর। কারো কারোমতে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাষক দিল্লী থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে একটি নদী বন্দরস্থাপন করেছিলেন। তাঁর নামানুসারে চাঁদপুর। ১৮৭৮ সালে প্রথম চাঁদপুর মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৮৯৬সালের ১ অক্টোবর চাঁদপুর শহরকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৪ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারীচাঁদপুর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

৪. চট্টগ্রাম জেলা:
চট্টগ্রামের প্রায় ৪৮ টি নামের খোঁজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রম্যভূমি, চাটিগাঁ, চাতগাও, রোসাং, চিতাগঞ্জ,জাটিগ্রাম ইত্যাদি। চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে, পন্ডিত বার্নোলিরমতে, আরবি ‘শ্যাত (খন্ড) অর্থ বদ্বীপ, গাঙ্গ অর্থ গঙ্গা নদী থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। অপর এক মতেত্রয়োদশ শতকে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন বার জন আউলিয়া। তাঁরা একটি বড় বাতি বাচেরাগ জ্বালিয়ে উঁচু জায়গায় স্থাপন করেছিলেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘চাটি’ অর্থ বাতি বা চেরাগএবং গাঁও অর্থ গ্রাম। এ থেকে নাম হয় ”চাটিগাঁও”। এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার উইলিয়ামজোন্সের মতে, এ এলাকার একটি ক্ষুদ্র পাখির নাম থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামমোঘল সম্রাজের অংশ হয়। আরাকানদের পরাজিত করে মোঘল এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। ১৭৬০খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম আলী খান ইসলামাবাদকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করেন। পরেকোম্পানি এর নাম রাখেন চিটাগাং।

৫. কুমিল্লা জেলা:
প্রাচীনকালে এটি সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল এবং পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয়। কুমিল্লানামকরণের অনেকগুলো প্রচলিত লোককথা আছে, যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য চৈনিক পরিব্রাজক ওয়াংচোয়াং কর্তৃক সমতট রাজ্য পরিভ্রমণের বৃত্তান্ত। তাঁর বর্ণনায় কিয়া-মল-ঙ্কিয়া (করধসড়ষড়হশরধ) নামকস্থানের বর্ণনা রয়েছে তা থেকে কমলাঙ্ক বা কুমিল্লার নামকরণ হয়েছে। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলা হিসেবেআত্মপ্রকাশ করে।

৬. কক্সবাজার জেলা:
আরব ব্যবসয়ী ও ধর্ম প্রচারকগণ ৮ম শতকে চট্টগ্রাম ও আকিব বন্দরে আগমন করেন। এই দুই বন্দরেরমধ্যবর্তী হওয়ায় কক্সবাজার এলাকা আরবদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে। নবম শতাব্দীতে কক্সবাজার সহবৃহত্তর চট্টগ্রাম হরিকেলার রাজা কান্তিদেব দ্বারা শাসিত হয়। ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আরাকান রাজা সুলাত ইঙ্গচট্টগ্রাম দখল করে নেবার পর থেকে কক্সবাজার আরাকান রাজ্যের অংশ হয়। ১৭৮৪ সালে রার্মারাজবোধাপায়া আরাকান দখল করে নেয়। ১৭৯৯ সালে বার্মারাজের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রায় ১৩ হাজারআরাকনি কক্সবাজার থেকে পালিয়ে যায়। এদর পূনর্বাসন করার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একজনহিরাম কক্সকে নিয়োগ করে। পূনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই হিরাম কক্স মৃত্যু বরণ করেন। পূনর্বাসনপ্রক্রিয়ায় তাঁর অবদানের জন্য কক্স-বাজার নামক একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কক্স-বাজারথেকে কক্সবাজার নামের উৎপত্তি।

৭. ফেনী জেলা:
ফেনী নদীর নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয় ফেনী। মধ্যযুগে কবি ও সাহিত্যিকদের কবিতা ওসাহিত্যে একটি বিশেষ নদীর স্রোদধা ও ফেনী পরাপারের ঘাট হিসেবে আমরা ফনী শব্দটি পাই। ষোড়শশতাব্দীতে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর পরাগলপুরের বর্ণনায় লিখেছেন, ‘ফনী নদীতে বেষ্টিত চারিধার, পূর্বেমহাগিরি পার পাই তার’। সতের শতকে মির্জা নাথানের ফার্সী ভাষায় রচিত ‘বাহরিস্থান-ই-গায়েরীতে’ফনী শব্দ ফেনীতে পরিণত হয়। আটারো শতকের ষেষ ভাগে কবি আলী রেজা প্রকাশ কানু ফকির তাঁরপীরের বসতি হাজীগাঁওয়ের অবস্থান সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, ‘ফেনীর দক্ষিণে এক বর উপাম,হাজীগাঁও করিছিল সেই দেশের নাম’। মোহাম্মদ মুকিম তাঁর পৈতৃক বসতির বর্ণনাকালে বলেছেন,”ফেনীরপশ্চিমভঅগে জুগিদিয়া দেশৃৃৃৃৃ.। বলাবাহুল্য তাঁরাও নদী অর্থে ফেনী শব্দ ব্যবহার করেছেন। মুসলমানকবি-সাহিত্যিকদের ভাষায় আদি শব্দ ‘ফনী’ ফেনীতে পরিণত হয়েছে।

৮. খাগড়াছড়ি জেলা:
খাগড়াছড়ি একটি নদীর নাম। নদীর পাড়ে খাগড়া বন থাকায় খাগড়াছড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে।

৯. লক্ষীপুর জেলা:

১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুর একটি পূর্নাঙ্গ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ জেলার অধীনে ৫ টি উপজেলা, ৩ টিপৌরসভা, ৫৫টি মহল্লা, ৪৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৪৫টি মৌযা এবং ৫৩৬ টি গ্রাম আছে। তবে লক্ষীপুরজেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

১০. নোয়াখালী জেলা:
নোয়াখালী জেলা প্রচীন নাম ছিল ভুলুয়া। নোয়াখালী সদর থানার আদি নাম ছিল সুধারাম।ইতিহাসবিদদের মতে, একবার ত্রিপুরার পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহভঅবে প্লাবিত হয়ে ফসলি জমির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করে।এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায়হিসেবে ১৬৬০ সালে একটি বিশাল খাল খনন করা হয়, যা পানি প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্ঝ,সোইমুড়ী ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে। এই বিশাল খালকে নোয়াখালীরভাষায় ‘নোয়া (নুতুন) খাল’ বলা হত এর ফলে ‘ভুলুয়া’ নামটি পরিবর্তিত হয়ে ১৬৬৮ সালে নোয়াখালীনামে পরিচিতি লাভ করে।

১১. রাঙ্গামাটি জেলা:
রাঙামাটি জেলা নামকরণ সম্পর্কে বিলু কবীরের লেখা ‘বাংলাদেশ জেলা : নামকরণের ইতিহাস’ বই থেকেজানা যায় তা হলো- এই এলাকায় পর্বতরাজি গঠিত হয়েছিল টারশিয়রি যুগে। এই যুগের মাটির প্রধানব্যতিক্রম এবং বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর রঙ লালচে বা রাঙা। এই এলাকার গিরিমৃত্তিকা লাল এবং মাটিও রাঙাবলেই এই জনপদের নাম হয়েছে রাঙামাটি। প্রকৃতি সূচক এই নামকরণটির বিষয়ে অন্য প্রচলিতকথাপরম্পরা হলো- বর্তমান রাঙামাটি জেলা সদরের পূর্বদিকে একটি ছড়া ছিল, যা এখন হ্রদের মধ্যেনিমজ্জিত। এই হ্রদের স্বচ্ছ পানি যখন লাল বা রাঙামাটির উপর দিয়ে ঢাল বেয়ে প্রপাত ঘটাতো, তখনতাকে লাল দেখাতো। তাই এই ছড়ার নাম হয়েছিল ‘রাঙামাটি’। এই জেলা সদরের পশ্চিমে আরও একটিছাড়া ছিল। অনুরূপ কারণে তার নাম দেয়া হয়েছিল ‘রাঙাপানি’। এই দুই রাঙা ছড়ার মোহনার বাঁকেইগড়ে উঠেছে বর্তমান জেলা শহর। যা মূলত ছিল অনাবাদী টিলার সমষ্টি এবং বহু উপত্যকার একনয়নাভিরাম বিস্ময়ভূমি। এই দুটি ছড়া রাঙামাটি ও রাঙাপানি হতে ‘রাঙামাটি’ জেলার নামকরণ হয়েছেবলে ধারণা করা হয়। ১৯৮৩ সালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা গঠন করা হয়।

(গ) খুলনা বিভাগ:

১. বাগেরহাট জেলা:
সুন্দরবনে বাঘের বাস
দাড়টানা ভৈরব পাশ
সবুজ শ্যামলে ভরা
নদী বাঁকে বসতো যে হাট
তার নাম বাগের হাট।

এক সময় বাগেরহাটের নাম ছিল খলিফাতাবাদ বা প্রতিনিধির শহর। খানজাহান আলী (রঃ) গৌড়েরসুলতানদের প্রতিনিধি হিসেবে এ অঞ্চল শাসন করতেন। কেউ কেউ মনে করেন, বরিশালের শাসক আঘাবাকের এর নামানুসারে বাগেরহাট হয়েছে। কেউবা বলেন, পাঠান জায়গীদার বাকির খাঁ এর নামানুসারেবাগেরহাট হয়েছে। আবার কারো মতে, বাঘ শব্দ হতে বাগেরহাট নাম হয়েছে। জনশ্রুতি আছে খানজাহানআলী (রঃ) এর একটি বাগ(বাগান, ফার্সী শব্দ) বা বাগিচা ছিল। এ বাগ শব্দ হতে বাগেরহাট। কাো মতে,নদীর বাঁকে হাট বসতো বিধায় বাঁকেরহাট। বাঁকেরহাট হহতে বাগেরহাট।

২. চুয়াডাঙ্গা জেলা:
চুয়াডাঙ্গার নামকরণ সম্পর্কে কথিত আছে যে, এখানকার মল্লিক বংশের আদিপুরুষ চুঙ্গো মল্লিকের নামেএ জায়গার নাম চুয়াডাঙ্গা হয়েছে। ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে চুঙ্গো মল্লিক তাঁর স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকেনিয়ে ভারতের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার সীমানার ইটেবাড়ি- মহারাজপুর গ্রাম থেকে মাথাভাঙ্গানদীপথে এখানে এস প্রথম বসতি গড়েন। ১৭৯৭ সালের এক রেকর্ডে এ জায়গার নাম চুঙ্গোডাঙ্গা উল্লেখরয়েছে। ফারসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার সময় উচ্চারণের বিকৃতির কারণে বর্তমান চুয়াডাঙ্গানামটা এসেছে। চুয়াডাঙ্গা নামকরণের আরো দুটি সম্ভাব্য কারণ প্রচলিত আছে। চুয়া < চয়া চুয়াডাঙ্গাহয়েছে।

৩. যশোর জেলা:
১৭৮১ সালে যশোর একটি পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জেলা।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বাধীন হওয়া জেলাটি যশোর। যশোর, সমতটের একটা প্রাচীন জনপদ।নামটি অতি পুরানো। যশোর নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। যশোর (জেসিনরে)আরবি শব্দ যার অর্থ সাকো। অনুমান করা হয় কসবা নামটি পীর খানজাহান আলীর দেওয়া (১৩৯৮খৃঃ)। এককালে যশোরের সর্বত্র নদী নালায় পরিপূর্ণ ছিল। পূর্বে নদী বা খালের উপর সাকো নির্মিত হতো।খানজাহান আলী বাঁশের সাকো নির্মাণ করে ভৈরব নদী পার হয়ে মুড়লীতে আগমন করেন বলে জানা যায়।এই বাঁশের সাকো থেকে যশোর নামের উৎপত্তি। তবে এই মতে সমর্থকদের সংখ্যা খুবই কম। ইরান ওআরব সীমান্তে একটি স্থানের নাম যশোর যার সাথে এই যশোরের কোন সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না।খানজাহান আলীর পূর্ব থেকেই এই যশোর নাম ছিল। অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, প্রতাপদিত্যেরপতনের পর চাঁচড়ার রাজাদের যশোরের রাজা বলা হত। কেননা তারা যশোর রাজ প্রতাপাদিত্যেরসম্পত্তির একাংশ পুরস্কার স্বরূপ অর্জন করেছিলেন। এই মতও সঠিক বলে মনে হয়। জে, ওয়েস্টল্যাণ্ড তাঁরযশোর প্রতিবেদনের ১৯৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, রাজা প্রতাপাদিত্য রায়ের আগে জেলা সদর কসবামৌজার অর্ন্তভুক্ত ছিল। বনগাঁ-যশোর পিচের রাস্তা ১৮৬৬-১৮৬৮ কালপর্বে তৈরী হয়। যশোর-খুলনাইতিহাসের ৭৬ পাতায় লেখা আছে “প্রতাপাদিত্যের আগে লিখিত কোন পুস্তকে যশোর লেখা নাই”। সময়েরবিবর্তনে নামের পরিবর্তন স্বাভাবিক।

৪. ঝিনাইদহ জেলা:
প্রাচীনকালে বর্তমান ঝিনাইদহের উত্তর-পশ্চিম দিকে নবগঙ্গা নদীর ধারে ঝিনুক কুড়ানো শ্রমিকের বসতিগড়ে ওঠে বলে জানা যায। কলকাতা থেকে ব্যবসায়ীরা ঝিনুকের মুক্তা সঙগ্রহরের জন্য এখানে ঝিনুককিনতে আসতো। সে সময় ঝিনুক প্রাপ্তির স্থানটিকে ঝিনুকদহ বলা হত। অনেকের মতে ঝিনুককে আঞ্চলিকভাষায় ঝিনেই বা ঝিনাই বলে। দহ অর্থ বড় জলাশয়, দহ ফার্সী শব্দ যার অর্ত গ্রাম। সেই অর্থে ঝিনুক দহবলতে ঝিনুকের জলাশয় অথবা ঝিনুকের গ্রাম। ঝিনুক এবং দহ থেকেই ঝিনুকদহ বা ঝিনেইদহ যারূপান্তরিত হয়ে আজকের এই ঝিনাইদহ।

৫. খুলনা জেলা:
হযরত পীর খানজাহান আলীর (র.) স্মৃতি বিজড়িত ও ভৈরব-রূপসা বিধৌত পৌর শহর খুলনার ইতিহাসনানাভাবে ঐতিহ্য মন্ডিত। খুলনা নামকরণের উৎপত্তি সম্বন্ধে নানান মত রয়েছে। সবচেয়ে বেশিআলোচিত মতগুলো হলো : মৌজা ‘কিসমত খুলনা’ খুলনা খুলনা; ধনপতি সাওদাগরের দ্বিতীয় স্ত্রী খুল্লনারনামে নির্মিত ‘খুল্লনেশ্বরী কালী মন্দির’ থেকে খুলনা; ১৭৬৬ সালে ‘ফলমাউথ’ জাহাজের নাবিকদেরউদ্ধারকৃত রেকর্ডে লিখিত ঈঁষহবধ শব্দ থেকে খুলনা। ইংরেজ আমলের মানচিত্রে লিখিত ঔবংংড়ৎব-ঈঁষহধ শব্দ থেকে খুলনা,- কোনটি সত্য তা গবেষকরা নির্ধারণ করবেন।

৬. কুষ্টিয়া জেলা:
কুষ্টিয়া জেলার নামকরণ নিয়ে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে, কুষ্টিয়ায় এক সময় কোস্টার (পাট) চাষ হতোবলে কোস্ট শব্দ থেকে কুষ্টিয়ার উৎপত্তি। হেমিলটনের গেজেটিয়ারে উল্লেখ্য করেন যে, স্থানীয় জনগণ একেকুষ্টি বলে ডাকত। কুষ্টি থেকে কুষ্টিয়া নামকরণ হয়েছে। ১৯৮৪ সালে ৬ টি থানা নিয়ে কুষ্টিয়া জেলাগঠিত হয়।

৭. মাগুরা জেলা:
আজকের যেখানে মাগুরা জেলা শহর গড়ে ওঠেছে প্রাচীনকাল থেকেই এর গুরুত্ব অত্যধিক ছিল। কখনথেকে মাগুরা নাম হয়েছে তার সঠিক হিসেব মিলানো কষ্টকর। মাগুরা প্রাচীন আমলের একটি গ্রাম। মাগুরাদু’টি অংশে বিভক্ত ছিল। মহকুমা সদরের পূর্বে মাগুরা ও পশ্চিমে ছিল দরি মাগুরা। দরি শব্দের অর্থ মাদুরবা সতরঞ্জি। দরি মাগুরায় মাদুর তৈরি সম্প্রদায়ের লোক বাস করতো বলে নাম হয়েছিল দরি মাগুরা।ধর্মদাস নামে জনৈক মগ আরাকান খেকে এসে আগুরা শহরের পূর্ভ কোণের সোজাসুজি গড়াই নদীর তীরেখুলুমবাড়ি মৌজা প্রভুতি দখল করে। লোকে তাকে মগ জায়গীর বলে আখ্যায়িত করেছিল। অনেকের মতেমগরা থেকে মাগুরা নামের উৎপত্তি। লোক মুখে শোনা যায় এককালে মাগুরা এলাকায় বড় বিল ছিল সেইবিলে পাওয়া যেতো প্রচুর মাগুর মাছ। এই মাগুর মাছের নাম থেকেও মাগুরা নামের উৎপত্তি হতে পারে।মাগুরা নামের উৎপত্তি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ মাগুরামহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়।

৮. মেহেরপুর জেলা:
মেহেরপুর নামকরণ সম্পর্কে এ পর্যন্ত দুটি অনুমান ভিত্তিক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমটি ইসলাম প্রচারকমরবেশ মেহের আলী নামীয় জনৈক ব্যক্তির নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেহেরপুর রাখা হয়। দ্বিতীয়টিবচনকার মিহির ও তাঁর পুত্রবধু খনা এই শহরে বাস করতেন বলে প্রচলিত আছে। মিহিরের নাম থেকেমিহিরপুর এবং পরবর্তীতে তা মেহেরপুর হয়। ১৯৮৪ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারী মেহেরপুর জেলার মর্যাদালাভ করে।

৯. নড়াইল জেলা:
নড়াইল নামকরণ নিয়ে ঐতিহাসিকবিদরা ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। কিংবদন্তী আছে, নড়িয়ালফকিরের আশীর্বাদপুষ্ট নড়ি থেকে নড়িয়াল নামের উৎপত্তি। নড়িয়াল ফকিরের আশীর্বাদপুষ্ট তাই নাম হয়নড়িয়াল। পরবর্তীতে লোকমুখে বিকৃত হয়ে নড়িয়াল থেকে নড়াইল।

১০. সাতক্ষীরা জেলা:
সাতক্ষীরা জেলার আদি নাম ছিল সাতঘরিয়া। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী নদীয়াররাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কর্মচারী হিসেবে ১৭৭২ সালে নিলামে এই পরগনা কিনে গ্রাম স্থাপন করেন। তাঁর পুত্রপ্রাণনাথ চক্রবর্তী সাতঘর কুলীন ব্রাক্ষ্মণ এনে এই পরগনায় প্রতিষ্ঠিত করেন তা থেকে সাতঘরিয়া নামহয়।

(ঘ) রাজশাহী বিভাগ:

১. বগুড়া জেলা:
১২৮১-১২৯০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লরি সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবনের ২য় পুত্র সুলতান নাসিরউদ্দীন বগরা খানবাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। তাঁর নামানুসারে বগুড়া জেলার নামকরণ করা হয়েছে।

২. জয়পুরহাট জেলা:
বৃটিশ শাসনামলে ১৮২১ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চারটি , রংপুর জেলার ২টি ও দিনাজপুর জেলার৩টি থানা নিয়ে যে বগুড়া জেলা গঠিত হয়েছিল তারই অংশ নিয়ে ১৯৭১ সালে প্রথমে জয়পুরহাট মহকুমাএবং পরবর্তীকালে ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাট জেলা গঠিত হয়।

ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত জয়পুরহাটের ইতিহাস বড়ই অস্পষ্ট। কারণ এই সময়ে ভারতবর্ষেরইতিহাসে জয়পুরহাটের কোন স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অবস্থান ছিল না। জয়পুরহাট দীর্ঘকাল গৌড়ের পাল এবংসেন রাজাদের রাজ্য ভূক্ত ছিল। সে সময় জয়পুরহাট নামে কোন স্থান পাওয়া যায় না । এমনকিজয়পুরহাটের পূর্ব অবস্থান বগুড়ারও কোন ভৌগলিক অস্তিত্ব ছিল না। পূর্বে চাকলা ঘোড়াঘাট এবংপরবর্তীতে দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল জয়পুরহাট।

১৮৫৭ সাল থেকে ১৮৭৭ সাল পর্যন্ত দেশে ভীষণ দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এসময় দেশে রেল লাইন বসানোরকাজ শুরু হয়। ১৮৮৪ সালে কলকাতা হতে জলপাইগুডী পর্যন্ত ২৯৬ মেইল রেলপথ বসানো কাজ শেষহলে লোকজনের উঠানামা ও মালামাল আমদানী রপ্তানির সুবিধার জন্য ৪-৭ মাইল পর পর রেলস্টেশনস্থাপন করা হয়। সান্তাহারের পরে তিলেকপুর, আক্কেলপুর, জামালগঞ্জ এবং বাঘবাড়ীতে স্টেশন স্থাপিত হয়।সেসময় বাঘবাড়ী রেলস্টেশন কে জয়পুর গভর্ণমেন্ট ক্রাউনের নাম অনুসারে রাখা হয় জয়পুরহাটরেলস্টেশন। পরবর্তীতে রেলস্টেশনের সাথে পোস্ট অফিসের নাম জয়পুরহাট রাখার ফলে নামটি প্রসিদ্ধিপেতে থাকে। কিন্তু সরকারী কাগজপত্রে এর আসল নাম গোপেন্দ্রগঞ্জ বহাল থাকে।

অন্যদিকে, প্রাকৃতিক দূর্যোগেরও বিপর্যয়ের ফলে যমুনার নব্যতা কমে যায় এবং ভাঙ্গনের ফলে লাল বাজারথানা হুমকির মুখে পরে। ফলে ভারত সরকারের নির্দেশে ১৮৬৮ সালে ১৬ মার্চ তারিখে লালবাজার পুলিশথানা যমুনার অন্য তীরে খাসবাগুড়ী নামক গ্রামে স্থানান্তরিত করা হয়। সেই সময় স্থানটির নাম ছিলপাঁচবিবি। পরবর্তী কালে দমদমায় রেলস্টেশন স্থাপিত হলে পুলিশ থানা দমদমায় স্থানান্তরিত হয়। তৎকালেপাঁচবিবি নাম প্রসিদ্ধী লাভ করেছিল। তাই দমদমা রেলস্টেশন ও থানার নাম পূর্বের নাম অনুসারেপাঁচবিবি রেলস্টেশন রাখা হয়। দেশে রেল লাইন বসানোর পূর্বে জলপথে নৌকা এবং স্থলপথে ঘোড়া বাঘোড়ার গাড়ী ছিল যাতায়াতে একমাত্র অবলম্বন । শ্বাপদ সংকুল জলপথে নৌকায় চরে যাতায়াত নিরাপদছিল না।আর এতে অধিক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। তাই রেল লাইন বসানোর পরে নদীপথে যাতায়াতবহুলাংশে কমে যায়। জয়পুরহাট রেলস্টেশন হওয়াতে ব্যবসার ও যাতায়াতের সুবিধার কথা চিন্তা করেবিত্তশালী ব্যাক্তিরা রেলস্টেশনের আশে বাসে বসতি গড়ে তোলেন। এতে খনজনপুর ও লাল বাজার হাটবিলুপ্ত হয়ে যায় । এবং বাঘাবাড়ী অর্থাৎ জয়পুরহাট প্রসিদ্ধ হতে থাকে। পরবর্তীতে বাঘাবাড়ী কে লিখিতহিসেবে গোপেন্দ্রগঞ্জ লিখা হতে থাকে। ১৯০৭ সালে বাঘাবাড়ী তে একটি পৃথক থানা ঘঠিত হয়, এবংজয়পুরহাট নামটি ব্যাপক ভাবে প্রচলিত হওয়ায় তা জয়পুরহাট থানা নামে পরিচিতি পায়। ১৯১৮ সালেজয়পুরহাট থানা ভবন নির্মিত হলে পাঁচবিবি থানাকে জয়পুরহাট থানার উত্তর সীমা রুপে নির্দিষ্ট করা হয়।১৯২০ সালে ভূমি জরিপে জয়পুরহাট থানার একটি পৃথক নকশা অংকিত হয়। জয়পুরের প্রাচীন রাজধানীঅমবর/জয়পুর হতে পাচ মাইল দূরে অমবরের অধিষ্ঠাদেবী শীতলাদেবী । এই দেবী যশোহরের বারোভুঁইয়ার অন্যতম। চাদারায় ও কেদারা রায়ের রাজধানী শ্রীপুর নগরীতে প্রতিষ্ঠিত হয়। মানসিংহ কর্তৃকচাদারায় পরাজিত হলে তিনি এই অষ্টভুজাদ দেবীমুর্তি আনয়ন করে স্থাপন করেন। এই সব কারনে জয়পুরবংগবাসীর নিকট প্রিয় হতে থাকে। বিশেষ করে জয়পুর ও মাড়োয়া রাজ্যের বহু লোক জয়পুরহাটএলাকাত স্থায়ী ভাবে বসবাস করায় জয়পুরের সাথে জয়পুরহাট এর গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবং তাদেরপূর্বের বাসস্থানের সংগে সংগতি রেখে খঞ্জনপুর নীল কুঠির এলাকা জয়পুর অভিহিত হতে থাকে।

পরবর্তীতে রাজস্থানের জয়পুরের সঙ্গে পার্থক্য বোঝাবার জন্য পোস্ট অফিস ও রেলস্টেশনের নাম রাখাহয়েছিল জয়পুরহাট রেলস্টেশন ও জয়পুরহাট পোস্ট অফিস। ১৯৭১ সালে ১লা জানুয়ারী তারিখেজয়পুরহাট মহকুমার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাট কে জেলা ঘোষনাকরা হয়।

৩. নওগাঁ জেলা:
নওগাঁ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে ‘নও’(নুতুন) ও ‘গাঁ (গ্রাম) শব্দ থেকে শব্দ দুটি ফরাসী। নওগাঁ শব্দের অর্থ হলোনুতুন গ্রাম। ১৯৮৪ সালে ১ মার্চ নওগাঁ ১১ টি উপজেলা নিয়ে জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

৪. নাটোর জেলা:
নাটোর জেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নারদ নদী কথিত আছে এই নদীর নাম থেকেই ‘নাটোর’ শব্দটিরউৎপত্তি। ভাষা গবেষকদের মতে নাতোর হচ্ছে মুল শব্দ। উচ্চারণগত কারণে নাটোর হয়েছে। নাটোরঅঞ্চল নিম্নমুখী হওয়ায় চলাচল করা ছিল প্রায় অসম্ভব। জনপদটির দুর্গমতা বোঝাতে বলা হত নাতোর।নাতোর অর্থ দুর্গম। আরেকটি জনশ্রুতি আছে জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতার আমোদ-প্রমোদের জন্য গড়েউঠেছিল বাইজিবাড়ি, নটিপাড়া জাতীয় সংস্কৃতি। এই নটি পাড়া থেকে নাটোর শব্দটির উৎপদ্দি হতে পারেবলে ধারণা করা হয়। ১৯৮৪ সালে নাটোর পূর্ণাঙ্গ জেলা লাভ করে।

৫. নবাবগঞ্জ জেলা:
‘চাপাইনবাবগঞ্জ’ নামটি সাম্প্রতিকালের।এই এলাকা ‘নবাবগঞ্জ নামে পরিচিত ছিল। চাঁপাইগঞ্জ নামকরণসম্পর্কে জানা যায়, প্রাক-ব্রিটিশ আমলে এ অঞ্চল ছিল মুর্শিদাবাদের নবাবদের বিহারভূমি এবং এরঅবস্থান ছিল বর্তমান সদর উপজেলার দাউদপুর মৌজায়। নবাবরা তাঁদের পাত্র-মিত্র ও পরিষদ নিয়েএখানে শিকার করতে আসতেন বলে এ স্থানের নাম হয় নবাবগঞ্জ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নামের ইতিবৃত্ত নবাবআমলে মহেশপুর গ্রামে চম্পাবতী মতান্তরে ‘চম্পারানী বা চম্পাবাঈ’ নামে এক সুন্দরী বাঈজী বাসকরতেন। তাঁর নৃত্যের খ্যাতি আশেপাশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি নবাবের প্রিয়পাত্রী হয়েওঠেন। তাঁর নামানুসারে এই জায়গার নাম ‘চাঁপাই”। এ অঞ্চলে রাজা লখিন্দরের বাসভূমি ছিল। লখিন্দরেররাজধানীর নাম ছিল চম্পক। চম্পক নাম থেকেই চাঁপাই। ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর(১৮৮৫-১৯৬৯ খ্রি) ‘বাঙলা সাহিত্যের কথা’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডে বর্ণিত লাউসেনের শত্রুরা জামুতিনগরদিয়ে গৌড়ে প্রবেশ করে। বর্তমান ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া পূর্বে জামুতিনগর নামে পরিচিতছিল। এসবের ওপর ভিত্তি করে কোনো কোনো গবেষক চাঁপাইকে বেহুলার শ্বশুরবাড়ি চম্পকনগর বলেস্থির করেছেন এবং মত দিয়েছেন যে, চম্পক নাম থেকেই চাঁপাই নামের উৎপত্তি।

৬. পাবনা জেলা:
‘পাবনা’ নামকরণ নিয়ে কিংবদন্তির অন্ত নেই। এক কিংবদন্তি মতে গঙ্গার ‘পাবনী’ নামক পূর্বগামিনী ধারাহতে পাবনা নামের উৎপত্তি হয়েছে। অপর একটি সূত্রে জানা যায় ‘পাবন’ বা ‘পাবনা’ নামের একজন দস্যুরআড্ডাস্থলই এক সময় পাবনা নামে পরিচিতি লাভ করে। অপরদিকে কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন, ‘পাবনা’নাম এসেছে ‘পদুম্বা’ থেকে। কালক্রমে পদুম্বাই স্বরসঙ্গতি রক্ষা করতে গিয়ে বা শব্দগত অন্য ব্যুৎপত্তি হয়েপাবনা হয়েছে। ‘পদুম্বা’ জনপদের প্রথম সাক্ষাৎ মিলে খ্রিষ্টীয় একাদশ শতকে পাল নৃপতি রামপালেরশাসনকালে।

৭. রাজশাহী জেলা:
এই জেলার নামকরণ নিয়ে প্রচুর মতপার্থক্য রয়েছে। তবে ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়র মতেরাজশাহী রাণী ভবানীর দেয়া নাম। অবশ্য মিঃ গ্রান্ট লিখেছেন যে, রাণী ভবানীর জমিদারীকেই রাজশাহীবলা হতো এবং এই চাকলার বন্দোবস্তের কালে রাজশাহী নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। পদ্মার উত্তরাঞ্চলবিস্তীর্ন এলাকা নিয়ে পাবনা পেরিয়ে ঢাকা পর্যন্ত এমনকি নদীয়া, যশোর, বর্ধমান, বীরভূম নিয়ে এই এলাকারাজশাহী চাকলা নামে অভিহিত হয়। অনুমান করা হয় ‘রামপুর’ এবং ‘বোয়ালিয়া’ নামক দু’টি গ্রামেরসমন্বয়ে রাজশাহী শহর গ’ড়ে উঠেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘রামপুর-বোয়ালিয়া’ নামে অভিহিত হলেওপরবর্তীতে রাজশাহী নামটিই সর্ব সাধারণের নিকট সমধিক পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে আমরা যেরাজশাহী শহরের সঙ্গে পরিচিত, তার আরম্ভ ১৮২৫ সাল থেকে। রামপুর-বোয়ালিয়া শহরের নামকরণরাজশাহী কী করে হলো তা নিয়ে বহু মতামত রয়েছে। রাজাশাহী শব্দটি বিশ্লেষণ করলে দুটি ভিন্ন ভাষারএকই অর্থবোধক দুটি শব্দের সংযোজন পরিলতি হয়। সংস্কৃত ‘রাজ’ ও ফারসি ‘শাহ’ এর বিশেষণ ‘শাহী’শব্দযোগে ‘রাজশাহী’ শব্দের উদ্ভব, যার অর্থ একই অর্থাৎ রাজা বা রাজা-রাজকীয় বা বা বাদশাহ বাবাদশাহী। তবে বাংলা ভাষায় আমরা একই অর্থের অনেক শব্দ দু-বার উচ্চারণ করে থাকি। যেমন শাক-সবজি, চালাক-চতুর, ভুল-ভ্রান্তি, ভুল-ত্র“টি, চাষ-আবাদ, জমি-জিরাত, ধার-দেনা, শিক্ষা-দীক্ষা, দীন-দুঃখী,ঘষা-মাজা, মান-সম্মান, দান-খয়রাত, পাহাড়-পর্বত, পাকা-পোক্ত, বিপদ-আপদ ইত্যাদি। ঠিক তেমনিকরে অদ্ভূত ধরনের এই রাজশাহী শব্দের উদ্ভবও যে এভাবে ঘটে থাকতে পারে তা মোটেই উড়িয়ে দেয়াযায় না। এই নামকরণ নিয়ে অনেক কল্পকাহিনীও রয়েছে। সাধারণভাবে বলা হয় এই জেলায় বহু রাজা-জমিদারের বসবাস, এজন্য এ জেলার নাম হয়েছে রাজশাহী। কেউ বলেন রাজা গণেশের সময়(১৪১৪-১৪১৮) রাজশাহী নামের উদ্ভব। ১৯৮৪ সালে রাজশাহীর ৪টি মহকুমাকে নিয়ে রাজশাহী, নওগাঁ,নাটোর এবং নবাবগঞ্জ- এই চারটি স্বতন্ত্র জেলায় উন্নীত করা হয়।

৮. সিরাজগঞ্জ জেলা:
বেলকুচি থানায় সিরাজউদ্দিন চৌধুরী নামক এক ভূস্বামী (জমিদার) ছিলেন। তিনি তাঁর নিজ মহালে একটি‘গঞ্জ’ স্থাপন করেন। তাঁর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় সিরাজগঞ্জ। কিন্তু এটা ততটা প্রসিদ্ধি লাভকরেনি। যমুনা নদীর ভাঙ্গনের ফলে ক্রমে তা নদীগর্ভে বিলীন হয় এবং ক্রমশঃ উত্তর দিকে সরে আসে। সেসময় সিরাজউদ্দীন চৌধুরী ১৮০৯ সালের দিকে খয়রাতি মহল রূপে জমিদারী সেরেস্তায় লিখিত ভুতেরদিয়ার মৌজা নিলামে খরিদ করেন। তিনি এই স্থানটিকে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রধান স্থানরূপে বিশেষ সহায়কমনে করেন। এমন সময় তাঁর নামে নামকরণকৃত সিরাজগঞ্জ স্থানটি পুনঃ নদীভাঙ্গণে বিলীণ হয়। তিনিভুতের দিয়ার মৌজাকেই নতুনভাবে ‘সিরাজগঞ্জ’ নামে নামকরণ করেন। ফলে ভুতের দিয়ার মৌজাই‘সিরাজগঞ্জ’ নামে স্থায়ী রূপ লাভ করে।

(ঙ) বরিশাল বিভাগ:

বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালে। বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠী, পটুয়াখালি, পিরোজপুর ওভোলা এই ৬ জেলা নিয়ে বরিশাল বিভাগ গঠিত হয়। অবশেষে ২০০০ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনপ্রতিষ্ঠিত হয়।

১. বরগুনা জেলা:
বরগুনা নামের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও জানা যায় যে, উত্তরাঞ্চলের কাঠ ব্যবসায়ীরা এঅঞ্চলে কাঠ নিতে এস খরস্রোতা খাকদোন নদী অতিক্রম করতে গিয়ে অনুকুল প্রবাহ বা বড় গোনের জন্যএখানে অপেক্ষা করত বলে এ স্থানের নাম হয় বড় গোনা।কারো মতে আবার স্রোতের বিপরীতে গুন (দড়ি)টেনে নৌকা অতিক্রম করতে হতো বলে এ স্থানের নাম বরগুনা। কেউ কেউ বলেন, বরগুনা নামক কোনপ্রভাবশালী রাখাইন অধিবাসীর নামানুসারে বরগুনা। আবার কারো মতে বরগুনা নামক কোন একবাওয়ালীর নামানুসারে এ স্থানের নাম করণ করা হয় বরগুনা।

২. বরিশাল জেলা:
বরিশাল নামকরণ সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। এক কিংবদন্তি থেকে জানা যায় যে, পূর্বে এখানে খুববড় বড় শাল গাছ জন্মাতো, আর এই বড় শাল গাছের কারণে (বড়+শাল) বরিশাল নামের উৎপত্তি। কেউকেউ দাবি করেন, পর্তুগীজ বেরি ও শেলির প্রেমকাহিনীর জন্য বরিশাল নামকরণ করা হয়েছে। অন্য এককিংবদন্তি থেকে জানা যায় যে, গিরদে বন্দরে (গ্রেট বন্দর) ঢাকা নবাবদের বড় বড় লবণের গোলা ওচৌকি ছিল। ইংরেজ ও পর্তুগীজ বণিকরা বড় বড় লবণের চৌকিকে ‘বরিসল্ট’ বলতো। অথাৎ বরি (বড়)+সল্ট(লবণ)= বরিসল্ট। আবার অনেকের ধারণা এখানকার লবণের দানাগুলো বড় বড় ছিল বলে ‘বরিসল্ট’বলা হতো । পরবর্তিতে বরিসল্ট শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল নামে পরিচিতি লাভ করে।

৩. ভোলা জেলা:
ভোলা জেলার নামকরণের পিছনে স্থায়ীভাবে একটি লোককাহিনী প্রচলিত আছে যে, ভোলা শহরের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার মত অপ্রশস্ত ছিলনা। একসময় এটি পরিচিত ছিল বেতুয়ানদী নামে। খেয়া নৌকার সাহায্যে নদীতে পারাপার করা হত। বুড়ো এক মাঝি এখানে খেয়া নৌকারসাহায্যে লোকজন পারাপার করতো। তাঁর নাম ছিল ভোলা গাজী পাটনী। বর্তমানে যোগীরঘোলের কাছেইতাঁর আস্তানা ছিল। এই ভোলা গাজীর নামানুসারেই এক সময় স্থানটির নাম দেয়া হয় ভোলা। সেই থেকেআজ অব্দী ভোলা নামে পরিচিত।

৪. ঝালকাঠি জেলা:
জেলার নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ জেলার জেলে সম্প্রদায়ের ইতিহাস। মধ্যযুগ-পরবর্তী সময়েসন্ধ্যা, সুগন্ধা, ধানসিঁড়ি আর বিষখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় জেলেরা বসতি স্থাপন করে। এর প্রাচীননাম ছিল ‘মহারাজগঞ্জ’। মহারাজগঞ্জের ভূ-স্বামী শ্রী কৈলাশ চন্দ্র জমিদারি বৈঠক সম্পাদন করতেন এবংপরবর্তীতে তিনি এ স্থানটিতে এক গঞ্জ বা বাজার নির্মাণ করেন। এ গঞ্জে জেলেরা জালের কাঠি বিক্রিকরত। এ জালের কাঠি থেকে পর্যায়ক্রমে ঝালকাঠি নামকরণ করা হয় বলে ধারণা করা হয়। জানা যায়,বিভিন্ন স্থান থেকে জেলেরা এখানে মাছ শিকারের জন্য আসত এবং যাযাবরের মতো সুগন্ধা নদীর তীরেবাস করত। এ অঞ্চলের জেলেদের পেশাগত পরিচিতিকে বলা হতো ‘ঝালো’। এরপর জেলেরা বন-জঙ্গলপরিষ্কার করে এখানে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে। এভাবেই জেলে থেকে ঝালো এবং জঙ্গল কেটে বসতিগড়ে তোলার কারণে কাটি শব্দের প্রচলন হয়ে ঝালকাটি শব্দের উৎপত্তি হয়। পরবর্তীকালে ঝালকাটিরূপান্তরিত হয় ঝালকাঠিতে।১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী ঝালকাঠি পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা লাভ করে।

৫. পটুয়াখালী জেলা:
ঐতিহাসিক ঘটনাবলি থেকে জানা যায যে, পটুয়াখালী চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভক্ত ছিল। পটুয়াখালীনামকরণের পিছনে প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের লুন।টন অত্যাচারের ইতিহাস জড়িত আছে বলে জানাযায়। পটুয়াখালী শহরের উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত নদীটি পূর্বে ভরনী খাল নামে পরিচিত ছিল। ষোড়শশতাব্দীর শুরু থেকে পর্তুগীজ জলদস্যুরা এই খালের পথ দিয়ে এস সন্নিহিত এলাকায় নির্বিচারে অত্যাচারহত্যা লুন্ঠন চালাত। স্থানীয় লোকেরা এই হানাদারদের ‘নটুয়া’ বলত এবং তখন থেকে খালটি নটুয়ার খালনামে ডাকা হয়। কথিত আছে, এই “নটুয়ার খাল” খাল থেকে পরবর্তীতে এ এলাকার নামকরণ হয়পটুয়াখালী।

৬. পিরোজপুর জেলা:
“ফিরোজ শাহের আমল থেকে ভাটির দেশের ফিরোজপুর, বেনিয়া চক্রের ছোয়া লেগে পাল্টে হলোপিরোজপুর”

এ কথা থেকে পিরোজপুর নামকরণের একটা সূত্র পাওয়া যায়। নাজিরপুর উপজেলার শাখারী কাঠিরজনৈক হেলাল উদ্দীন মোঘল নিজেকে মোঘল বংশের শেয় বংশধর হিসেবে দাবি করেছিলেন বলে জানাযায়। বাংলার সুবেদার শাহ।। সুজা আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলার নিকট পরাজিত হয়ে বাংলারদক্ষিণ অঞ্চলে এসে আত্মগোপন করেন। এক পর্যায়ে নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীর পাড়ে একটি কেল্লাতৈরি করে কিছুকাল অবস্থান করেন। মীর জুমলার বাহিনী এখানেও হানা দেয়, শাহ সুজা তাঁর দুই কন্যাসহআরাকান রাজ্যে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি অপর এক রাজার চক্রান্তে নিহত হন। পালিয়ে যাওয়ার সময়তাঁর স্ত্রী ও এক শিশুপ্রত্র রেখে যান। পরবর্তীতে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে পশ্চিমে চলেআসে এবং বর্তমান পিরোজপুরের পাশ্ববর্তী দামোদর নদীর মুখে আস্তানা তৈরি করেন। এ শিশুর নাম ছিলফিরোজ এবং তাঁর নামানুসারে হয় ফিরোজপুর। কালের বিবর্তনে ফিরোজপুরের নাম হয় ‘পিরোজপুর’।পিরোজপুর ১৯৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর পিরোজপুর মহকুমা এবং পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জেলাররূপান্তরিত হয়।

(চ) রংপুর বিভাগ:

বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক পূণর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (ঘধঃরড়হধষ ওসঢ়ষবসবহঃধঃরড়হ ঈড়সসরঃঃবব ভড়ৎ অফসরহরংঃৎধঃরাব জবভড়ৎস:ঘওঈঅজ) ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ২৫জানুয়ারি তারিখে রংপুরকে দেশের সপ্তম বিভাগ হিসেবে অনুমোদন দেয়। এর আগে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৩জুলাই তারিখে মন্ত্রীসভার বৈঠকে রংপুরকে বিভাগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে একটি কমিটি তৈরিকরা হয় এবং কমিটি ২১ জুলাই তারিখে প্রতিবেদন জমা দেয়।

১. দিনাজপুর জেলা:
জনশ্রুতি আছে জনৈক দিনাজ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নামানুসারেইরাজবাড়ীতে অবস্থিত মৌজার নাম হয় দিনাজপুর। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা ঘোড়াঘাট সরকার বাতিলকরে নতুন জেলা গঠন করে এবং রাজার সম্মানে জেলার নামকরণ করে দিনাজপুর।

২. গাইবান্ধা জেলা:
গাইবান্ধা নামকরণ সম্পর্কে কিংবদন্তী প্রচলিত আছ, প্রায় পাচ হাজার বছর আগে মৎস্য দেশের রাজাবিরাটের রাজধানী ছিল গাইবান্ধার গোবিন্দগজ থানা এলাকায়। বিরাট রাজার গো-ধনের কোন তুলনাছিল না। তার গাভীর সংখ্যা ছিল ষাট হাজার। মাঝে মাঝে ডাকাতরা এসে বিরাট রাজার গাভী লুণ্ঠন করেনিয়ে যেতো। সে জন্য বিরাট রাজা একটি বিশাল পতিত প্রান্তরে গো-শালা স্থাপন করেন। গো-শালাটিসুরক্ষিত এবং গাভীর খাদ্য ও পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে। নদী তীরবর্তী ঘেসো জমিতে স্থাপন করাহয়। সেই নির্দিষ্ট স্থানে গাভীগুলোকে বেঁধে রাখা হতো। প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে এই গাভী বেঁধে রাখারস্থান থেকে এতদঞ্চলের কথ্য ভাষা অনুসারে এলাকার নাম হয়েছে গাইবাঁধা এবং কালক্রমে তা গাইবান্ধানামে পরিচিতি লাভ করে।

৩. কুড়িগ্রাম জেলা:
কুড়িগ্রাম জনপদ বেশ প্রাচীন। কুড়িগ্রাম-এর নাম করণের সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। অনেকে মনেকরেন গণনা সংখ্যা কুড়ি থেকে কুড়িগ্রাম হয়েছে। কারো মতে কুড়িটি কলু পরিবার এর আদি বাসিন্দাছিল। তাই এর নাম কুড়িগ্রাম। কেউ বা মনে করেন, রংগপুর রাজার অবকাশ যাপনের স্থান ছিলকুড়িগ্রাম। প্রচুর বন-জঙ্গল ও ফল মূলে পরিপূর্ণ ছিল এই এলাকা, তাই ফুলের কুড়ি থেকে এর নাম হয়েছেকুড়িগ্রাম।

১৮০৯ সালে ডাঃ বুকালন হ্যামিলটন তাঁর বিবরণীতে বলেছেন- কঁৎরমধহল ড়ভ যিরপয ঃযব সধৎশবঃ ঢ়ষধপব রং পধষষবফ ইধষধনধৎর রহ ধ ঢ়ষধপব ড়ভ পড়হংরফবৎধনষব ঃৎধফব (সধৎঃরহং ঊধংঃবৎহ ওহফরধ)। মিঃভাস তাঁর রংপুরের বিবরণীতেও এ অঞ্চলকে কুড়িগঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কুড়িগঞ্জ নামের উৎপত্তিসম্বন্ধে কেউ কিছুই বলেননি। ১৯৮৪ সালের ২৩ শে জানুয়ারী ‘‘কুড়িগ্রাম’’ মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীতহয়।

৪. লালমনিরহাট জেলা:
লালমনিরহাট নামকরণ নিয়ে জনশ্রুতি আছে যে, বৃটিশ সরকারের আমলে বর্তমান লালমনিরহাট শহরেরমধ্যে দিয়ে রেলপথ বসানোর সময় উল্লিখিত অঞ্চলের রেল শ্রমিকরা বন-জঙ্গল কাটতে গিয়ে জনৈক ব্যক্তি’লালমনি’ পেয়েছিলেন। সেই লালমনি থেকেই পর্যায়ক্রমে লালমনিরহাট নামের উৎপত্তি হয়েছে। অন্য একসূত্র থেকে জানা যায়, বিপ্লবী কৃষক নেতা নুরুলদীনের ঘনিষ্ঠ সাথী লালমনি নামে এক ধনাঢ্য মহিলাছিলেন। যার নামানুসারে লালমনিরহাট নামকরণ করা হয়েছে।

৫. নীলফামারী জেলা:
প্রায় দুই শতাধিক বছর পূর্বে এ অঞ্চলে নীল চাষের খামার স্থাপন করে ইংরেজ নীলকরেরা। এ অঞ্চলেরউর্বর ভূমি নীল চাষের অনুকূল হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় নীলফামারীতে বেশি সংখ্যায়নীলকুঠি ও নীল খামার গড়ে ওঠে। ঊণবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দুরাকুটি, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, টেঙ্গনমারীপ্রভৃতি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়। সে সময় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মধ্যে নীলফামারীতেই বেশি পরিমাণেশস্য উৎপাদিত মাটির ঊর্বরতার কারণে। সে কারণেই নীলকরদের ব্যাপক আগমন ঘটে এতদঅঞ্চলে।গড়ে ওঠে অসংখ্য নীল খামার। বর্তমান নীলফামারী শহরের তিন কিলোমিটার উত্তরে পুরাতন রেলস্টেশনের কাছেই ছিল একটি বড় নীলকুঠি। তাছাড়া বর্তমানে অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত পুরাতনবাড়িটি ছিল একটি নীলকুঠি। ধারণা করা হয়, স্থানীয় কৃষকদের মুখে ‘নীল খামার’ রূপান্তরিত হয় ‘নীলখামারী’তে। আর এই নীলখামারীর অপভ্রংশ হিসেবে উদ্ভব হয় নীলফামারী নামের।

৬. পঞ্চগড় জেলা:
“পঞ্চ” (পাঁচ) গড়ের সমাহার “পঞ্চগড়” নামটির অপভ্রমংশ “পঁচাগড়” দীর্ঘকাল এই জনপদে প্রচলিত ছিল।কিন্তু গোড়াতে এই অঞ্চলের নাম যে, ‘পঞ্চগড়ই’ ছিলো সে ব্যাপারে সন্দেহর কোন অবকাশ নেই। বস্তুতভারতীয় উপমহাদেশে “পঞ্চ” শব্দটি বিভিন্ন স্থান নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যেমন- পঞ্চনদ, পঞ্চবটী,পঞ্চনগরী, পঞ্চগৌড় ইত্যাদি। “পঞ্চনগরীর” দূরত্ব পঞ্চগড় অঞ্চল থেকে বেশি দূরে নয়। পঞ্চগড় জেলায় বেশকিছু গড় রয়েছে তাদের মাঝে উল্লেখ করার মত গড় হল ভিতরগড়, মিরগড়, রাজনগড়, হোসেনগড়,দেবনগড়। ‘পঞ্চ’ অর্থ পাঁচ, আর ‘গড়’ অর্থ বন বা জঙ্গল। ‘পঞ্চগড়’ নামটি এভাবেই এসেছে।

৭. রংপুর জেলা:
রংপুর নামকরণের ক্ষেত্রে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে পূর্বের ‘রঙ্গপুর’ থেকেই কালক্রমে এই নামটি এসেছে।ইতিহাস থেকে জানা যায় যে উপমহাদেশে ইংরেজরা নীলের চাষ শুরু করে। এই অঞ্চলে মাটি উর্বর হবারকারণে এখানে প্রচুর নীলের চাষ হত। সেই নীলকে স্থানীয় লোকজন রঙ্গ নামেই জানত। কালের বিবর্তনেসেই রঙ্গ থেকে রঙ্গপুর এবং তা থেকেই আজকের রংপুর। অপর একটি প্রচলিত ধারনা থেকে জানা যায় যেরংপুর জেলার পূর্বনাম রঙ্গপুর। প্রাগ জ্যোতিস্বর নরের পুত্র ভগদত্তের রঙ্গমহল এর নামকরন থেকে এইরঙ্গপুর নামটি আসে। রংপুর জেলার অপর নাম জঙ্গপুর । ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব থাকায় কেউ কেউএই জেলাকে যমপুর বলেও ডাকত। তবে রংপুর জেলা সুদুর অতীত থেকে আন্দোলন প্রতিরোধের মূল ঘাঁটিছিল। তাই জঙ্গপুর নামকেই রংপুরের আদি নাম হিসেবে ধরা হয়। জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ, পুর অর্থ নগর বা শহর।গ্রাম থেকে আগত মানুষ প্রায়ই ইংরেজদের অত্যাচারে নিহত হত বা ম্যালেরিয়ায় মারা যেত। তাই সাধারণমানুষ শহরে আসতে ভয় পেত। সুদুর অতীতে রংপুর জেলা যে রণভূমি ছিল তা সন্দেহাতীত ভাবেই বলাযায়। ত্রিশের দশকের শেষ ভাগে এ জেলায় কৃষক আন্দোলন যে ভাবে বিকাশ লাভ করে ছিল তার কারণেরংপুরকে লাল রংপুর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

৮. ঠাকুরগাঁও জেলা:
ঠাকুরগাঁও এর আদি নাম ছিল নিশ্চিন্তপুর। ঠাকুরগাঁওয়ের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে আর যা পাওয়াগেছে তাহলো, বর্তমানে যেটি জেলা সদর অর্থাৎ যেখানে জেলার অফিস-আদালত অবস্থিত সেখান থেকে৮ কিলোমিটার উত্তরে আকচা ইউনিয়নের একটি মৌজায় নারায়ণ চক্রবর্তী ও সতীশ চক্রবর্তী নামে দুইভাই বসবাস করতেন। সম্পদ ও প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে তারা সেই এলাকায় খুব পরিচিত ছিলেন।সেখানকার লোকজন সেই চক্রবর্তী বাড়িকে ঠাকুরবাড়ি বলতেন। পরে স্থানীয় লোকজন এই জায়গাকেঠাকুরবাড়ি থেকে ঠাকুরগাঁও বলতে শুরু করে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারী ৫টি থানা নিয়ে ঠাকুরগাঁওজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

(ছ)  সিলেট বিভাগ:

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দের ১ আগষ্ট সিলেট দেশের ষষ্ঠ বিভাগ হিসাবে মর্যাদা পায়।

১. হবিগঞ্জ জেলা:
সুফি-সাধক হযরত শাহজালাল (রঃ) এর অনুসারী হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রঃ) এর পূর্ণস্মৃতি বিজড়িখোয়াই, কারাঙ্গী, বিজনা, রতœা প্রভৃতি নদী বিধৌত হবিগঞ্জ একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন জনপদ।ঐতিহাসিক সুলতানসী হাবেলীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সুলতানের অধঃস্তন পুরুষ সৈয়দ হেদায়েত উল্লাহর পুত্রসৈয়দ হাবীব উল্লাহ খোয়াই নদীর তীরে একটি গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নামানুসরে হবিগঞ্জ নামকরণকরা হয়। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ হবিগঞ্জ জেলায় উন্নীত হয়।

২. মেীলভীবাজার জেলা:
হয়রত শাহ মোস্তফা (র 🙂 এর বংশধর মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি মনুনদীর উত্তর তীরে কয়েকটি দোকানঘর স্থাপন করে ভোজ্যসামগ্রী ক্রয় বিক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেন।মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ প্রতিষ্ঠিত এ বাজারে নৌ ও স্থলপথে প্রতিদিন লোকসমাগম বৃদ্ধি পেতে থাকে।ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমের মাধ্যমে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে মৌলভীবাজারের খ্যাতি। মৌলভী সাহেবেরপ্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ এই অঞ্চলের নাম হয় মৌলভীবাজার। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২২শে ফেব্রুয়ারীমৌলভীবাজার মহকুমাটি জেলায় উন্নীত হয়।

৩. সুনামগঞ্জ জেলা:
‘সুনামদি’ নামক জনৈক মোগল সিপাহীর নামানুসারে সুনামগঞ্জের নামকরণ করা হয়েছিল বলে জানাযায়। ‘সুনামদি’ (সুনাম উদ্দিনের আঞ্চলিক রূপ) নামক উক্ত মোগল সৈন্যের কোন এক যুদ্ধে বীরোচিতকৃতিত্বের জন্য সম্রাট কর্তৃক সুনামদিকে এখানে কিছু ভূমি পুরস্কার হিসাবে দান করা হয়। তাঁর দানস্বরূপপ্রাপ্ত ভূমিতে তাঁরই নামে সুনামগঞ্জ বাজারটি স্থাপিত হয়েছিল। এভাবে সুনামগঞ্জ নামের ও স্থানের উৎপত্তিহয়েছিল বলে মনে করা হয়ে থাকে।

৪. সিলেট জেলা:
প্রাচীন গ্রন্থাদিতে এ অঞ্চলকে বিভিন্ন নামের উল্লেখ্য আছে। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে শিবের স্ত্রী সতি দেবীর কাটাহস্ত (হাত) এই অঞ্চলে পড়েছিল, যার ফলে ‘শ্রী হস্ত’ হতে শ্রীহট্ট নামের উৎপত্তি বলে হিন্দু সম্প্রদায় বিশ্বাসকরেন। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকের ঐতিহাসিক এরিয়ান লিখিত বিবরণীতে এই অঞ্চলের নাম “সিরিওট” বলেউল্লেখ আছে। এছাড়া, খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকে এলিয়েনের (অরষরবহ) বিবরণে “সিরটে”, এবং পেরিপ্লাস অবদ্যা এরিথ্রিয়ান সী নামক গ্রন্থে এ অঞ্চলের নাম “সিরটে” এবং “সিসটে” এই দুইভাবে লিখিত হয়েছে।অতঃপর ৬৪০ খ্রিস্টাব্দে যখন চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এই অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে এ অঞ্চলের নাম “শিলিচতল” উল্লেখ করেছেন তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদবখতিয়ার খলজী দ্বারা বঙ্গবিজয়ের মধ্য দিয়ে এদেশে মুসলিম সমাজব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটলে মুসলিমশাসকগণ তাঁদের দলিলপত্রে “শ্রীহট্ট” নামের পরিবর্তে “সিলাহেট”, “সিলহেট” ইত্যাদি নাম লিখেছেন বলেইতিহাসে প্রমাণ মিলে। আর এভাবেই শ্রীহট্ট থেকে রূপান্তর হতে হতে একসময় সিলেট নামটি প্রসিদ্ধ হয়েউঠেছে বলে ঐতিহাসিকরা ধারণা করেন। এছাড়াও বলা হয়, এক সময় সিলেট জেলায় এক ধনী ব্যক্তিরএকটি কন্যা ছিল। তার নাম ছিল শিলা। ব্যক্তিটি তার কন্যার স্মৃতি রক্ষার্থে একটি হাট নির্মাণ করেন এবংএর নামকরণ করেন শিলার হাট। এই শিলার হাট নামটি নানাভাবে বিকৃত হয়ে সিলেট নামের উৎপত্তিহয়।

তথ্য সূত্র: জেলা তথ্য বাতায়ন, বাংলা পিডিয়া, উইকিপিডিয়া এবং বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত।




কম্পিউটারের — ৫০০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

১. অত্যাধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি);
২. কম্পিউটারের ব্রেইন হলো- Microprocessor
৩. আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়- চার্লস ব্যাবেজ কে;
৪. কম্পিউটারের আবিস্কারক- হাওয়ার্ড অ্যইকেন;
৫. আধুনিক মুদ্রণ ব্যবস্থায় ধাতু নির্মিত অক্ষরের প্রয়োজনীয়তা শেষ হওয়ার কারণ- ফটো লিথোগ্রাফী;
৬. কম্পিউটারের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে- সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট;
৭. কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় পক্রিয়াকরণ অংশ গঠিত অভ্যন্তরীন স্মৃতি, গাণিতিক যুক্তি অংশ ও নিয়ন্ত্রণ অংশের সমন্বয়ে;
৮. কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ বা যন্ত্রকে বলা হয়- হার্ডওয়্যার;
৯. কম্পিউটার পদ্ধতির দু’টি প্রধান অঙ্গ- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার।
১০. কম্পিউটারের সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে সম্পাদনের অনুক্রমে সাজানো নির্দেশাবলীকে বলা হয়- প্রোগ্রাম;
১১. কম্পিউটার ভাইরাস হলো একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার।
১২. ইন্টারনেটের মাধ্যমে উনড়বত চিকিৎসা পদ্ধতিকে বলা হয়- টেলিমেডিসিন;
১৩. নাফিস বিন সাত্তার- বাংলাদেশী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ২০০৭ সালে অস্কার পুরস্কার অর্জন করেন;
১৪. কম্পিউটারের সফটওয়্যার বলতে বুঝায় এর প্রোগ্রাম বা কর্মপরিকল্পনা কৌশল;
১৫. মেশিনের ভাষায় লিখিত প্রোগ্রামকে বলা হয়- এসেম্বলি;
১৬. প্রোগ্রাম রচনা সবচেয়ে কঠিন মেশিনের ভাষায়;
১৭. বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সিআইএইচ (চেং-ইয়ং-হো) ভাইরাস ২৬ এপ্রিল ১৯৯৯ তারিখে আμমণ করে।
১৮. তারবিহীন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগের জন্য উপযোগী- ওয়াইম্যাক্স;
১৯. ঠঝঅঞ প্রযুক্তি ভূ-পৃষ্ঠ হতে স্যাটেলাইটে যোগাযোগ করার জন্য ব্যবহার করা হয়;
২০. প্রম ল্যাপটপ কম্পিউটার- এপসন, ১৯৮২;
২১. পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে কম্পিউটার বেশি সুবিধাজনক;
২২. কম্পিউটারের ক্ষেত্রে তথ্য পরিবহনের জন্য পরিবাহী পথকে বলা হয়- বাস;
২৩. উপাত্ত গ্রহণ ও নির্গমণ বাসের নাম ডেটাবেস;
২৪. ওরাকল- একটি ডেটাবেস সফটওয়্যার;
২৫. ডেটাবেস সফটওয়্যার এর জন্মতারিখ হলো একটি ফিল্ড;
২৬. শিক্ষার্থীরা সহজে আয়ত্ত করতে পারে ইঅঝওঈ প্রোগ্রাম;
২৭. System softwareথাকে Startup disc G
২৮. পাওয়ার অপেন- একটি অপারেটিং সিস্টেম;
২৯. প্রম সফল কম্পিউটার বাজারে আসে ১৯৭৬ সালে।
৩০. কম্পিউটারের কোন বুদ্ধি বিবেচনা নেই;
৩১. কম্পিউটার ভাইরাস হলো একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার।
৩২. মেকিনটোশ কম্পিউটারের সাহায্যে পৃথিবীর সব ভাষা ব্যবহারের প্র ম সুযোগ আসে;
৩৩. কমপ্লেক্স কম্পিউটারের নক্সা তৈরী করেন- ড. স্টিবিজ;
৩৪. ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমে দুইশ’র অধিক কমান্ড ব্যবহার করতে হয়;
৩৫. মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ দুইটি সংকেত সমন্বয়ে গঠিত;
৩৬. প্রাচীন ব্যাবিলনে গণনার পদ্ধতি ছিল ২ ধরনের;
৩৭. হেক্সাডেসিমেল গণনার মৌলিক অংশ ১৬টি;
৩৮. বিশ্বের প্রম ওয়েব ব্রাউজার- মোজাইক;
৩৯. প্র ম কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ- ফরট্রান;
৪০. লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের জনক- ট্যাভেলড লিনাক্স;
৪১. পৃথিবীর প্র ম স্বয়ংμিয় গণনার যন্ত্র- মার্ক ১; যন্ত্রটি লম্বায় ছিল ৫১ ফুট দৈর্ঘ্য:
৪২. সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পনড়ব টেপ- ম্যাগনেটিক টেপ;
৪৩. ইন্টারপ্রেটার- অনুবাদক প্রোগ্রাম;
৪৪. কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তিন ধরনের- খঅঘ, গঅঘ, ডঅঘ;
৪৫. কম্পিউটারে দেয়া অপ্রয়োজনীয় ইনফরমেশনকে বলা হয়- এরননবৎরংয;
৪৬. ঋষধংয সড়ারব তে তিন ধরনের ংুসনড়ষ ব্যবহার করা হয়।
৪৭. চযড়ঃড়ংযড়ঢ় এ এ্যাংকর পয়েন্ট ৫ প্রকার;
৪৮. তথ্য প্রযুক্তি একটি সমন্বিত প্রযুক্তি;
৪৯. বাংলাদেশে অনলাইন ইন্টারনেট সেবা চালু হয়- ৪ জুন, ১৯৯৬ তারিখে;
৫০. বিশ্বের প্রম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আরপানেট চালু হয় ১৯৬৯ সালে;
৫১. কম্পিউটার নেটওয়ার্কের বর্তমান পরিচিতি ইন্টারনেট চালু হয় ১৯৯৪ সালে।
৫২. প্রম কম্পিউটার প্রোগ্রামার- লেডি অ্যডা অসাস্টা বায়রন (কবি লর্ড অ্যডা বায়রনের কন্যা);
৫৩. ম্যাক্সেমিডিয়া ফ্লাশ- একটি এনিমেশন সফটওয়্যার;
৫৪. স্কোটিয়া- রাশিয়ার অ্যবাকাস;
৫৫. সরোবর্ণ- জাপানের অ্যবাকাস;
৫৬. ক্যলকুলেটরের সর্বেচ্চ ক্ষমতা প্রোগ্রামিং করা;
৫৭. কী বোর্ডে ফাংশনাল কী ১২টি;
৫৮. কম্পিউটারের সুইচ অন করার সাথে সাথে RAM এর জায়গার পরিমাণ পরীক্ষা করে operating system
৫৯. Ok এবং Cancel অথবা Close বোতাম থাকে Dialogue Boxএ;
৬০. বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম DOS, UNIX
৬১. Visual Basicএ দুই ধরনের ধ্রুবক থাকে;
৬২. Visual Basic এর Project এ ব্যবহৃত Object- Procedure
৬৩. E-mail ঠিকানার ডোমেন নামের সর্বশেষ অংশকে বলা হয় Top Level Domain (TLD)
64. LAN Ges LAN Topology- BUS, STAR, RING;
৬৫. Flash প্রোগ্রামের ভিত্তি Timeline;
৬৬. সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীগণ www ব্যবস্থাটি উদ্ভাবন করেন ১৯৯১ সালে;
৬৭. ১৯৯৩ সালে প্রথম আবিস্কৃত ব্রাউজারের নাম মোজাইক, আবিস্কারক- মার্ক এড্রিসন;
৬৮. ইন্টারনেট লিংক থেকে লিংকে গমণ করাকে বলা হয় লগ ইন;
৬৯. Dial up internet connectionএ টেলিফোন লাইন প্রয়োজন;
৭০. টেলিফোন আবিস্কৃত হয় আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল কর্তৃক ১৭৮৬ সালে।
৭১. Zoom out—image ছোট করা;
৭২. Gray scale ইমেজকে সাদা-কালোতে রূপান্তরিত করা যায় Threshold কমান্ড;
৭৩. বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান- প্রশিকানেট, গ্রামীণ সাইবার নেট, বাংলাদেশ অনলাইন;
৭৪. সর্বপ্রম ফটোশপ ব্যবহার হয় Apple Macintosh কম্পিউটারে;

75. The mechanism of digital is- Symbol of number;
76. The task of operating system for hardware and software is- Make bridge;
77. The first calculation machine in the history of computer- Abacus;
78. The storage capacity of RAM cannot be increased;
79. The instruction for starting the computer are housed on- Read Only Memory chip;
80. A destination for data going outside the system is called- Sink;
81. In a computer system there are 4 parts;
82. Unwanted e mail- Spam;
83. The word ‘Computer’ came from Geek;
84. The process of starting of resting a computer is – Boot;
85. The ability to have a number of applications running at the same time is called – Integrated;
86. In general, “My Document” is located at- C drive;
87. In general, letter D is considered [except A, B & C] for Hard Disk Drive;
88. Hard disk is a auxiliary drive;
89. Keyboard is used to store data;
90. Register is a part of CPU;
91. The printers usually used in office work- Dot matrix, Inkjet, LASER;
92. A dot matrix printer prints with “pin and ribbobn”.
93. The term “Hard copy” means- Printed copy;
94. The best chart for showing parts of a whole- Pie;
95. A separate file sent as part of an email message is called a/an- attachment;
96. Computer memory is normally measured in Gigabytes;
97. Time to spin the needed data under head- Latency time;
98. Time to position the head over proper track- Seek time;
99. Access time is Seek time + Latency time;
100. The smallest power interruption that can cause memory errors or cause the computer to lock up- 1/200 seconds;
101. Properly arranged data is called- Information;
102. Another word for a Daisy Wheel Printer- Golf ball printer.
103. The wheel of mouse can make it easier scroll through documents;
104. First program of Microsoft- DOS;
105. MS-DOS is operating system for IBM PCs;
106. DOS is not a multi user multi taking operating system;
107. ‘DOS’ floppy disc does not have virtual memory;
108. Text based operating system- DOS, UNIX (for mainframe computer);
109. Mac Operating System is compatible for Macintosh computer;
110. The disk contains operating system is called- start up disk;
111. Cache- related to memory of a computer;
112. Cache memory have the shortest access time;
113. The computer that has no hard disc storage but sends input and receives output from the server is knows as- Host;
114.Binary system is used to store data in a computer;
115. Example of optical storage device (auxiliary memory)- Hard Disk, CD, DVD, Pen Drive;
116. USA is the inventor of Internet in 1969. Invented by- Vinton Gray Cerf;
117. The predecessor of modern internet- Arpanet (Advance Research Project Agency Network);
118. Web browser is used to display web contents;
119. Popular Web browsers- Mozilla Firefox, Opera, Google chrome, Internet Explorer;
120. Search engines searches websites by keyword(s);
121. Popular search engines- Google, Yahoo, Bing, Hotmail, MSN;
122. The resolution of a printer is measured in Dot Per Inch (DPI);
123. Tape speed- Inch per second;
124. The most commonly used standard data code to represent alphabetical numerical and
punctuation characters used in electronic data processing system is called- ASCII
(American Standard Code for Information Interchange).
125. The two basic type of record access methods are- Sequential and Random;
126. Lower efficiency is the limitation of high level language;
127. Sequential file organization is the most efficient for a file with a high degree of file activity.
128. In a punched card system data is processed by a accounting machine, keypunch machine and sorter;
129. The central device in star topology is- Hub/Switch;
130. An online backing storage system capable of storing larger quantities of data is- Mass
storage;
131. DASD-A class of storage device that can access storage locations in any others;
132. Disk- An item of storage medium in the form of circular plate;
133. Aback extension refers usually backup file.
134. Wi-Fi means Wireless fidelity;
135. WiMax- Wireless Internet Technology;
136. A technique used by codes to convert an analogy signal into a digital bit stream is known as- pulse code modulation;
137. Interconnected computer configuration- Multiprogramming;
138. An input and output device at which data enters or leaves a computer system- Terminal;
139. A group of magnetic tapes, video or terminals usually under the control of one master-
Cluster;
140. The data recording format is most of the modern magnetic tape is – 8 bit EBCDIC;
141. The most common type of storage device is- Magnetic;
142. Each model of a computer has a unique machine language;
143. A computer connected with server (server client) is called- work station;
144. Microsoft is trying to buy yahoo search engine.
145. Programming languages- Fortran, Java, C++, BASIC, LOGO, COBOL, Pascal;
146. 1st Programming language- Fortran (Formula Translator);
147. The characteristic of computers that differentiate from the other electronic devices- Programming;
148. Instruction in computer language consist of OPCODE & OPERAND;
149. Other name of Chip- IC (Integrated Circuit);
150. The component works first, when you start your computer- Processor;
151. The utility program could improves the speed of a disk- Fragmentation;
152. Disk Defragmentation is used to rearrange files in a disk;
153. Bluetooth operation use- radio technology;
154. Bluetooth is the name for the 802.15 wireless networking standard;
155. A CD-ROM drive is labeled with 52x; Here 52x is a measurement of Data transfer rate.
156. Access time is made up of- data transfer time;
157. Functional key F12 is- save button;
158. Pictorial representation of an operation- icon;
159. Pixel of a color monitor consists of 3 color dot. The colors are- Blue, Green & Red.
160. The inventor of punch card- Joseph Marie Jacquard;
161. 1 Byte = 21 to 23 BITs = 2 to 8 BITs information;
162. 1 kilobyte = 1024 bytes = 210 bytes information;
163. 1 Megabyte = 1024 x 1024 bytes = 220 bytes = 106 bytes information;
164. 1GB = = 1024 x 1024 x 1024 bytes information = 230 bytes information;
165. One millisecond is equal to a 1000th of a second;
166. The largest unit of storage- Terabyte;
167. Modem is a device for exchanging data;
168. Data transfer rate of a dial up MODEM is measured in kbps (Kilo Byte per Second);
169. Modem connection is used to assess the internet in a very remote location;
170. Antivirus software is an utility software;
171. In MS Word application package, you can produce some letter for different persons by using- mail merge;
172. If you format a disk then- everything will be lost.
173. In the numerical key pad of a standard key board available- 17 keys;
174. In a standard keyboard functional keys available- 12 keys;
175. Charles Babbage invented his first calculating machine in 1812;
176. Analytical engine of Charles Babbage was the simplification of modern computer;
177. The specialty of EDVAC- storage program;
178. “Microsoft Outlook” is a software designed to function as- An Internet Explorer;
179. Transistor invented in 1948;
180. Integrated Circuit (IC) invented in 1958;
181. The most distinctive difference between a LAN and a WAN is- Distance covered;
182. Programming errors detected by the language translator are called- Syntax errors;
183. MS Access- A database package;
184. MS Word, Word Star, WP- Word Processing Packages;
185. In windows operating system “ctrl + alt + del” command indicate- Shutdown the computer;
186. Screen size does not affect the resolution of a video display image;
187. Records are composed of fields;
188. Fields are composed of- bytes and character;
189. LASER printers are known as- Character printer;
190. High speed & high quality printer- LASER printer;
191. The number system used to store data in a computer is- Binary;
192. The fasted data transmission media is- Fiber optic cable;
193. The low level language- machine language, assembly language;
194. High level language is also called- Problem oriented language, Business oriented language, Mathematically oriented language;
195. Interpreter translate one instruction- at a time;
196. The component hold a charge even through power has been removed- Capacitor;
197. Different components on the motherboard of a PC processor unit are linked together by sets or parallel electrical conducting lines- Busses;
198. Odd parity bit & Even parity bit associated with error detector;
199. Analog computer works on the supply for continuous electrical pulses;
200. Speed measurement device of vehicle- Analog computer;
201. Graphics for word processor- Clip art;
202. The file run automatically if it is available extension-
203. The general term for buying and selling through the internet is- e. commerce;
204. Removable disk- Floppy disk, compact disk, DVD, Pen drive;
205. Irremovable disk- Hard disk;
206. Hard disc is coated in both side above-Magnetic Metallic Oxide;
207. The command “shift delete”- completely delete;
208. The scanner used in banking industry is- Magnetic Ink Character Reader (MICR);
209. “Bullet and Numbering” option of MS Word at- Format menu;
210. “Header and Footer” option of MS Word at- Insert menu;
211. Windows 98 Operating System is 32 bit;
212. A Hybrid computer- Resembles both a digital & analog computer;
213. The silicon chips used for data processing are called- PROM chips;
214. Input devices- Mouse, Keyboard, Scanner, Digital Camera, Joystick, light pen.
215. Output devices- Monitor, Printer, Speaker, Plotter.
216. Input & Output devices- Modem, Touch screen monitor, Terminal.
217. IT stands for- Information Technology;
218. Submarine power cables are cables for- Electrical power running through the sea, below the surface;
219. The two main types software are- System software & Application software;
220. A computer must have- an operating system;
221. The principal system software is known as- Operating system;
222. The most important part (central portion) of Operating System- Kernel;
223. The “Information Highway” is also known as- Internet;
224. All classes IP networks can be divided into smaller networks called- Subnet;
225. A password is a form of secret authentication data that is used to control access to a resource;
226. A `file` is a unit of- Information;
227. A computer is a device for processing, storing and displaying- Information;
228. A spreadsheet is a type of- Accounting program;
229. Scientific software is typically used to solve differential equations;
230. A personal computer is a type of- microcomputer;
231. The term `Micro` (extremely small) denotes 10−6 ;
232. Palmtop is the name of- a small handheld computer;
233. A Pentium 4 (P-4) employs roughly 40 million transistors;
234. Mark-1, Apple-1 & Collossus were- initial desktop computers;
235. The printers in pre-1950s were- Punch card;
236. An error in software designing which can even cause a computer to crash is called- bug;
237. Before the 1950s, computers were mostly owned by universities and research labs;
238. The computer museum is situated in USA;
239. The 1st Electronic computer was- ENIAC;
240. The 1st commercially produced and sold computer was- UNIVAC (1951);
241. The 1st digital computer- UNIVAC-1 [Edition December, 2008];
242. IBM was provided software for PCs by-Microsoft;
243. The first personal computer- Sphere 1;
244. Time sharing, teletyping were associated with- mainframe computers;
245. Midrange computer- Minicomputer;
246. The first electric computer with storage program- EDSAC;
247. The first computer game- Space war (1962);
248. There are many computers or dumb computers are jointed with Mainframe computers;
249. RAM cache will not be more than one-fourth of RAM;
250. Memory capacity of a CD is 700MB;
251. Networking operating system is- Resource sharing;
252. Personal computer, Mainframe and Mainframe computers can use the operating system-UNIX operating system;
253. Real time server meant- Then and then;
254. The internal memory of computer is called- Main memory;
255. The main memory of Atlas operating system- Dram;
256. The main part of Atlas operating system- Device drive;
257. The important part for activating of hardware of computer- Software;
258. Computer can works in diversifying- for processor;
259. DPT starts in Macintosh computer;
260. Clone is duplication of developed computer;
261. First computer was installed in Bangladesh in 1964 at Bangladesh Nuclear Energy Commission, Model: IBM-1620;
262. The unit of speed of computers work is- Nano second (1 Nano second =10−9 second;
Computer Logic :
263. George Boole find the relationship between Logic & Math’s in 1854;
264. George Boole invented the Boolean Algebra;
265. There are 2 values of each variable in Boolean Algebra;
266. There are 3 basic/fundamental gates in Boolean Algebra;
267. NOT is one of the basic/
fundamental gates of Boolean Algebra;
268. The logic gate NOT has one input and one output;
269. NOT operator is one of the logical operator;
270. The logic gate NOT has- One output & One Output;
271. The main character of NOT gate is- reverse the signal;
272. X-NOR gate is the combination of X-OR gate and NOT gate;
273. John Nepiar invented- Logarithms;
274. Super computers, Mainframe computers, mini computers and Micro computers are based on Digital;
275. The arranging of data in a logical sequence is called- sorting;
276. The brain of a computer within the CPU is- Arithmetic Logic Unit (ALU);
277. Central Processing Unit is combination of Arithmetic Logic Unit & Control Unit;
278. The ancient Babylon people used 2 types of counting system;
279. The ancient Babylon people used 15 based for large counting;
280. The ancient Babylon people used 10 based for small counting;
281. The ten-based book was published in India;
282. Al Khwarizmi wrote a book on ten based;
283. Binary number system is mainly used for computer system;
284. In binary number system 2 is the base;
285. In decimal system there are 10 digits;
286. In number system the lowest unit is digit;
287. Computers use 2 digits for its electronic job purpose: 0 & 1;
288. 1 (One) is the value of any number when its power zero;
289. The binary compliment of 0 is 1;
290. The binary compliment of 1 is 0;
291. The number with the fraction is called- real number;
292. There are 2 kinds of real number; Any number with fraction is called- real number;
293. Rational number is understood by integer;
294. Internal processing (task) of computer is normally performed in- Binary system;
295. In octal number system, 8 base;
296. In Hexadecimal number system the base is 16;
297. Octal + Decimal = Hexadecimal number;
298. ASCII code that used for the English and Roman language;
299. There are 2 steps in ASCII;
300. There are 256 symbols used for the main English language;
301. There are 85000 symbols used for the Chinese language;
302. There are 65536 codes for UNICODE consodium in the world for all language;
303. The latest version of UNICODE 501;
304. The length of Unicode character is 16 bits;
305. Bit is the short form of- Binary & digit;
306. The first digital computer was invented by- Blias Pascal;
307. The name of 0 & 1 is bit;
308. The name of the word that constitute of eight bits in Binary system-Byte; 8 bit=1 Byte.
309. 8 bits are used for processing data;
310. The name of Coding system that is used in Bangla language- UNICODE;
311. An EBCDI code is 8 Bit;
312. Binary Coded Decimal (BCD) is 4 Bit;
313. Low level language is own language of computer which is written in binary;
314. The capacity of 3.5 inches floppy disc is 1.44 MB;
Spreadsheet Analysis :
315. Spreadsheet is a accounting program;
316. The program that used for calculations relating purpose is- Spreadsheet program;
317. The special advantage of Spreadsheet program- Large and complicated calculation;
318. The popular and common used spread program is MS Excel;
319. In 1985 Microsoft company prepared spreadsheet for- Macintosh computer;
320. The command of spreadsheet program is called- Menu driven;
321. MS Excel spreadsheet program is Graphical User Interface (GUI) type program;
322. The reserve words in BASIC include GOTO;
323. Most commonly used spreadsheet program for DOS is- LOTUS 123;
324. Lotus is a text based spreadsheet program;
325. The nature of organization of BASIC is open;
326. In MS Excel 2003 program maximum number of rows 65536 and columns 256;
327. In MS Excel 2007 program maximum number of rows 1048576 and columns 16384;
328. The name of the point where a row and a column crossed is- Cell;
329. An active cell in work sheet mean- Ready for execute for command;
330. Cell address A2 means- 2nd row of column A;
331. In spreadsheet program range mean- Select some cell at a time;
332. There are 2 kinds of cell in MS Excel program;
333. Using logical formula based mathematical works be done in spreadsheet program;
334. At the beginning of formula in spreadsheet program Equal Sign ) is to be typed;
335. The command of symbols currency (dollar, Taka) remain in MS Excel program- format
cells of format menu;
336. The cells in the worksheet when cells are run from top to bottom is called- column;
337. The place of Formula typing in MS Excel is- Formula Bar;
Word Processing :
338. The program used for word processing is called- package program;
339. Key board is joined with computer like type writer for Input data;
340. Shift key helps to write English capital letters form key board;
341. Caps Lock is the function of display English capital letter;
342. Auto correction is possible in English language software;
343. The line at the top of File, Edit, View in a document is called- Title bar;
344. G button is used for link in time of Bengali text;
345. The weekly Anandapatra published in 1987 by Mostafa Jabbar;
346. To delete a sentence, the command is- press delete button after selecting the sentence;
347. Different size of characters in word processing software is called as- Font;
348. Mail merge is- Prepare a document from two file;
349. Move cursor is done by arrow key;
350. Point is the unit of measure character;
351.To select a paper size, the command is- page set up from file;
Computer Programming :
কম্পিউটার আদেশ নির্দেশ প্রদানের জন্য কম্পিউটার বুঝতে পারে এমন কিছু সংকেত এবং কতিপয় নিয়মকানুন
ব্যবহার করে প্রোগাম তৈরী করা হয়। প্রোগ্রাম তৈরীর জন্য ব্যবহৃত সকল নিয়ম কানুন ও সংকেতগুলোকে একত্রে
প্রোগ্রামের ভাষা বলে। একটি কম্পিউটার শত সহ¯্র ইলেক্ট্রনিক সুইচ সমন্বয়ে তৈরী, যার দুইটি অবস্থা OFF / ON থাকে। এদেরকে দুটি সংকেত ’১’ ও ’০’ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ১৯৪৫ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত কয়েক শত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আবিস্কৃত হয়েছে।
352. A series of instructions that tells a computer what to do , how do it is called- program;
353. Chief component of first generation computer was- Vacuum Tubes and Valves;
354. First generation programming language – Machine language;
355. The language which is directly understood by the computer without translation program Machine language;
356. Second generation computer was developed in during 1956 to 1965;
357. Second generation programming language- Assembly language;
358. The third generation programming language is High level language;
359. Forth generation programming language- Very High level language;
360. Fifth generation programming language- Natural language;
361. Computer can understand human language after converting into machine language;
362. The present time is called age of information;
363. In industries the device is used as alternative of worker is called- Robot;
364. Computer is not intelligent like man;
365. Computer cannot be used to exchange of feelings;
366. 1st Generation computer- EDSAC;
367. 2nd Generation computer- IBM 1401;
368. Vacuum tubes- Computers of 1st generation;
369. Transistors instead of bulbs at first use in- Computers of 2nd generation;
370. High level language used in- 2nd generation computer;
371. Integrated circuit (IC) was in use in- 3rd generation computer;
372. Micro Computers (Micro processor)- 4th Generation computer;
373. The brain of a computer- Microprocessor;
374. Microprocessor invented in 1971;
375. Intel Itanum microprocessor is 128 bit;
376. A physical connection between the microprocessor memory and other parts of the
microcomputer is known as- address bus;
377. A basic unit of measurement for capacitors is- farad;
378. At first Microprocessor manufactured by- Intel;
379. Microprocessor is used for processing data;
380. Intel 4080 was the model of the first microprocessor was marketed on November 1971;
381. The Microprocessor 8080 was manufactured by Intel in 1974;
382. Micro computer were first marketed by Apple company in 1976, Brand name- Apple;
383. International Business Machine (IBM) company marketed her microcomputer in 1981;
384. Apple company marketed her new series of microcomputer with Macintosh brand name in 1984 and earned quick popularity;
385. The translation from heavy computers to PCs was made possible by using- microprocessor;
386. Several lacks of transistors make a Microprocessor;
387. There are 5 generations of computers;
388. Fifth generation computer is still under development;
389. Artificial intelligence is associated with- fifth generation;
390. Super Computer- 5th generation computer;
391. 5th generation computer is also known as Knowledge information processing system;
392. Assembler is a software;
393. Translator convert programming instruction into Machine language;
394. Translator software is interpreter or compiler;
395. Main goal of programming is satisfactory solution of problem;
396. There are 3 types of programming language- i. Machine language, ii. Assembly language, iii. High level language;
397. Compiler software is used to convert High Level language into Machine language;
398. The program that used in High level language is- Source code;
399. In a perfect program there are 4 steps- i. Identity the problem, ii. Flow chart, iii. Code, iv. Debug;
400. When flow chart is converted into computer programming language is called- Coding;
401. Flow chart is the pictorial form of the different steps of a program;
402. Pseudo code used in programming, the word ‘Pseudo’ come from Greek;
403. In programming language ‘Pseudo’ means- It is not true;
404. When some instruction are written before using the programming language is called-
Pseudo code;
405. Boolean data type is 2 byte;
406. Integer data type is 2 byte;
407. The size of ‘Date’ data type = 8 byte; [each character 2 byte]
408. Property, Event and Method are the base of a object oriented programming;
409. A visual basic programming does have 3 mood;
410. When controls are used on the form at the design mood visual basic programming is called Interface of program;
411. The principal goal of a visual basic programming language is fast and easy window based program;
412. In 3rd step coding work is done in programming;
413. Flow chart is one of the base of programming;
414. Coding means write program;
415. 3 types of operators used in visual Basic program;
416. Array- One kind of variable;
417. DO ——— LOOP is the statement, means- repetition;
418. The short form of Combo box- object in visual basic programming- cbo;
419. The short form of command Button in visual Basic programming- cmd;
420. The short form of label object in visual basic programming- lbl;
421. The short form of Text object in visual basic program- txt
422. Visual basic programming marketed in 1960;
423. The program that translate program that’s written in high level language into machine
language is called- Compiler;
424. The ‘Add or remove programs’ utility can be found in- Control panel;
425. The task of a debug program is to look into all programs to- Locate and correct errors;
426. The process of identifying and correcting mistakes in a computer program is referred to as- Debugging [Wrong program];
427. There are three types of errors in a program, namely- (a). Syntax error; (b). Logical error; (c). Executive error.
428. In a computer program, the process of executing the same instructions over and over is called- Looping;
Computer Network and Internet:
429. Network can exchange data in between different companies;
430. There are 2 types of Network in computers in context of geographical region- Local Area Network (LAN) and Wide Area Network (WAN);
431. When computers are installed very near to each other is the Local Area Network;
432. When all the computers are installed a long way distance or among the countries is the
Wide Area Network;
433. Wired and Wireless are the medium for making internet or network;
434. The structure that creates network among the computers is Topology;
435. The member of the Local Area Network is – Bus Topology, Ring Topology, Star Topology, Completely connected Topology, Delta Topology, Hybrid Topology;
436. The function of Delta Bus among the different computers- Delta transfer;
437. In Bus Topology does not have Host computer;
438. In Star Topology does have Host computer;
439. In Star Topology Host computer plays role of bridge with the terminal;
440. The name of extended form of Star Topology is- Tree Topology;
441. The Star Topology does not allow to transfer data directly from computer to computer;
442. Hybrid Topology consist of Ring + Bus + completely connected Topology;
443. Internet was popularly known to all and got its recognition in 1994;
444. The different servers of different cities come under satellite at the beginning of 90’s;
445. Each and every document of Internet purpose must have their won Address;
446. Uniform Resource Location (URL) is the address of document in internet;
447. There are 3 parts in an internet address;
৪৪৮. E-mail ঠিকানা দুইভাগে বিভক্ত;
৪৪৯. E-mail ঠিকানায় @ চিহ্ন অবশ্যই থাকে;
৪৫০. E-mail ঠিকানার @ চিহ্নের পরের অংশ- Host domain name;
৪৫১. E-mail ঠিকানার @ চিহ্নের আগে থাকে ব্যবহারকারীর নাম।
৪৫২. Network এর ৎরহম সংগঠন হচ্ছে বৃত্তাকার;
453. Wikipedia is online based free Encyclopedia;
454. BD News 24 dot com- The first internet based news agency of Bangladesh;
455. The first virtual news presenter- Anna nova;
456. YouTube is a famous video sharing site;
457. Facebook is a social networking site;
458. Google plus- A new social networking site of Google;
459. Account holders of Internet- Netigen;
460. A person having the full control over the domain of computer is- an operator.
461. The symbol must exist in an email address- @
462. Correct syntax for a URL- anyone@abc.com
463. In 1972, the symbol @ chosen for its use in e mail address;
464. We use web to- (1) Send and receive e-mail, (2) Search for information.
465. “Freeze Windows Panses” is an Excel command which helps in- Password protection;
466. Firewall- protects a computer system from hacking & filtering Virus;
467. A program that can copy itself and infect the computer without permission and knowledge of the owner is called- Virus;
468. The name of structure where data move through a network is- Packets;
469. Universal gate- NAND, NOR, EX-OR;
470. Verification of a log in name and password is known as- Authentication;
471. VoIP means- Voice Over Internet Protocol;
472. The Google’s first mobile phone is- Nexus One;
Database :
473. Database means- Store of Information;
474. Database management means- proper management of data;
475. A database is a organized collection of- data or records;
476. The system when information of different table can exchange- Relational database;
477. A record consist of- more than one field;
478. Part of different record is called field;
479. Date of birth in database program is field;
480. Show data in various way- Report;
481. Yes/No in any program- Logical field;
482. Database software- Oracle, Fox Pro, File maker pro.
Application of Computer & Multimedia:
483. Multimedia mean- many media;
484. Graphics font is used in Lisa and Macintosh;
485. At the end of 80’s start compose with the help of computer;
486. Lisa is an operating system;
487. The dynamic graphics of text in multimedia is called- Animation;
488. Casketed letter were used during poster size paper printing;
489. The additional advantage of Multimedia than Radio-Television are- interactivity;
490. The single wave of sound- Mono sound;
491. Many wave of sound- Stereo sound;
492. There are 2 kinds of multimedia- (i) Hyper multimedia, (ii) Non linear multimedia;
493. Hyper multimedia- Internet based;
494. Non linear multimedia- Computer based;
495. Multimedia development tools- Director, Hyper studio, Hyper Card, Super Card and Author;
496. The criteria to be a multimedia programmer- know text, animation and graphics;
497. 3 media is required for Multimedia Programming;
498. The advantage of 3D Vacillator Card in Multimedia is- Excess memory;
499. We can used Internet and Ethernet in multimedia;
500. Multimedia mainly depends on Programming;




কীভাবে এল ভালোবাসা দিবস?

দুনিয়াজুড়ে কত আনুষ্ঠানিকতাই না হয় ভালোবাসা দিবসে। কিন্তু এই দিনটি কীভাবে এল?
ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বুল্ডারের অধ্যাপক নোয়েল লেনস্কির বলেছেন, প্রায় দুই হাজার বছর আগে তৎকালীন রোমান সাম্রাজ্যে ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপন শুরু হয়। সে সময় ভালোবাসা আর প্রাচুর্যের আশায় ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হতো লুপারক্যালিয়া নামে এক উৎসব। তবে সে উদ্‌যাপনের সংস্কৃতিতে ভালোবাসার লেশমাত্র ছিল না, ছিল আদিম বর্বরতা।
ভালোবাসা দিবসের নামকরণ ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হওয়ার ক্ষেত্রে রোমানদের ভূমিকা রয়েছে। ২৭০ সালের কোনো এক সময় রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লদিয়াস সাম্রাজ্যের তরুণদের বিয়ে না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সম্রাটের আদেশ অমান্য করে ভালোবাসার বাণী প্রচার শুরু করেন ভ্যালেন্টাইন নামে এক সাধু। সম্রাটের নির্দেশ অমান্যের শাস্তিস্বরূপ সাধু ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি, পোপ গেলাসিয়াস রোমানদের বর্বর উৎসবের ইতি টানা এবং সাধু ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করার উদ্দেশ্যেই ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখকে ভালোবাসা দিবস ঘোষণা করেন। বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
অবশ্য বর্তমান যুগে ভালোবাসা দিবসকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কৃতিত্বটা শুভেচ্ছা কার্ড তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান হলমার্কের। ১৯১৩ সাল থেকে হলমার্ক যখন ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে হাজার হাজার কার্ড তৈরি শুরু করে, মূলত তখন থেকেই দিবসটির কথা ব্যাপকভাবে প্রচার পায় এবং ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের প্রতিটি দেশে।

ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও এবং হিস্ট্রি ডটকম অবলম্বনে আকিব মো. সাতিল




ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ কি ?

ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯
ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯
উন্নত বিশ্বের সরকারি সেবা ‘ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক’ বাংলাদেশে চালু হয়েছে। বিষয়টি এখনও সবার নজরে না আসলেও কাজ শুরু করেছে এক ঝাঁক তরুণ। আপনার বিপদের মূহুর্তে সহায়তা পেতে কল করুন ‘৯৯৯’ নম্বরে। কি কারণে সরকারি এই সেবা?
রাস্তায় একা একা হাঁটছেন, সন্দেহভাজন কিছু লোক আপনার পিছু নিয়েছে। এখুনি পুলিশের সহযোগিতা পেলে ভালো হত। কিন্তু আপনার কাছে নিকটস্থ থানার কারো নম্বর নেই। পুলিশের অ্যান্ড্রয়েট অ্যাপস থেকে যে নম্বরটা বের করবেন তার উপায় নেই কারণ আপনার কাছে সাধারণ ফোন! ডায়াল করুন 999 এ।
শুধু আপনার অবস্থান বলে সহযোগিতা চান, বাকি কাজটা তারাই করবে। দেখতে দেখতে পুলিশ এসে হাজির হয়ে যাবে।
মধ্যরাত। পরিবারের একজন হুট করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জরুরী অ্যাম্বুলেন্স লাগবে। পরিচিত কেউ ফোন ধরছে না। খুব বিপদ! নিশ্চিন্তে ডায়াল করুন 999 এ। অ্যাম্বুলেন্স বাসার গেট এ হাজির হয়ে যাবে।
৩. পাশের বাসায় আগুন লেগেছে? ফায়ার সার্ভিস এর ফোন নম্বর নাই? দ্রুত আগুন নেভানো দরকার। কি করবেন বুঝতে পারছেন না? নম্বর একটা জুটল কিন্তু মোবাইলে ব্যাল্যান্স শেষ! ডায়াল করুন টোল ফ্রি 999 এ। পৌঁছে যাবে ফায়ার সার্ভিস এর দল।
বিষয়টাকে ইউরোপ-আমেরিকার গল্প মনে করে ভুল করবেন না। এটা এখন বাংলাদেশের বাস্তবতা। আমরা প্রবেশ করতে যাচ্ছি নতুন এক বাংলাদেশে। যেখানে আপনার জরুরী প্রয়োজনে দিন রাত কান পেতে রয়েছে ন্যাশনাল হেল্প ডেস্কের স্বেচ্ছাসেবকরা। বিপদে ডায়াল করুন 999।
ব্যবহার বিধি:
# জরুরি সেবা নিতে যেমন পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ইত্যাদি যে কোন #মোবাইল থেকে ৯৯৯ ডায়াল করুন।
# এইটাতে ফোন করলে ব্যালেন্স কাটবে না। এই নম্বরটি টোল ফ্রি। বিনামূল্যে এই সেবা পাবেন।
# ল্যান্ডফোন থেকে কল করা যাবে না। শুধুমাত্র মোবাইল থেকে।
# দিন রাত যে কোন সময় কল করা যাবে।
# অ্যাম্বুলেন্স এর টাকা দিতে হবে। দেশের কোন সংস্থা বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়না। তাই এখানে কল করলে যে অ্যাম্বুলেন্স আসবে তাকে তার নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
# এটা সারা দেশের জন্য একটি সার্ভিস।
# কেউ ভুল তথ্য দিলে তার রেকর্ড থাকবে। যে ফোন থেকে কল আসবে সেটির বিরুদ্ধ প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
# যে কোন প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়া যাবে। রাস্তার পাশে জুয়ার আসর বসেছে? বস্তিতে আগুন লেগেছে? রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটেছে? এমন অনেক জনহিতকর ঘটনার যেকোনো তথ্য জানাতে পারবেন।
সাবধানতা:
১.ভুলেও অপ্রয়োজনে কল দিবেন না। আপনার যাবতীয় তথ্য থাকবে ডাটাবেজে। একবার “প্রাংক কলার” হিসেবে এনলিস্টেড হলে আসল বিপদে আর সাহায্য পাবেন না!
২. তুচ্ছ তথ্যের জন্য ফোন দিয়ে লাইনে ব্যস্ত না রাখাই ভালো। কে জানে আপনার চেয়ে বিপদাপন্ন একজন হয়ত ওয়েটিং এ আছেন।
৩. শিশুরা যাতে ভুলে কল না করতে পারে এই জন্য ফোন লক করে রাখুন।
৪. কল সেন্টারের কর্মী কে প্রয়োজনীয় তথ্য চাহিদা মাফিক প্রদান করুন। আপনার সকল তথ্য খুবই ‘কনফিডেনসিয়াল’ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। মনে রাখবেন, সে আপনাকে সাহায্য করার জন্যই কাজ করছে।
ইত্তেফাক/আরএ



হোটেল এবং মোটেল এর মধ্যে পার্থক্য কি জানেন?

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: হোটেল এবং মোটেল এর মধ্যে পার্থক্য টা কি টা অনেকেই জানে না। আসুন জেনে নিন!

হোটেল এবং মোটেল :-
১। হোটেল বহুতলবিশিষ্ট হয়। এখানে ঘরের দরজাগুলো দালানের ভেতরের দিকে থাকে। প্রধানত পর্যটনকেন্দ্র বা শহরের ভেতরে অবস্থিত হয়। অপরপক্ষে মোটেল সাধারণত ১-২ তলা হয়ে থাকে। ঘরগুলোর দরজা বাইরের দিকে থাকে। এর চারপাশ সাধারণ মানের ব্যালকনি বা বেড়া দিয়ে ঘেরা থাকে। মোটেল সাধারণত মহাসড়ক, গ্রাম, শহরের পাশে অবস্থিত হয়ে থাকে যেখানে একজন ভ্রমণকারী রাত কাটাতে পারেন।

২। মূল দৃশ্যগত পার্থক্য হল ঘরের দরজার দিকমুখীতা। হোটেলের প্রতিটি ঘরের দরজা হোটেলের অভ্যন্তরীণ পথের সাথে যুক্ত থাকে আর মোটেলের ঘরের দরজাগুলো সরাসরি মোটেলের পার্কিং লটের দিকে হয়ে থাকে। এই বৈশিষ্ট্য দেখে সহজেই হোটেল আর মোটেল চিহ্নিত করা যায়।

হোটেল এবং মোটেল৩। হোটেল বলতে একটি বিল্ডিংকে বোঝায় যেখানে মানুষ কক্ষ এবং খাবারের মূল্য পরিশোধ করে সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করে (ছুটি কাটানোর জন্য, জরুরী প্রয়োজনে অবস্থানের জন্য প্রভৃতি)। কিন্তু মোটেল বলতে একরকম ব্যবস্থাপনাকে বোঝায় যা সেসব লোকের থাকার জন্য তৈরী (অর্থ পরিশোধসাপেক্ষে) যারা গাড়ীতে করে ভ্রমণ করেন। এখানে কক্ষের কাছাকাছি জায়গায় গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থা থাকে।

এগুলোই হোটেল আর মোটেল এর মূল বৈশিষ্ট্য। কিছু মোটেলে ফাস্টফুড এবং টেলিফোনের ব্যবস্থা থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে হোটেলগুলোতে বিশেষ করে তারকা হোটেলগুলোতে আরো অনেক সুবিধা যেমনঃ খেলার জায়গা, ইন্টারনেট সুবিধা, সুইমিং পুল ইত্যাদি থাকে।
এমটিনিউজ২৪/টিটি/পিএস




এক নজরে জাতীয় সংসদ ভবন

এক নজরে জাতীয় সংসদ ভবন




জানার আছে অনেক কিছু

জানার আছে অনেক কিছু




গনিতের জানা অজানা তথ্য




JPEG, PNG, GIF কী?

➡ একই জিনিস একেক জনের দৃষ্টি ভঙ্গিতে একেক রকম হয়ে থাকে। যেমন সাধারন ব্যবহারকারীদের কাছে যেকোন ইমেজ ফরমেট একই রকম। এগুলোর মাঝে তারা মৌলিক কোন পার্থক্য খুঁজে পান না। কিন্তু একটু এডভান্স দিক থেকে চিন্তা করলে সবগুলো ইমেজ ফরমেট কিন্তু একই রকম না। তাদের ভেতর রয়েছে মৌলিক কিছু পার্থক্য। যার ফলে যেকোন ক্ষেত্রে ইচ্ছে মতো ইমেজ ফরমেট ব্যবহার করা যায় না। যারা ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কাজ করেন তারা নিশ্চয় ইমেজ ফরমেটগুলো বিষয়ে যথেষ্ট পরিচিত আছেন। কিন্তু যারা সাধারন কম্পিউটার ব্যবহারকারী, যাদের বিচরন ফেসবুক কিংবা ব্লগে দু’একটি লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ তাদের অবগতির জন্য আজকের টিউনের অবতারনা। আজ আমরা পরিপূর্ণ ভাবে পরিচিত ইমেজ ফরমেটগুলো (JPEG, PNG, GIF ইত্যাদি) সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো। যার ফলে আজকের টিউনের পর থেকে সব ইমেজ আপনার কাছে একই রকম মনে হবে না। আপনি খুব সহজেই ইমেজগুলোর ফরমেট দেখে তাদের বৈশিষ্ট্য বলে দিতে পারবেন এবং আপনার নির্দিষ্ট প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট ইমেজ ব্যবহার করতে পারবেন। আমি এর আগে ইমেজ ফরমেটগুলোর মতোই বিভিন্ন মিডিয়া ফাইল ফরমেট সম্পর্কে একটি মেগাটিউন করেছিলাম। আপনারা আগ্রহী হলে আমার সেই টিউনটিও এক নজরে দেখে নিতে পারেন।

JPEG – Joint Photographic Experts Group (JPG)

ডিজিটাল ইমেজের সবচেয়ে পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত ইমেজ ফরমেট হলো JPEG বা JPG ফরমেট যা উচ্চারিত হয় জে-পেগ নামে। ১৯৮৬ সালে এই ফরমেটটি তৈরী হওয়ার পর থেকেই ফটোগ্রাফি এবং ওয়েব এর জন্য সর্বাধিক পরিমাণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অধিকাংশ ডিজিটাল ক্যামেরাতে ডিফল্ট ফটো ফরমেট হিসাবে JPEG/ JPG ফরমেট দেওয়া থাকে। আপনাদের মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ক্যামেরাতে তোলা ছবিগুলোর নিশ্চয় ফরমেট চেক করে দেখেছেন? যাহোক, চলুন তাহলে এই ফরমেটটির কিছু বৈশিষ্ট্য এবং এর ব্যবহার সমূহ জেনে নেই।

JPEG/ JPG ফরমেট এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

  • অধিকাংশ ডিজিটাল ক্যামেরার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ফাইল ফরমেট হলো JPEG/ JPG এবং এটা ১৬ বিট ডাটা ফরমেট সাপোর্ট করে।
  • যখন ফাইলের কোয়ালিটির চাইতে সাইজ মূখ্য বিষয় হয়ে দাড়াবে তখন এই ফরমেট ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ কম সাইজের ইমেজের জন্য JPEG সর্বোত্তম।
  • ওয়েব সাইটে ব্যবহারের জন্য JPEG ফরমেট ইমেজকে প্রায় ৬০%-৭৫% পর্যন্ত সংকোচিত করতে পারে। ছোট ফাইল সাইজ মানেই তো দ্রুত আপলোড এবং দেখার সুবিধা।
  • মানুষের চোখ সব ধরনের কালার কম্বিনেশন দেখতে পারে না। এক্ষেত্রে JPEG ফরমেট মানুষের চোখের উপযোগি করে ইমেজ কম্প্রেস করতে পারে (অপ্রয়োজনীয় কালার গুলোকে বাদ দিয়ে)। ফলে ইমেজ এর কোয়ালিটি ঠিক মনে হলেও ফাইল সাইজ কমে যায়। যেকোন JPEG ফাইলকে কোয়ালিটি ঠিক রেখে প্রায় ৫ ভাগ সংকোচিত করা যায়।

JPEG/ JPG – সর্বোত্তম ব্যবহার

  • স্টিল ইমেজ (স্থির ছবি) তোলার ক্ষেত্রে JPEG ফরমেট সবচেয়ে ভালো।
  • জটিল কালার কম্বিনেশনের ক্ষেত্রে JPEG ফরমেট ব্যবহার করুন। কারন এক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় কালারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়ে যাবে।
  • আলো এবং অন্ধকারের শ্যাড দেওয়ার ক্ষেত্রে JPEG ফরমেট ভালো। কারন এই ইমেজে কোন ট্রান্সপারেন্সি নাই।

তবে JPEG/ JPG ফরমেট এর ইমেজকে লাইন আর্ট এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা অনুচিত। এছাড়াও যে সমস্ত ইমেজে শার্পনেস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেখানে JPEG ফরমেট খুবই বাজে পারফরমেন্স দেয়। এ সমস্ত ব্যাপারে GIF অথবা PNG ফরমেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

GIF – Graphics Interchange Format

১৯৮৭ সালে স্লো ইন্টারনেট কানেকশনে দ্রুত ইমেজ ট্রান্সফারের জন্য Wilhite নামে এক ব্যক্তি এই ইমেজ ফরমেট তৈরী করেন। তবে এর নামের উচ্চারণ নিয়ে একটু বিতর্ক আছে। কারন অনেক ইংরেজি টিউটরিয়ালে ডিজাইনারদের কাউকে জিফ আবার কাউকে গিফ উচ্চারণ করতে শুনেছি। যদিও ইংরেজি বর্ণ G এর উচ্চারণ নিয়ে অনেকেই মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়ে এর উচ্চারণ ‘জ’ হবে নাকি ‘গ’ হবে এটা নিয়ে। ইদানিং ফেসবুকে এই শব্দটির বিকৃত উচ্চারণ অনেকেই ইচ্ছেকৃত ভাবে করে আসছে। এই ধরনের উচ্চারণের অপব্যবহার ভবিষ্যতে ভাষার জন্য খুবই খারাপ প্রভাব ফেলবে। এটার সঠিক উচ্চারণ বলার আগে আপনাদের আমার ব্যক্তিগত একটি বিষয় শেয়ার করি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি G এর উচ্চারণ নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। কখন এর উচ্চারণ ‘জ’ হবে আবার কখন ‘গ’ হবে এটা নিয়ে আমার চিন্তার অন্ত ছিলো না। অবশেষে পুরো ডিকশনারীতে G এর উচ্চারণ দেখে আমি নিশ্চিত হই যে G এর পরে E, I অথবা Y থাকলে কেবল G এর উচ্চারণ ‘জ’ হয় এবং বাকি সবগুলোতে ‘গ’ হয়। এখনকার জন্য বিষয়টা হাস্যকর হলেও ১৫ বছর আগে গ্রামের প্রাইমারি পড়ুয়া একটা ছেলের জন্য বিষয়টা অন্যরকমই ছিলো। যাহোক, এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন ফরমেটটির উচ্চারণ কি হবে? চলুন তাহলে এবার এই ফরমেটটির বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে নেই।

GIF ফরমেট এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

  • এই ফরমেটে মাত্র ২৫৬ ইনডেক্সড কালার ব্যবহৃত হয়। এর ফলে এটি তুলনামূলকভাবে কম সাইজের হয়।
  • কোন লো-কোয়ালিটি ফাইলে পরবর্তি সময়ে প্রয়োজনীয় ডিটেইল যোগ করার সুযোগ রয়েছে।
  • এটা দুই ধরনের কালারকে সমন্বয় করে এক কালারে পরিনত করে ফাইল সাইজ কমিয়ে ফেলতে পারে।
  • এ ধরনের ইমেজ ফাইল পরিপূর্ণভাবে ট্রানপারেন্সি সাপোর্ট করে।
  • এই ধরনের ইমেজ এনিমেটেড হতে পারে।

GIF ফরমেট এর এর সর্বোত্তম ব্যবহার

  • স্বল্প কালারের ওয়েব গ্রাফিক্স তৈরীতে GIF ফরমেট ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • আইকন তৈরীর জন্য GIF ফরমেট কার্যকরী।
  • অ্যানিমেটেড ইমেজ তৈরীতে GIF ফরমেট আপনার একমাত্র ভরসা।
  • এছাড়াও লাইন ড্রয়িং এর জন্যও GIF ফরমেট সর্বোত্তম।

একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ডিজাইনারের একটা ভিডিও টিউটরিয়ালে তাকে বলতে শুনছিলাম যে, “আমি জানি এর সঠিক উচ্চারণ হলো জিফ কিন্তু আমি এটাকে গিফ বলেই বেশি মজা পাই”। জানার পরেও ভুল উচ্চারনের প্রতি এই ধরনের আগ্রহ আমাকে অনেক বেশি উৎসাহিত করেছিলো। এখানে মোরালটা হলো, আমার নিজের যেটা ভালোলাগে আমি সেটাই করবো। ভুল হলো না শুদ্ধ হলো সেটা যায় আসে না!

PNG – Portable Network Graphics

১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে GIF এবং JPEG এর সুবিধাগুলো সমন্বয় করে PNG ফাইল ফরমেট তৈরী করা হয় যাকে পিং কিংবা পিএনজি হিসাবে উচ্চারণ করা হয়। যদিও এখনো পর্যন্ত এই ফরমেটটি মাইক্রোসফট এর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার থেকে শুরু করে অনেক পুরাতন ব্রাউজারে পুরোপুরি সাপোর্ট করে না তবুও ফরমেটটি ট্রানপারেন্সি এবং ফাইলের কালার কম্বিনেশন এর কারনে ব্যবহারকারীদের কাছে শক্ত অবস্থান তৈরী করে ফেলেছে। তো চলুন তাহলে এই ইমেজ ফরমেট সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু ধারনা নিয়ে নেই।

PNG ফরমেট এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

  • এই ফরমেটটি ইমেজে একই সাথে ট্রান্সপারেন্সি (স্বচ্ছতা) এবং অস্বচ্ছতার বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করতে পারে।
  • প্রায় ১৬ মিলিয়ন কালার সাপোর্ট করে তাই এই ফরমেটে ফটোগ্রাফের আসল কালার পাওয়া যাবে এবং ছবি হাই কোয়ালিটির হবে।
  • সংকোচন হার খুবই সীমিত হলেও কোন ডাটা না হারিয়ে ইমেজ ফাইলকে কম্প্রেস করা যায়।

PNG ফরমেট এর এর সর্বোত্তম ব্যবহার

  • ওয়েব সাইটের লোগো এবং এমন সব ইমেজ সেখানে ট্রান্সপারেন্সি এবং ফ্যাডিং প্রয়োজন।
  • কোন ইমেজ এডিটিং এর মাঝামাঝি সময়ে সংরক্ষণ করতে চাইলে এই ফরমেটটি ব্যবহার করা ভালো।
  • যখন ফাইল সাইজের তুলনায় ফটোগ্রাফটাকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে তখন এই ফরমেটটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোন ফরমেটগুলো ব্যবহার করবেন

ফাইল ফরমেটগুলো সম্পর্কে তাত্ত্বিক আলোচনা আজকের মতো শেষ হয়েছে। এবার তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা আপনি কোন ফরমেটটি কোথায় ব্যবহার করবেন। নিচের চিত্রে সংক্ষেপে সবগুলো ফরমেট এর সর্বোত্তম ব্যবহার দেখানো হয়েছে। এখান থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন আপনার কোন প্রয়োজনের জন্য কোন ফরমেট ব্যবহার করা উচিত।

তবে এই ইমেজ ফরমেটগুলোর বাস্তব উদাহরণ এবং তুলনামূলক পার্থক্য বুঝার জন্য নিচের সারণীটি আপনাকে যথেষ্ট সাহায্য করতে পারবে বলে মনে হয়। তো ইমেজগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং তাদের মাঝের মৌলিক পার্থক্যগুলো নিজে নিজে নিরূপন করার চেষ্টা করুন। এটাই তাহলে আপনাদের জন্য হোমওয়ার্ক।

ইমেজ ফরমেট ইমেজ সাইজ ইমেজ নিদর্শন
JPG – হাই কোয়ালিটি ইমেজ 319KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
JPG – মধ্যম কোয়ালিটি ইমেজ 188KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
JPG – ওয়েব কোয়ালিটি 105KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
JPG – লো কোয়ালিটি / সংকোচিত 50KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
JPG – অত্যধিক সংকোচিত 18KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
PNG – সংকোচন ছাড়া 741KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
GIF – মাত্র ২৫৬ কালার 286KB ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ইমেজ এবং মিডিয়া ফাইলের পরিচিত সবগুলো ফরমেট সম্পর্কে আপনাদের সামান্য করে হলেও আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে ধারনা দিতে চেষ্টা করলাম। জানিনা কতোটুকু বুঝতে পারছেন, তবে আমার টিউনটি যদি আপনাদের জ্ঞানের দুয়ারে সামান্য ইন্ধন যোগাতে পারে তাহলেই আমার সকল পরিশ্রম স্বার্থক হবে। আপনাদের জ্ঞান ভান্ডারে আর কী কী অভাব অনুভব করছেন সেটা আমাকে জানাতে ভুলবেন না যেন।




আপনার ওয়েবসাইটের Add তৈরির জন্য এ এক বিস্ময় সফটওয়্যার ।

আজ আপনাদের সাথে  শেয়ার করব Gif Animation  এর একটি সফটওয়্যার যা দিয়ে আপনারা খুব সহজে আপনাদের সাইট এর জন্য অ্যাড বানাতে পারেন । এটির সাইজ ১৮ MB.

এই সফটওয়্যারটিতে অসংখ্য Animation ডিজাইন আছে যা আপনার ইচ্ছে মত (কালার, সাইজ ,চবি)পরিবর্তন করতে পারবেন । সফটওয়্যারটা মিডিয়াফায়ারে আপলোড করে দেয়া আছে । ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন ।

আপনার ডাউনলোড শেষ হলে ফাইলটিকে Unzip করুন ।

ইন্সটল করার শেষ মুহূর্তে নিচের মত একটি উইন্ডো আসলে তা uncheck করে দেবেন ।

এবার Patch.exe ফাইল টি নিচের মত করে ওপেন করুন ।

নিচের তীর চিহ্ন দেয়া বাটনে ক্লিক করুন ।

এবার Yes দেয়া বাটনে ক্লিক করুন ।

এখন My computer থেকে  c>program files >Animated Banner Maker for GIF ফাইলটি খোঁজে বের করুন ।

এবার নিচের মত gifbanner অপশন সিলেক্ট করে ওপেন এ  ক্লিক করুন ।

এখন নিচের মত Patch Done লেখাটি দেখবেন । আপনার কাজ শেষ । তারপর লাল কালার চিহ্নিত বাটনটি ক্লিক করে বের হয়ে আসুন ।

এবার হারিয়ে যান সব সীমানা ছাড়িয়ে। নিচের ছবিতে দেখুন কত গুলো অপশন আর আপনার সীমাহীন স্বাধীনতা ।

চলুন একটি ব্যানার তৈরি করি । প্রথমে যেকোন একটি ব্যানার সিলেক্ট করুন । সিলেক্ট করার পর ব্যানার build হতে একটু সময় লাগবে(নিচে ছবিতে দেখুন)। ব্যানারের ডান দিকে কিছু অপশন দেখা যাচ্ছে । যেমন

Dynamic Text

[MC2]Love Heart

[Mc3]Banner26

[Layout]500×100

Back Ground

 

উল্লেখিত অপশন গুলোতে যদি কোন পরিবর্তন আনেন তা হলে আপনাকে (উপরের চবির মত) Rebuild Banner অপশনটিতে ক্লিক করে পরিবর্তন আনতে হবে। তাছাড়া ব্যানার থেকে কোন অপশন রিমুভ করতে চাইলে যে অপশনটি রিমুভ করতে চান তা সিলেক্ট করে Remove Layer বাটনটিতে ক্লিক করলেই রিমুভ হয়ে যাবে।

আর ব্যানারে নতুন কিছু যোগ করতে চাইলে (উপরের ছবিতে ডানে  নিচের দিকে দেখুন) Insert Static Text, Insert Dynamic Text, insert Moveclip  ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন আনুসারে যোগ করতে পারেন ।

(আর একটি বিষয় হল ব্যানার বেদে অপশনের সংখ্যা কম বেশি হতে পারে।)

আপনার করা ডিজাইনটি সেভ করতে নিচের চবির মত save to GIF অপশনটিতে ক্লিক করুন । এবার ফাইলের নাম লিখে সেভ করুন ।(নিচে ছবিতে দেখুন)

আর এভাবেই নিচের সব গুলো ব্যানার তৈরি করেছি ।

 

 

চেষ্টা করব ভবিষ্যতে আপনাদের সাথে আরও নতুন নতুন  সফটওয়্যার শেয়ার করার ।

 

সবাই ভাল থাকবেন ।OK । আবারো দেখা হবে কেমন।আল্লাহ হাফেজ।




GIF কি ? GIF Animation image তৈরী করার নিয়ম

আপনি কি GIF ইমেজ তৈরী করতে পারেন? আজকে আমি দেখাব কিভাবে GIF কিভাবে GIF ইমেজ তৈরী করা যায়। অনেকেই হইতো জানেন। যারা জানেন না তাদের জন্য আজকে আমার এই পোষ্ট। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

প্রথমে এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন
এরপর স্বাভাবিক নিয়মে সেটআপ দিন।
এখন Start-All program-easy Gif animator এ যাই।
এখান সিরিয়াল কি দিয়ে Active করুন।

এখন easy gif animator ওপেন করি। এখান থেকে Animation সিলেক্ট করি।
কোন বক্স আসলে ক্লোস করে দিন।
এখন F3 চাপুন । আপনি যে ছবি গুলু আনিমেসনে রুপান্তর করতে চান সেগুলো সিলেক্ট করুন।
এখন tools-Create image infect থেকে আপনার ইচ্ছে মত ইফেক্ট দিন।
Animation-preview থেকে প্রিভিউ দেখে নিন।
এখন File-Save থেকে আপনার তৈরী Animation টি সেভ করুন।
এরপর ইমেজ টি ওপেন করে দেখুন।
এ ছারাও আপনি এর সাহায্যে যে কাজ গুলুকরতে পারবেন সেগুলু হল
* Animation Banner.
* Animation Button.
* Preview GIF animation in web browser.
* Add sound to your animation.
* Save animation in SWF Flash format.
* Use GIF, JPG, PNG and BMP images in your animation.
* Create animated GIF images from scratch.
* Edit and modify animated GIF images.
* Create moving text effects.
সহ আরো অনেক কিছু।
এখানে আমি সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছি।
ভালো লাগলে জানাবেন।

http://mobi.techtunes.com.bd/download/tune-id/316439




ফেসবুকে লগ আউট করতে ভুলে গেলে কী করবেন?

অন্য কারও মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহারের পর লগ আউট করতে ভুলে গেছেন? চিন্তা নেই, আপনি দূর থেকেই লগ আউট করতে পারেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্য কারও যন্ত্রে লগ আউট করতে ভুলে গেলে তা প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য হুমকি হতে পারে। এ ছাড়া সাইবার ক্যাফের মতো কোনো স্থানে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারের পর লগ আউট করতে ভুলে গেলে, তা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।

দূর থেকে ফেসবুকে লগ আউট করার সহজ একটি প্রক্রিয়া আছে। কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে যে যে যন্ত্র থেকে লগ আউট করা হয়নি, তা করা যাবে।
১. ফেসবুক মেনু থেকে সেটিংস অপশনে যান এবং তা নির্বাচন করুন।

২. বাম পাশে সিকিউরিটি বাটন পাবেন, এতে ক্লিক করুন।

৩. একবার সিলেক্ট করার পর ডানদিকে কতগুলো অপশন পাবেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘হয়্যার ইউ আর লগড ইন’ অপশন। এই অপশনটির পাশে এডিট বাটন পাবেন।

৪. এডিট বাটনে চাপ দিন।

৫. এবার আপনি বর্তমান ফেসবুক ব্যবহারের সময়, স্থান ও যন্ত্রের ধরন প্রভৃতি লগ পাবেন। প্রতিটি অপশনের পাশে ‘এন্ড অ্যাকটিভিটি’ নামের বাটন পাবেন।

৬. যে যন্ত্র থেকে লগ আউট করতে চান, তা ‘এন্ড অ্যাকটিভিটি’ বাটনটিতে চাপ দিয়ে লগ আউট করতে পারবেন। আগে যতগুলো ডিভাইসে লগ ইন করা ছিল, এখান থেকে তা বন্ধ করে দিতে পারবেন।




পিডিএফ ফাইল কি? জানেন কি ?

পিডিএফ ফাইল কি? পিডিএফ রীড, এডিট, সিকিউরিটি, পাসওয়ার্ড ক্র্যাক; সবকিছু! পিডিএফ কেন এখনো গুরুত্বপূর্ণ?

পিডিএফ ফাইল—সর্বপ্রথম অ্যাডোবি দ্বারা উন্নতি করা হয়েছিলো, তারা সর্বপ্রথম ডট পিডিএফ এক্সটেনশনের ডকুমেন্ট ফাইল সামনে নিয়ে আসে, যেটার সম্পূর্ণ অর্থ হচ্ছে, পোর্টেবল ডকুমেন্ট ফরম্যাট ফাইল। পিডিএফ সত্যিই এক শক্তিশালী ডকুমেন্ট ফাইল ফরম্যাট, যেটা শুধু টেক্সট আর ইমেজ নয় বরং ইন্টারেক্টিভ বাটন, হাইপারলিঙ্ক, এম্বেড করা ফন্ট, ভিডিও, এবং আরো অনেক কিছু ধারণ করতে পারে। আপনি হয়তো প্রায়ই প্রোডাক্ট ডকুমেন্ট, জব লেটার, ই-বুক, স্ক্যান করা ডকুমেন্ট, এবং আরো আলাদা ডকুমেন্ট গুলোকে পিডিএফ ফরম্যাটে থাকতে দেখেন। কেনোনা পিডিএফ বহুল জনপ্রিয় একটি ডকুমেন্ট আর আজও এর বিস্তর ব্যবহার রয়েছে।

পিডিএফ

পিডিএফ বর্তমানে অফলাইন এবং অনলাইন দুই স্থানেই ব্যাপক জনপ্রিয়। যখন এই ফাইল এক্সটেনশনটি প্রথম উদ্ভাবিত হয়, ১৯৯০ সালে, তখন ইন্টারনেট কেবল শিশু পর্যায়ে ছিল। সে সময় বিশেষ করে অফলাইনে এই ফাইল ফরম্যাট অত্যাধিক ব্যবহৃত হতো। অফলাইন ডকুমেন্ট প্রিন্টিং, টিউনার, বা ডেক্সটপ থেকে যেকোনো ডকুমেন্ট প্রিন্টিং এর ক্ষেত্রে পিডিএফ ব্যবহৃত হতো।

তবে আজকের দিনে পিডিএফ যতোটা পাওয়ার ফুল সাথে যতো প্রকারের জিনিষ পিডিএফ এ ধারণ করা যায়, শুরুর দিকে পিডিএফ এ এতোকিছু ধারণ করা যেতো না। সাথে পিডিএফ এর সাথে সমস্যা ছিল, বড় ডকুমেন্ট ফাইল গুলো অনেক বড় সাইজের ছিল সাথে অনেক স্লো ছিল, ফাইল গুলো ওপেন হতে আর পড়তে সিস্টেমের বারোটা বেজে যেতো।

কয়েক বছর পরে অ্যাডোবি, পিডিএফ ফাইলের জন্য ফ্রী পিডিএফ রিডার রিলিজ করে, তারপর থেকে পিডিএফ একটি গুড ডকুমেন্ট ফাইল স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে পরিচতি পায় এবং অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইল ফরম্যাটকে পেছনে ফেলে দেয়। প্রথমের দিকে পিডিএফ’কে শুধু অ্যাডোবি নিজেই নিয়ন্ত্রন করবে, অর্থাৎ এটি কিভাবে কাজ করবে বা এতে কি ফিচার আনা হবে বা এটা কিভাবে পড়া হবে, সেটা শুধু মাত্র অ্যাডোবি’র হাতে ছিল।

কিন্তু পরে অ্যাডোবি পিডিএফকে ওপেন স্ট্যান্ডার্ড করে দেয়, এর জন্য আজ শতশত আলাদা পিডিএফ রিডার দেখতে পাওয়া যায়। আজকের মেজর ইন্টারনেট ব্রাউজার গুলো ডিফল্টভাবে পিডিএফ ডকুমেন্ট রীড করতে পারে। তাই গুগল ক্রোম ইন্সটল থাকলে, আর আলাদা পিডিএফ রিডারের দরকার নেই আপনার।

কিভাবে পিডিএফ ফাইল খুলবেন?

পিডিএফ ফাইল ওপেন করার চিন্তা করতেই অবশ্যই আপনার মাথায় প্রথমে আসে যেকোনো পিডিএফ রিডারের কথা, তাই না? অ্যাডোবি’র নিজস্ব প্রোডাক্ট, পিডিএফ রিডার অনেকটা দক্ষ প্রোগ্রাম, পিডিএফ ফাইল ওপেন করার জন্য। কিন্তু আরো অনেক পিডিএফ রিডার বর্তমান মার্কেটে মজুদ রয়েছে, এদের মধ্যে অনেকেরই অঝথা ফিচারে ভর্তি, যেগুলো সত্যিই আপনার কাজে লাগবে না।

আজকের দিনের বেশিরভাগ ওয়েব ব্রাউজার যেমন- ক্রোম, ফায়ারফক্স, মাইক্রোসফট এজ —কোন প্রকারের আলাদা এক্সটেনশন ব্যাতিত পিডিএফ ফাইল ওপেন করতে পারে। আপনি অনলাইন থেকে কোন পিডিএফ ডাউনলোড করতে গেলে লক্ষ্য করে থাকবেন হয়তো, সেগুলো সরাসরি ওপেনই হয়ে যায়।

যেহেতু আজকের ওয়েব ব্রাউজার গুলো সরাসরি পিডিএফ ফাইল রীড করতে পারে, তাই এই পয়েন্টে আমি অ্যাডোবি পিডিএফ রিডার ইন্সটল করারও প্রয়োজন বোধ করি না। কিন্তু আপনি যদি পিডিএফ রীড করা ছাড়াও আলাদা ফিচার গুলো পেতে চান, সেক্ষেত্রে অ্যাডোবি পিডিএফ রিডার বা আলাদা পিডিএফ রিডার সফটওয়্যার গুলো ইন্সটল করতে পারেন। আমি রেকমেন্ড করবো Sumatra PDF রিডার সফটওয়্যার’টি ব্যবহার করতে, এটি সত্যি ফ্রী আর পাওয়ারফুল!

কিভাবে পিডিএফ ফাইল এডিট করবেন?

অ্যাডোবি অ্যাক্রোব্যাট পিডিএফ এডিট করার জন্য সবচাইতে জনপ্রিয় সফটওয়্যার। কিন্তু আপনি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করেও পিডিএফ এবং আলাদা এক্সটেনশনের ডকুমেন্ট ফাইল এডিট করতে পারবেন। তাছাড়া আরেকটি সফটওয়্যার পিডিএফ এডিটর হিসেবে বেশ জনপ্রিয়, ফ্যানটম পিডিএফ! এটাও ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

শুধু ডেক্সটপ সফটওয়্যার নির্ভর পিডিএফ এডিটর নয়, অনেক অনলাইন নির্ভর পিডিএফ এডিটর রয়েছে, ব্যাস আপনার ফাইলটি অনলাইনে আপলোড করে দিন, এর পরে এডিট করে আবার কম্পিউটারে ডাউনলোড করে নিন, এতোটাই সহজ! FormSwift’s Free PDF Editor, PDFescape, DocHub, এবং PDF Buddy ফ্রী অনলাইন এডিটর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

নোটঃ যদি আপনারা চান, সেক্ষেত্রে আমি পিডিএফ ফাইল এডিট করার বিস্তারিত টিউটোরিয়াল পাবলিশ করবো, তবে সেটা আমাকে নিচে টিউমেন্ট এর মাধ্যমে রিকোয়েস্ট করতে হবে।

কিভাবে পিডিএফ ফাইল কনভার্ট করবেন?

অনেকে পিডিএফ ফাইলকে আলাদা ডকুমেন্ট ফাইলে কনভার্ট করতে চায়, যাতে তারা সেটাকে আলাদা আলাদা ভাবে এডিট করতে পারে, এবং কাজ করিয়ে নিতে পারে সেই পিডিএফ থেকে। পিডিএফ কনভার্ট করা মানে সেই ফাইলকে শুধু পিডিএফ রিডার নয়, আলাদা সফটওয়্যার প্রোগ্রাম ব্যবহার করেও যাতে এডিট করা যায়।

যেমন অনেকে পিডিএফ ফাইলকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্ট ফাইল ডট ডিওসি বা ডিওসিএক্স ফরম্যাটে কনভার্ট করতে চায়। এতে ফাইলটি শুধু অফিস ওয়ার্ড বা অ্যাডোবি ফটোশপ নয়, বরং OpenOffice এবং LibreOffice দ্বারাও ওপেন করা যাবে।

এই প্রোগ্রাম গুলোর সাহায্যে পিডিএফ’কে ওপেন করার মাধ্যমে পিডিএফ ফাইলকে আরো বিস্তারিতভাবে এডিট করা যাবে। তাই অবশ্যই ফাইল কনভার্ট করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যদি আপনি সরাসরি পিডিএফ ফাইলকেই এডিট করতে চান, সেক্ষেত্রে আমি উপরে তো কিছু সলিউসন লিখেই দিয়েছি।

শুধু পিডিএফ থেকে আলাদা ফরম্যাটে নয়, আলাদা ফরম্যাট ফাইলকেউ পিডিএফ ফাইলে কনভার্ট করতে পারেন। আপনি যেকোনো মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্ট, ইমেজ, টেক্সট সবকিছুকেই পিডিএফ ফরম্যাটে কনভার্ট করতে পারবেন। কিছু কিছু প্রোগ্রাম একসাথে সবকাজই করে দিতে পারে, যেমন আপনি একসাথে পিডিএফ কনভার্ট করতে পারবেন, আলাদা ফরম্যাট ফাইলকে পিডিএফ বানাতে পারবেন, আবার পিডিএফ এডিটও করতে পারবেন। Calibre —কে আপনি এই ধরণের প্রোগ্রামের উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন, এটি ইবুক ফরম্যাট থেকে পিডিএফ কনভার্ট করতে পারে আবার পিডিএফ থেকে ইবুকে কনভার্ট করতে পারে।

পিডিএফ ফাইল সিকিউরিটি

পিডিএফ ফাইলের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সিকিউরিটি ফিচার, আপনি একে পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড বানাতে পারবেন, অর্থাৎ ফাইলটি ওপেন করার জন্য, এডিট করার জন্য, টিউমেন্ট যোগ করার জন্য, পেজ যোগ করার জন্য পাসওয়ার্ড প্রয়োজনীয় হবে। এতে আপনার ডকুমেন্ট ফাইলকে সিকিউর বানানো যাবে।

অনেক সফটওয়্যার প্রোগ্রাম রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আপনি ফাইলকে পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড বানাতে পারবেন। পিডিএফ প্রটেক্ট ব্যবহার করে আপনি যেকোনো পিডিএফ’কে পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড বানাতে পারবেন। যাই হোক, এখানে আরেকটি সমস্যা রয়েছে, যদি আপনি পিডিএফ ফাইল পাসওয়ার্ড নিজেই ভুলে যান, সেক্ষেত্রে আপনি নিজের ফাইলের উপর নিজেই অ্যাক্সেস হারিয়ে ফেলতে পারেন, আর এটা সত্যিই বিরাট মাথা ব্যাথায় পরিনত হতে পারে। তাই, দুর্ভাগ্যবসত পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে পিডিএফ ক্র্যাক, জিইউএ পিডিএফ, ফ্রী মাই পিডিএফ (অনলাইন টুল)  —এই টুল গুলো ব্যবহার করে সহজেই পিডিএফ পাসওয়ার্ড রিকভার করতে পারবেন!

নোটঃ যদি আপনারা চান, সেক্ষেত্রে আমি পিডিএফ ফাইল পাসওয়ার্ড ক্র্যা*ক করার বিস্তারিত টিউটোরিয়াল পাবলিশ করবো, তবে সেটা আমাকে নিচে টিউমেন্ট এর মাধ্যমে রিকোয়েস্ট করতে হবে।

কেন এখনো পিডিএফ গুরুত্বপূর্ণ?

পিডিএফ এখনো সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক জনপ্রিয়, এর সবচাইতে বড় কারন হচ্ছে পোর্টাবিলিটি। আরেকটি ব্যবহার হচ্ছে, আপনি কোন ডিভাইজ থেকে ফাইলটি দেখবেন সেটা কোন ব্যাপার না, আপনি কম্পিউটার থেকে দেখেন, মোবাইল থেকে দেখেন, ট্যাবলেট থেকে দেখেন, সব জায়গাতে সমান এক্সপেরিয়েন্স এবং সমান দক্ষতা দেখতে পাবেন। আপনি পিডিএফ ফাইলে কোন ফন্ট ব্যবহার করেছেন, সেটা যদি আলাদা কোন কম্পিউটারে ইন্সটল নাও থাকে, তারপরেও সমস্যা নেই, কেনোনা ফন্ট পিডিএফ’এ নিজে থেকে এমবেড করা থাকে, তাই নো প্রবলেম।

তাছাড়া চিন্তা করে দেখুন ডকুমেন্ট শেয়ারিং এর কথা, আপনি কাউকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্ট সেন্ড করলেন, অবশ্যই তার কম্পিউটারে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা আলাদা ডকুমেন্ট ভিউয়ার সফটওয়্যার ইন্সটল থাকতে হবে, যদিও গুগল ডকস ব্যবহার করেও ওয়ার্ড ফাইল অ্যাক্সেস করা যায়, কিন্তু সেটা অনেকেই জানে না। ব্যাট যদি কথা বলি পিডিএফ নিয়ে, সেক্ষেত্রে যে ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে ফাইলটি ডাউনলোড করেছেন, সেখানেই আরামে ভিউও করতে পারবেন, নো আলাদা টেনশন!


তো আপনি কতোটা পিডিএফ ফাইলের ভক্ত বা কতোবার পিডিএফ ফাইল ব্যবহার করেন? নাকি ওয়ার্ড ফাইলকে আপনি প্রাইমারী ডকুমেন্ট ফাইল হিসেবে ব্যবহার করেন? আমাদের সবকিছু নিচে টিউমেন্ট করে জানিয়ে দিন। আপনার পিডিএফ ফাইল পাসওয়ার্ড কি আপনি ভুলে গেছেন? নিচে টিউমেন্ট করে জানান, অথবা আপনি আলাদা ডকুমেন্ট এক্সটেনশন ফাইল ব্যবহার করলে, সেটা কেন ব্যবহার করেন,




কুকিজ কি ? বিভিন্ন ব্রাউজারের কুকিজ যেভাবে ডিলিট করবেন

কুকিজ হলো ছোট এক ফাইল, যেগুলো ব্যবহারকারীর কমপিউটারে স্টোর হয়। এগুলোকে ডিজাইন করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট ক্লায়েন্ট ও ওয়েবসাইটের পরিমিত মাত্রায় ডাটা ধারণ করার জন্য এবং যেখানে অ্যাক্সেস পাওয়া যায় ওয়েব সার্ভার অথবা ক্লায়েন্ট কমপিউটারের মাধ্যমে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ব্যবহারকে ট্র্যাক করার জন্য কুকিজ নামের ছোট ডাটা ফাইল ব্যবহার হয়। এটি সার্ভারকে সুনির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর কাছে সুসজ্জিত পেজ ডেলিভার করা অনুমোদন করে অথবা পেজ নিজেই ধারণ করে কিছু স্ক্রিপ্ট, যা কুকিজের ডাটা সম্পর্কে সচেতন ও ওয়েবসাইটে এক ভিজিট থেকে পরবর্তী ভিজিটের তথ্য বহন করতে সক্ষম।
যখনই একটি নতুন ওয়েব পেজ লোড হয়, সাধারণত তখনই কুকিজে ডাটা রাইট করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘submit’ বাটন চাপার পর কুকিজে ভ্যালু স্টোর করার জন্য ডাটা হ্যান্ডলিং পেজ হবে রেসপন্সিবল।
সহজ কথায়, কুকিজ হলো আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারকে ট্র্যাক করার জন্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহার হওয়া ছোট ডাটা ফাইল, যা উপস্থাপন করে কমপিউটারে কোনো হুমকি নেই। তবে যাই হোক, কোনো কোনো কুকিজ আপনার প্রাইভেসির সাথে কম্প্রোমাইজ করতে পারে। কুকিজ পারমাণে অল্প হলেও কিছু স্পেস ব্যবহার করে। অবশ্য এটি নির্ভর করে আপনার অপারেটিং সিস্টে কীভাবে স্টোর হবে এবং ডাটা কীভাবে রিস্টোর হবে তার ওপর। অ্যাডভার্টাইজিং কোম্পানিগুলো সচরাচর ওয়েব অ্যাডভার্টাইজমেন্টের সাথে কুকিজ অ্যামবেড করে দেয়, যাতে সেগুলো সহজে আপনার ব্রাউজিং হিস্ট্রিকে ট্র্যাক করতে পারে এবং স্বতন্ত্র অভ্যাসে অ্যাডগুলো সুসজ্জিত করতে পারে।
যে কারণে কুকিজ ব্যবহার হয়
ওয়েবসাইটের এক সেশন থেকে আরেক সেশনের অথবা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের সেশনের মাঝে সার্ভার মেশিনের জন্য বোঝা না হয়ে বিপুল পরিমাণে ডাটা স্টোরেজে তথ্য বহন করার সহজ ও সুবিধাজনক উপায় হলো কুকিজ। কুকিজ ব্যবহার না করে সার্ভারে ডাটা স্টোর করা সমস্যাদায়কও হতে পারে। কেননা, ওয়েবসাইটে প্রতিটি ভিজিটে লগইনের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই বিশেষ কোনো ব্যবহারকারীর তথ্য পুনরুদ্ধার তথা রিট্রাইভ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এ লেখায় ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে কুকিজ সেটিং কাস্টমাইজ করার বিভিন্ন উপায় ও ডাটা ক্লিন করার অ্যাপ যেমন সিক্লিনারসহ ক্রোম, ফায়ারফক্স, সাফারি, মাইক্রোসফট এজ ও অপেরা দিয়ে কুকিজ ডিলিট করার সংক্ষিপ্ত খসড়া গাইড তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের মনে রাখা দরকার, কুকিজের রয়েছে কিছু বৈধ ফাংশন। ওয়েবসাইট সেগুলো ব্যবহার করে লগইন অ্যাক্টিভিটি ও ডাটা ট্র্যাক করার জন্য, যা তাদের ফাংশনালিটিতে অপরিহার্য হতে পারে। আসলে কোনো কোনো সাইট এগুলো ছাড়া যথাযথভাবে কাজ করতে পারে না।
গুগল ক্রোম
গুগল ক্রোম ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই ডিলিট করতে পারেন কুকিজ, ব্রাউজিং ডাটা ও নির্দিষ্ট যে ধরনের ফাইল ক্রোমের অনুমোদন করা অথবা ব্লক করা উচিত সেগুলো।
অ্যাক্সেস কনটেন্ট সেটিংস : উপরে ডান প্রান্তে Menu ট্যাবে ক্লিক করে Settings সিলেক্ট করুন। এবার এখান থেকে মেনুর নিচে Show Advanced Settings সিলেক্ট করার পর Content Settings সিলেক্ট করুন।
আপনি অ্যাড্রেস বারে chrome://chrome/settings/content টাইপ করাকে সহজতর করতে পারবেন এবং ক্রোম আপনাকে উদ্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যাবে।
চিত্র : ক্রোমে সেটিং অপশন
কুকিজ ম্যানেজ করা : কুকিজ নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে ক্রোমের চারটি অপশন পাবেন। আপনি বিচক্ষণতা ছাড়াই সব কুকিজ স্টোর করতে পারবেন, সব কুকিজ স্টোর হলেও ব্রাউজার বন্ধ করলেই সেগুলো ডিলিট হয়ে যাবে, সম্পূর্ণরূপে কুকিজ ব্লক হবে (বিশেষজ্ঞেরা এ কাজটি রিকোমেন্ড করেন না) এবং ব্লক করবে থার্ডপার্টি ট্র্যাকিং কুকিজ। ক্রোম ওপরে উল্লিখিত সেটিংগুলোর ব্যতিক্রম ম্যানেজ করা অনুমোদন করে। এটি সহায়ক হতে পারে সুনির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের জন্য অটো-ফিল তথ্য ধারণ করার ক্ষেত্রে, যখন সেগুলো ডিলিট করা হবে।

চিত্র : কুকিজ অপশন
কুকিজ ডিলিট করা : কুকিজ ডিলিট করার জন্য All cookies and site data-এ ক্লিক করুন আপনার হার্ডড্রাইভে ক্রোম ব্রাউজারের স্টোর করা সব কুকিজের লিস্ট দেখার জন্য। এখান থেকে আপনি সুনির্দিষ্ট স্বতন্ত্র ফাইল ডিলিট করতে পারবেন অথবা সবকিছুই ডিলিট করতে পারবেন Remove All সিলেক্ট করার মাধ্যমে।

চিত্র : কুকিজ অ্যান্ড সাইড ডাটা অপশন
অ্যান্ড্রয়িড, আইওএসের জন্য
ক্রোম মেনুতে অ্যাক্সেস করে Settings-এ যান। এরপর অ্যাডভান্সড সেটিংয়ের অন্তর্গত Privacy ট্যাব খুঁজে বের করুন। এরপর সেখান থেকে Clear Browsing Data সিলেক্ট করুন এবং Clear cookies/site data যেমন চেক করে দেখতে পারবেন, তেমনি হার্ডড্রাইভ থেকে যা খুশি তাই মুছে ফেলতে পারবেন।
মজিলা ফায়ারফক্স
বাইডিফল্ট ফায়ারফক্স সব কুকিজ এক্সসেপ্ট করে নেয় তথা মেনে নেয়। আসলে মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজার অফার করে ক্রোম ব্রাউজারের চেয়ে বেশি অপশন, বিশেষ করে ওপরে উল্লিখিত সেটিংগুলো কাস্টমাইজ করার ক্ষেত্রে।
কাস্টম সেটিংসে অ্যাক্সেস করা : Tools মেনুতে ক্লিক করে ড্রপডাউন মেনু থেকে Options সিলেক্ট করুন। এবার Privacy ট্যাবে নেভিগেট করুন এবং History-এর অন্তর্গত ফায়ারফক্সকে Use custom settings for history-এ সেট করুন।

চিত্র : ফায়ারফক্সে প্রাইভেসি সেট করা
কুকিজ ম্যানেজ করা
ফায়ারফক্সে কুকিজ ম্যানেজ করার জন্য ব্যবহারকারীকে বেশ কিছু অপশন দেয়া হয়েছে। আপনি ইচ্ছে করলে পুরাদস্ত্তরভাবে কুকিজ এক্সসেপ্ট বা ব্লক করতে পারবেন, ব্লক করতে পারবেন থার্ডপার্টি কুকিজ বা স্পেসিফিক থার্ডপার্টি কুকিজ, যেগুলো আপনার ভিজিট করা কোনো সাইট থেকে আসেনি অথবা যখনই এটি একটি কুকি স্টোর করতে চাইবে, তখনই ফায়ারফক্স আপনার পারমিশনের জন্য প্রম্পট করবে। এ সেটিংয়ের অন্তর্গত ফায়ারফক্স রান করালে দৃষ্টিগোচরীভূত হয় কুকির ব্যবহার কত সর্বব্যাপী হয়ে পড়েছে।

চিত্র : ফায়ারফক্সে প্রাইভেসি অপশন
কুকিজ ডিলিট করা
কুকিজ ডিলিট করার জন্য Show Cookies-এ ক্লিক করুন, যা আবির্ভূত হবে যখন আপনার ব্রাউজার হিস্ট্রির জন্য কাস্টম সেটিংস এনাবল করবেন। এখান থেকে আপনি ফায়ারফক্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করা কুকিজের লিস্ট জুড়ে স্ক্রল করতে পারবেন। এবার স্বতন্ত্রভাবে সেগুলো ক্লিয়ার করতে পারবেন অথবা গ্রুপ হিসেবে সব অপসারণ করতে পারবেন।

চিত্র : কুকিজ অপশন
ফায়ারফক্স (আইওএস)
ওপরে ডান প্রান্তে New Tab বাটনে ট্যাব করুন। এবার স্ক্রিনে ওপরে বাম প্রান্তে কগ বাটনে ট্যাপ করুন। এবার Clear private data-এ স্ক্রলডাউন করুন। পরবর্তী স্ক্রিনে Cookies সিলেক্ট করা আছে কি না তা নিশ্চিত করুন। এরপর Clear Private Data-এ ট্যাপ করুন।
সাফারি
সাফারি শুধু আপনার ভিজিট করা ওয়েবসাইট থেকে কুকিজ স্টোর কওে, যা ওয়েব ব্রাউজার ক্রোম ও ফায়ারফক্সের মতো নয়। তবে খুব সহজেই সাফারির সেটিং পরিবর্তন করার জন্য আপনাকে সুযোগ করে দেবে। যেহেতু সাফারির উইন্ডোজ ভার্সন ডিসকন্টিনিউ তথা চলা বন্ধ হয়ে গেছে, তাই এ লেখায় আলোকপাত করা হয়েছে ম্যাক ওএস ভার্সনের আলোকে।
অ্যাক্সেস প্রাইভেসি সেটিংস
ওপরে বাম প্রান্তে Safari মেনুতে ক্লিক করুন এবং Preferences-এ স্ক্রলডাউন করুন। এর বিকল্প হিসেবে একই মেনুতে Clear History বেছে নিন এবং আপনি ইচ্ছে করলে সবকিছুই ডিলিট করে দিতে পারবেন বিভিন্ন ধরনের টাইম ফ্রেমের মধ্যে। কি ডিলিট করতে হবে, তার ওপর যদি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান, তাহলে Preferences অপশন বেছে নিন।

চিত্র : ম্যাক ওএসের সাফারি অপশন
সেটিং ম্যানেজ করা
Privacy সেকশনে সাফারি কুকিজ এক্সসেপ্ট করবে কি করবে না, তা ডিকটেড করার জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন Cookies and website data অপশন। আপনি সব এক সাথে এক সময় অপসারণ করার জন্য Remove All Website Data অপশন ব্যবহার করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে ব্রাউজারে স্টোর হওয়া প্রতিটি কুকিজের একটি স্বতন্ত্র লিস্ট দেখার জন্য Details-এ ক্লিক করুন।

চিত্র : কুকিজ সেটিং ম্যানেজ করা
কুকিজ ডিলিট করা
ম্যাক ওএস সাফারির স্বতন্ত্র কুকিজ ডিলিট করার জন্য Privacy ট্যাবের অন্তর্গত Details-এ ক্লিক করুন। সেখান থেকে সুনির্দিষ্ট কুকিজ খুঁজে নিন এবং সে অনুযায়ী সেগুলো ডিলিট করে দিন।

চিত্র : কুকিজ ডিলিট করা
সাফারি (আইওএস)
ম্যাক ওএস Settings-এ গিয়ে Safari সিলেক্ট করুন। সব কুকিজ ডিলিট করার জন্য Clear History and Website Data-এ ট্যাব করুন। একটি সুনির্দিষ্ট কুকিজ ডিলিট করার জন্য Advanced-এ ট্যাব করুন। এরপর আপনার ফোনে স্টোর হওয়া কুকিজের লিস্ট তুলে ধরার জন্য Website Data-এ ট্যাব করুন। এখান থেকে Edit-এ চাপুন। এরপর আপনি যে সুনির্দিষ্ট কুকিজ অপসারণ করতে চান, তার পাশে লাল বর্ণে ট্যাপ করে তা ডিলিট করুন।
এজ
এজ হলো মাইক্রোসফটের তৈরি সর্বাধুনিক ওয়েব ব্রাউজার, যা ইন্টারনেট এক্সপেস্নারারের প্রতিস্থাপিত ওয়েব ব্রাউজার।
কুকিজে অ্যাক্সেস : এজ ব্রাউজার ওপেন করে উপরে ডান প্রান্তে হরাইজন্টাল তথা আনুভূমিক তিন ডটে ক্লিক করুন। যখন ডান দিকের বার ওপেন হবে, তখন Clear Browsing Data-এ স্ক্রলডাউন করে Clear Browsing Data-এ ক্লিক করুন।

চিত্র : কুকিজে অ্যাক্সেস করা
কুকিজ ম্যানেজ ও ডিলিট করা : পরবর্তী স্ক্রিনে নিশ্চিত করুন যে Cookies & Saved Website Data অপশন চেক করা আছে। এরপর Clear-এ ক্লিক করুন।

চিত্র : কুকিজ ম্যানেজ ও ডিলিট করা
অপেরা
যদি আপনি ক্রোমে কুকিজ ডিলিট করে থাকেন, তাহলে ব্রাউজার অপেরায় কুকিজ ডিলিট করার প্রসেসটি আপনার কাছে পরিচিত মনে হলেও এটি আরও বেশি সহজ। লক্ষণীয়, এ কথাটি অপেরা ব্রাউজারের সর্বাধুনিক ভার্সনের জন্য প্রযোজ্য। আগের ভার্সনে নেভিগেট করা কিছুটা ভিন্ন। সুতরাং এ বিষয়টি মনে রাখা দরকার সব ব্যবহারকারীর।
কুকিজে অ্যাক্সেস করা : Opera Menu-তে গিয়ে সিলেক্ট করুন Settings, যা ওপেন করবে আরেকটি সাইডবার মেনু। এরপর Privacy & Security অপশন সিলেক্ট করুন।

চিত্র : অপেরা ব্রাউজারের মেনু অপশন
এরপর পরবর্তী উইন্ডোতে স্ক্রলডাউন করতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি Cookies-এর হেডারে পৌঁছেছেন। কুকিজ হেডারে পৌঁছানোর পর All cookies and site data সিলেক্ট করুন।
কুকিজ ম্যানেজ ও ডিলিট করা : ওপরে ডান প্রান্তে দেখতে পাবেন Delete all অপশন। তাৎক্ষণিকভাবে সব কুকিজ ডিলিট করার জন্য এ অপশনটি সিলেক্ট করুন। এ কাজ করার জন্য স্ক্রলডাউন করুন এবং যদি সমর্থন করেন তাহলে স্বতন্ত্র ওয়েবসাইটের জন্য কুকিজ ডিলিট করুন।

চিত্র : কুকিজ ডিলিট করা
সিক্লিনার
ওপরে উল্লিখিত উপায়গুলো ছাড়াও সহজেই কুকিজ ডিলিট করার জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু অ্যাপস ও প্লাগইন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো সিক্লিনার, যা ক্র্যাপ ক্লিনার (Crap Cleaner) নামের টুলের সংক্ষিপ্ত রূপ। সিক্লিনার একটি শক্তিশালী টুল। এটি ফ্রি ডাউনলোড করে নিয়ে আপনার হার্ডড্রাইভের অতিরিক্ত ফাইল পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন, যা সাধারণত ওয়েব ব্রাউজার ও অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তৈরি হয়। যখনই কুকিজ ডিলিট করার প্রসঙ্গটি আসে, তখনই সিক্লিনার টুলের কথাটি বিশেষভাবে আসে। সিক্লিনার টুলটি শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্রাউজারে স্টোর হওয়া ফাইলই ডিলিট করে না, বরং ডিস্ক জুড়ে কাজ করতে পারে। সিক্লিনার টুলটি কোনো প্রোগ্রাম যেমন আনইনস্টল করতে পারে, তেমনি রেজিস্ট্রি ইস্যুও ফিক্স করতে পাওে, যা একটি বাড়তি সংযোজন।




ইন্টারনেটে সমস্যা হতে পারে সোমবার থেকে

দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪) মেরামতকাজের জন্য রোববার মধ্যরাত থেকে তিন দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। ব্যান্ডউইটথের ঘাটতির কারণে ইন্টারনেটের গতি এ সময়ে কম হতে পারে। সাবমেরিন কেবলের মালিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএসসিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি চালু হওয়া দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) ও ভারত থেকে আমদানি করা ব্যান্ডউইটথ দিয়ে ইন্টারনেট ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইটথের দৈনিক চাহিদা ৪৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট প্রতি সেকেন্ড)। এর মধ্যে প্রথম সাবমেরিন কেবল থেকে ২৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইটথ পাওয়া যায়। বাকি ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইটথ ভারত থেকে আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল) কোম্পানির মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

বিএসসিসিএল এখন পর্যন্ত দুবার প্রথম সাবমেরিন কেবলের মেরামতকাজের তারিখ পিছিয়েছে। এর আগে প্রথম ২২ সেপ্টেম্বর থেকে মেরামত শুরু করার কথা থাকলেও পরে আরেক দফা সময় বদল করা হয়। এই কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারে অবস্থিত। ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরে একটি রিপিটার প্রতিস্থাপনের জন্য এ মেরামতকাজ চলবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ২০০৫ সালে প্রথম সাবমেরিন কেবলের (সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডিল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-৪) সঙ্গে সংযুক্ত হয়। ২০০৫ সালে চালুর পর প্রথমবারের মতো এ সাবমেরিন কেবল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে এর মেরামত করা হবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল।

জানতে চাইলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, মেরামতকাজের জন্য প্রথম সাবমেরিন কেবল বন্ধ থাকার বিষয়টি বিএসিসিএল থেকে জানানো হয়েছে। এতে দেশের ইন্টারনেটের গতির ওপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তবে তা সাময়িক সময়ের জন্য।




‘ব্লু হোয়েল গেম’ থেকে কিভাবে বিরত থাকবেন ?

অবসরে স্মার্টফোনে গেম খেলার পরিণতি এতটা ভয়ানক হতে পারে কদিন আগেও কে ভেবেছিল তা?  কিন্তু এখন ভাবতে হচ্ছে তা। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আতংকের নাম হয়ে দাঁড়ানো ‘ব্লু হোয়েল’ গেম কেড়ে নিয়েছে অনেক তরুণ প্রাণ।

এর পরপরই মানুষ অনুধাবন করছে আপাত সাধারণ অনলাইন ভিত্তিক একটি গেমও কতটা মারাত্মক হতে পারে। আতঙ্কের পুরো নাম ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’। যেখানে একজনকে অতি সহজে বোকা বানিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় গেমটির এ্যাডমিন। গেমটি খেলতে খেলতে ব্যবহারকারীরা এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ছে যে এক সময় আত্মহত্যা করতেও হৃদয় কাঁপছে না তাদের।

পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে এই গেমটির বিপক্ষে স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণা চালাচ্ছে। তরুণ-তরুণীদের এ গেম খেলা থেকে বিরত রাখার জন্য রীতিমত চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সেসব দেশের বিশেষজ্ঞরা।

কী এই ব্লু হোয়েল গেম ?

অনলাইন ভিত্তিক একটি গেম। অনলাইনে একটি কমিউনিটি তৈরি করে চলে এ প্রতিযোগিতা। এতে সর্বমোট ৫০টি ধাপ রয়েছে।

আর ধাপগুলো খেলার জন্য ঐ কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিবে। আর প্রতিযোগী সে চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি আপলোড করবে। শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেয়া হয়। যেমন: মধ্যরাতে ভূতের সিনেমা দেখা। খুব সকালে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটা এবং ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা।

তবে ধাপ বাড়ার সাথে সাথে কঠিন ও মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক। যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এ খেলার সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা। অর্থাৎ গেম শেষ করতে হলে প্রতিযোগীকে আত্মহত্যা করতে হবে।

কেন যুবক–যুবতীরা আকৃষ্ট হচ্ছে?

সহজ ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সাহস আছে কি না এমন কথায় সাহস দেখাতে গিয়ে দিনকে দিন যুবক-যুবতীরা আকৃষ্ট হচ্ছে এই গেমে। তবে একবার এ খেলায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব।

তেমনি জানা যায় গেম থেকে বেঁচে ফিরে আসা ভারতীয় এক যুবকের কাছ থেকে তিনি জানান, ব্লু হোয়েল গেমটা আসলে একটা ভয়ঙ্কর মরণ ফাঁদ। ইচ্ছে থাকলেও যে ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা যায় না। সেই হাতছানিই প্রায় আত্মহত্যার পথে টেনে নিয়ে গিয়েছিল ভারতের পুদুচেরির যুবক ২২ বছর বয়সী আলেকজান্ডারকে। কিন্তু শেষমেশ পুলিশ পুদুচেরির করাইকালে তার বাড়িতে ঢুকে পড়ায় আর আত্মঘাতী হতে পারেনি আলেকজান্ডার।

পুলিশ যখন তাকে বাঁচায়, তখন আলেকজান্ডারের হাতে আঁকা ছিল নীল তিমি। এক পদস্থ পুলিশ কর্তার পাশে বসে আলেকজান্ডার বলেছেন, ‘‘এটা পুরোপুরি মরণ ফাঁদ। ওই গেমে ঢুকে পড়লেই ভয়ে কাঁপতে হবে। অ্যাডভেঞ্চার যাদের খুব ভাল লাগে, তারাও ভয়ে কাঁপতে থাকবেন। আমি সবাইকে বলছি, বড়ই ভয়ঙ্কর গেম ব্লু হোয়েল। কেউ যেন ভুল করেও ওই মরণ ফাঁদে না পড়েন। ’’

খেলার মাঝপথে বাদ দিতে চাইলে প্রতিযোগীকে ব্লাকমেইল করা হয়। এমনকি তার আপনজনদের ক্ষতি করার হুমকিও দেয়া হয়। আর একবার মোবাইলে এই অ্যাপটি ব্যবহারের পর তা আর ডিলিট করা যায় না।

গেমটি ঠিক কোনও অ্যাপ নয়। নয় কোনও গেমও। এটা জাস্ট একটা লিঙ্ক। আর সেটা চালান একজন অ্যাডমিন। ওই গেম খেলতে যিনিই ঢোকেন, তাকে কয়েকটি টাস্ক দেন অ্যাডমিন। প্রত্যেক দিন সেই টাস্কগুলো রাত ২ টার পর শেষ করতে হয়। ওই গেম খেলতে ঢোকার পর কয়েকটা দিন কাটে মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবেই। তখন অ্যাডমিন সকলের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও ফটোগ্রাফ সংগ্রহ করতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন অ্যাডমিন।

কোথায় জন্ম এই মরণ খেলার?

ইন্টারনেট বলছে, এই খেলার জন্ম রাশিয়ায়। জন্মদাতা ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় প্রথম সূত্রপাত। ২০১৫ সালে প্রথম আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। তবে এহেন গর্হিত কাজের জন্য নিজেকে অপরাধী না বলে বরং সমাজ সংস্কারক বলে নিজেকে অভিহিত করে বুদেকিন। সে জানায়, এই চ্যালেঞ্জের যারা শিকার তারা এ সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য নয়।

ব্লু হোয়েল গেম এর ৫০ টি ট্যাস্ক থাকে যা আপনাকে সুইসাইড পর্যন্ত নিয়ে যাবে। এই খেলার সমাপ্তি ঘটবে খেলোয়াড়ের মৃত্যু দিয়ে। এ গেম নিয়ে রীতিমতো অবাক রাশিয়া পুলিশ। তদন্তের পর তারা জানায় অন্তত ১৬ জন কিশোরী এ গেমের কারণে আত্মহত্যা করেছে। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩০ জনের আত্মহত্যার জন্য এ গেম দায়ী। তবে এ গেমের মূল অ্যাডমিন বুদেকিন আটক থাকলেও থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। যার ফলে এ গেমের প্রভাব বিরাজমান।

এর থেকে বাঁচতে কি করতে হবে?

১। প্রথমত চাই আপনার সচেতনতা। কেন আপনি অপরের নির্দেশনায় যাকে আপনি কখনও দেখেন নি, যার পরিচয় জানেন না তার কথায় কেন নিজের জীবন অকালে বিলিয়ে দিবেন!

২। এই রকম কোনও লিংক আসলে তাকে এড়িয়ে চলা। সমাজের তরুণ ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে সব বয়সীদের মাঝে এই গেমের আদ্যোপান্ত সম্পর্কে বলা।

৩। আপনার সন্তানকে মোবাইলে ও কম্পিউটারে অধিক সময়ে একাকী বসে থাকতে দেখলে, খেয়াল করুন সে কি করছে। সন্তানকে কখনও একাকী বেশি সময় থাকতে না দেয়া এবং এই সব গেমের কুফল সম্পর্কে বলা।

৪। সন্তানদের মাঝে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মানসিকতা সৃষ্টি করা। যাতে করে তারা বুঝতে পারে আত্মহত্যা করা বা নিজের শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করা অনেক বড় পাপের কাজ।

৫। আপনার সন্তান ও পরিবারের অন্য কোন সদস্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কি না সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা। কেউ যদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় তাকে সঙ্গ দেয়া।

৬। কৌতুহলী মন নিয়ে এই গেমটি খেলার চেষ্টা না করায় ভালো। কৌতুহল থেকে এটি  নেশাতে পরিণত হয়। আর নেশাই হয়তো ডেকে আনতে পারে আপনার মৃত্যু।

অতএব, দয়া করে এই গেমটি কেউ খেলবেন না, কাউকে খেলতেও দেবেন না।

সূত্র-ডিএমপিনিউজ




দেখে নিন কোন ওয়েবসাইটের ভিজিটর কত ?

সকলেই কেমন আছেন ? আশা করি ভাল আছেন। আমিও মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার অশেষ রহমতে ভাল আছি। আজ আমি যে টিউনটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব তা হয় তো বা শিরোনাম দেখেই বুঝে গেছেন। আর আমরা যখন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করি তখন অনেক সময় আমাদের মনে আকাঙ্খা জাগে যে এই সাইটটির ভিজিটর না জানি কত ? তো আপনাদের মনের এই আখাঙ্কা পূরণের জন্যই আজকের এই টিউন তা হলে চলুন দেখি কোন ওয়েব সাইটের ভিজিটর কত?

ওয়েব সাইটের ভিজিটর দেখার জন্য আমি যে সাইটটি ব্যবহার করি তা হলঃ http://website.informer.com

এখানে প্রবেশ করার পর নিচের মত একটি এন্টারফেস আসবেঃ

তার পর লাল দেয়া জায়গাটির মধ্যে যে কোন একটি সাইট লিখুন এবং দান পাশে Search ক্লিক করুন।

যেমনঃ আমি লিখলামঃ techtunes.com.bd

তার পর নিচের মত একটি ইন্টারফেস আসবেঃ

এখানে দেখতে পাচ্ছেন টেকটিউনস এর দৈনিক ভিজিটর, পেজ ভিউ, ও আলেক্সা রেঙ্ক সহ সাইটের DNS।

আবার  

তাছাড়া দান পাশে সবার উপরে ব্রাউজারের এডন্স রয়েছে এটি ইন্সটল করলে আপনার website.informer.com নামক সাইটে প্রবেশ করতে হবে না। যে কোন সাইটে প্রবেশ করার সাথে সাথে ঐ সাইটের গুগল পেজ রেঙ্ক দেখাবে এবং এডন্স এর আইকন এ ক্লিক করলে সাইট এর ভিজিটর, পেজ ভিউ, ও আগের মত সব দেখাবে।

-টিউনটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।




মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সেট কিভাবে করবেন ?

মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সেট কিভাবে করবেন ?

মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সেট করার নিয়ম আজ আমরা জানবো কিভারে প্রজেক্টর সেট করতে এবং এর যত্ন নিতে হয়। প্রজেক্টর সেট করতে হলে আপনার যা যা লাগবে একটি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার একটি প্রজেক্টর একটি প্রজেক্টর স্ক্রিণ প্রজেক্টরের পাওয়ার কেবল প্রজেক্টরের ভিজিএ কেবল একটি ভোল্টেজ ষ্ট্যাবিলাইজার/ইউপিএস (এটি আবশ্যিক নয় তবে প্রজেক্টরের মতো একটি দামী ডিভাইসের অধিকতর সুরক্ষার জন্য) আপনার কাছে এই জিনিসগুলো থাকলে আপনি প্রজেক্টরের সেট করতে রেডি। প্রথমে কম্পিউটার এবং প্রজেক্টরের সাথে সংযোগ করাতে হবে এবং প্রজেক্টরের মেইন পাওয়ার ভোল্টেজ ষ্ট্যাবিলাইজার/ইউপিএস এর সাথে করতে হবে। তারপর উপযুক্ত জায়গায় প্রজেক্টর স্ক্রিণটি স্থাপন করতে হবে। প্রজেক্টর মূলত আপনার মনিটরে যা দেখায় তা ই ফোকাস করে। প্রজেক্টরে দুটো কেবল সংযুক্ত হয়। একটি পাওয়ার কেবল এবং একটি VGA (Video Graphics Array) কেবল। আসুন আমরা দেখি একটি প্রজেক্টরের পেছনের অংশে কি কি থাকে

এখানে উপরে যে হলুদ পোর্টটি দেখছেন সেটি হল সিডি বা ডিভিডি থেকে আস ভিডিও কেবল। যদি কম্পিউটার বাদে কোন সিডি বা ডিভিডি বা কোন ক্যামেরার সাথে প্রজেক্টরকে সেট করতে চান তাহলে এটি ব্যবহার করবেন। আর নীল যে PC IN লেখা পোর্টটি দেখছেন সেটি হল VGA (Video Graphics Array) কেবল। এর সংযোগ কম্পিউটারের CPU (Central Processing Unit) এর পেছনের VGA আউটপুট থেকে আসবে। যেখানে আমরা মনিটরের সংযোগ দেই সেখান থেকে। আসুন এখন দেখি ভিজিএ কেবল। প্রজেক্টরের সাথে একটি এক্সট্রা VGA কেবল দেয়া থাকে। এটি দেখতে নীল রং

এর এটির দুই দিকে একই দেখতে। যে কোন একদিকে অপরদিকে ব্যবহার করা যাবে। এই ভিজিএ কেবলটির একপ্রান্ত প্রজেক্টরে অপর প্রান্ত ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে এবং পাওয়ার ক্যাবল ভোল্টেজ ষ্ট্যাবিলাইজার/ইউপিএস’এ লাগিয়ে প্রজেক্টর চালু করুন। এবার কম্পিউটার ও চালু করুন। প্রজেক্টরে নীল রং এসে থেমে থাকলেও সমস্যা নেই। অপেক্ষা করুন কম্পিউটার বুট করে ডেক্সটপে আসলেই প্রজেক্টরের প্রক্ষেপিত আলোতে তা ফুটে উঠবে। না আসলে কম্পিউটার থেকে এরপর প্রজেক্টরে লাইন পাওয়ানোর জন্য ল্যাপটপের FN কি চেপে উপরের F3 (ল্যাপটপ ভেদে ভিন্ন হতে পারে) চাপুন। দেখবেন প্রজেক্টরের স্ক্রিণে ছবি/লিখা/ভিডিও দেখা যাচ্ছে। FN Key কোথায় থাকে দেখুন। এবার প্রজেক্টরের সামনের লেন্সের উপরের নবটি আস্তে আস্তে ঘুরিয়ে এডজাষ্ট করে নিতে হবে। যাতে করে নিখুঁতভাবে ছবি/লিখা/ভিডিও স্ক্রিণে প্রদর্শিত হয়। এবার প্রজেক্টরের নিচে দেয়া পা এর মতো চাকাগুলো ঘুরিয়ে এবং প্রজেক্টরটি সাবধানে সামনে-পিছনে করে প্রয়োজনীয় মাপে স্ক্রিণে এডজাষ্ট করে নিন। প্রজেক্টরটির চালুর পর লক্ষ্য রাখবেন যেন এটির চারপাশ খোলামেলা থাকে যাতে করে এর গরম বাতাস সহজেই কুলিং ফ্যানের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে পারে। খুব বেশী প্রয়োজন না হলে একনাগাড়ে দীর্ঘ সময় প্রজেক্টর ব্যবহার করবেনা। এতে প্রজেক্টরের ল্যাম্পের আয়ু কমে যায়। একান্ত প্রয়োজন হলে ৩/৩.৫ ঘন্টা পর মাঝে ১০ মিনিট প্রজেক্টর বন্ধ রাখতে পারেন। প্রজেক্টরের কাজ শেষ হলে এটি বন্ধ করে সাথে সাথে ব্যাগে ঢুকাবেননা। এটি ঠান্ডা হতে ৫/১০ মিনিট সময় দিন। প্রজেক্টরের সামনের লেন্সে হাত দেবেন না। ধূলাবালি থাকলে নরম টিসু/কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। প্রজেক্টর যদি ফিজিক্যাল ড্যামেজ হয় যেমন- কোন অংশ ভেংগে যায়, পুড়ে যায় অথবা এর ওয়ারেন্টি ষ্টিকার তুলে ফেলেন। ওয়ারেন্টি থাকাকালীন সময়ে প্রজেক্টরে কোন ধরণের সমস্যা দেখা দিলে শুধু মাত্র বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানকারীর কাছে এটি নিয়ে যাবেন। অন্যকেউ এটি মেরামতের চেষ্টা করলে আপনার ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন




মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মনিটরিং অ্যাপস কি জেনে নিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মনিটরিং অ্যাপ’ নামক এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এখন যেকোন স্মার্টফোন ব্যবহার করে খুব সহজেই এবং অল্প সময়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে অন্তর্ভূক্ত প্রায় ২৫ হাজার বিদ্যালয়ে স্থাপিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মনিটর করা যাবে। এই অ্যাপের বিশেষত্ব হচ্ছে এর মাধ্যমে চলমান মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের সময়, ছবি এবং জিপিএস লোকেশন সহকারে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে অর্থাৎ প্রতিবেদনের সত্যতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা যাবে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাকর্তৃক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিদর্শনের গুণগত পর্যবেক্ষণের তথ্যও পাওয়া যাবে।
অ্যাপটি মাধ্যমে ২ ধরণের তথ্য পাওয়া যাবে
# শিক্ষকগণকর্তৃক চলমান মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের প্রতিবেদন
# মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাকর্তৃক পরিদর্শিত –
বিদ্যালয়ের সচল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের প্রতিবেদন
# চলমান মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের গুনগত মূল্যায়ন
অ্যাপটির অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো হল-
# সরাসরি এমএমসি ড্যাশবোর্ডে কানেক্টিভিটি
# চলমান ক্লাসের রিয়েল টাইম ছবি
# চলমান ক্লাসের রিয়েল টাইম জিপিএস লোকেশন
# EIIN নম্বর দিয়ে বিদ্যালয় সার্চ
# পরিদর্শিত এমএমসির গুনগত মূল্যায়ন ফরম
# অফলাইনে প্রতিবেদন জমা রাখা
# পূর্ববর্তী প্রতিবেদন আর্কাইভ
এপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে Multimedia Classroom Monitoring System লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন। এছাড়াও সরাসরি ডাউনলোড করতে এই লিংকে প্রবেশ করুন-
https://play.google.com/store/apps/details…




জানেন কি স্টুডেন্ট এর পূর্নরুপ ?

Student এর পূর্ণরূপ

S = Study (অধ্যয়ন)
T = Truthfullness (সত্যব্যয়িতা)
U = Unitdy (একতা)
D = Discipile (নিয়ামানুবতিতা)
E = Economy (মিতব্যয়িতা)
N = Nationality (জাতীয়তা)
T = Training (প্রশিক্ষন)




ব্লু হোয়েল গেমের ইতিহাস জানেন কি ?

ব্লু হোয়েল (Blue whale) এর বাংলা অর্থ নীল তিমি। আক্ষরিক অর্থে নীল তিমি হলেও বর্তমান বিশ্বে এটি প্রবল আতংকিত একটি নাম। সাম্প্রতি ডার্ক ওয়েবে ভাইরাল হওয়া একটি মর্মান্তিক চ্যালেঞ্জিং গেম হলো ব্লু হোয়েল । এটি একটি অনলাইন ভিত্তিক সুইসাইড গেম । গেমটি খেললে যে কারও মৃত্যু অনিবার্য । কিন্তু কিভাবে একটি গেম একজন মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে?আসলে যতদিন যাচ্ছে এটি মানুষের কাছে ক্রমেই রহস্যময় হয়ে উঠছে । অনেকেই বুঝতে পারছে না যে এর পিছনের রহস্যটি আসলে কি? আবার অনেকেই মনে করছে যে এটি আসলে একটি মিথ্যা ঘটনা যার কোন বাস্তবতা নেই।

ব্লু হোয়েল এর বিস্তারিত বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয় হলিউডের “স” মুভির কথা । মুভিটির সাথে এই গেমের অনেকাংশেই মিল রয়েছে। যারা “স” মুভিটি দেখেছেন তারা হয়ত জানেন যে একজন সিরিয়াল কিলারের ফাঁদে পরে কাহিনির মেইন চরিত্র”ড. ল্যারির” কি অবস্থা হয়েছিল। তার স্ত্রী, কন্যাকে কিডন্যাপ করে এবং তার পার্সনাল ইনফরমেশন হাতিয়ে নিয়ে; ব্লাক মেইল করে তাকে পরিত্যাক্ত বাথরুমে বন্দি অবস্থায় বাধ্য করা হয়েছিল একটি মর্মান্তিক গেম খেলার । তাকে বলা হয়েছিল, সে যদি তার স্ত্রী, সন্তান ও বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই গেমের সবগুলো স্টেপ সঠিক ভাবে সম্পুর্ন করতে হবে । যারা “স” মুভিটি দেখেন নি তারা এখানে ক্লিক করে মুভিটির রিভিও দেখতে পারেন।

ব্লু হোয়েল গেমটিও “স” মুভির মতই ভিক্টিমকে বাধ্য করে গেমটির সবগুলো স্টেপ খেলতে । এটি একটি চ্যালেঞ্জিং গেম, এবং গেমটির ৫০ টি লেভেল বা স্তর রয়েছে । গেমটি প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০১৩ সালে । “F57” নামের একটি রাশিয়ান হ্যাকার টিম (অনেক জায়গায় এরা “ডেথ গ্রুপ” নামেও পরিচিত) এই গেমেটি তৈরি করে ।
২০১৫ সালে সর্বপ্রথম সোসিয়াল মিডিয়া “VKontakte(vk.com)” এ এর লিঙ্ক শেয়ারের মাধ্যমে এটি তুমুল ভাইরাল হয়ে পরে এবং অনেকেই গেমটি ডাউনলোড করতে শুরু করে।

*ফিলিপ বুদেকিন।
গেমটির মাস্টার মাইন্ডে ছিল “ফিলিপ বুদেকিন” নামের একজন রাশিয়ান যুবক ।সে রাশিয়ার একটি ভার্সিটিতে “সাইকোলজি” বিভাগে অধ্যায়নরত ছিল । ভার্সিটি থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর, সে এই গেমটি তৈরিতে মনোনিবেশ করে বলে জানা যায়। সম্প্রতি রাশিয়ার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে এবং তাদেরকে দেওয়া জবানবন্দিতে ফিলিপ জানায় যে, তরুন বয়সি ছেলেমেয়ে, সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা মানুষ এবং মানুষিক ভাবে বিকারগ্রস্থ রোগীদের টার্গেট করেই এই গেমটি সে তৈরি করেছে । সে আরও বলে যে, যারা এই সমাজের হতাশাগ্রস্থ মানুষ এবং যারা মানুষিক ভাবে বিকারগ্রস্থ তারা এই সমাজের বোঝা, সমাজে তাদের কোন প্রয়োজন নেই, মৃত্যুই তাদের কাম্য তাই এই গেমটির মাধ্যমে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে মানুষিক চাপ প্রোয়োগ করে, তাদেরকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়। আর টিনএজরা এমনিতেই চ্যালেঞ্জ প্রিয় হয়ে থাকে এবং তাদের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তাদেরকে গেমটি খেলতে বাধ্য করা হয়।

*জুলিয়া এবং ভেরনিকা
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ব্লু হোয়েল গেমটির কারনে এখন পর্যন্ত ১৩০ জন রাশিয়ান টিনএজ এর মৃত্যু হয়েছে । এবং রাশিয়ার বাইরে অন্যান্য দেশে ৫০ জনেরও বেশি ছেলেমেয়ে মারা গেছে । ব্লু হোয়েলের শিকার গ্রীসের ১৪ বছরের একজন মেয়ে কমিউটর ট্রেনের লাইনে মাথা রেখে মারা যায় এবং সাইবেরিয়ায় ১৫ বছরের এক মেয়ে ৫ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। “জুলিয়া কন্সটাটিন ওভা” এবং “ভেরনিকা ভল্ক ওভা” নামের দুইবোন সর্বোপ্রথমএই গেমের শিকার হয় । গেমটির শেষ পর্যায়ে তারা ১৪ তলা বিশিষ্ট অ্যাপার্ট্মেন্ট থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল । প্রথম অবস্থায় তাদের মৃত্যুর কারণ কিছুই জানা যায় নি। মৃত্যুর আগে জুলিয়া তার ইন্সটাগ্রাম পেজে একটি “নীল তিমি” (Blue Whale)র ছবি দিয়েছিলো এবং তাতে লিখা ছিলো “the end”. এবং তার বোন ভেরনিকা লিখেছিল “sence is lost”. তাদের দুই বোনের সুইসাইড ভিডিওটি দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। তবে যাদের হার্ট দুর্বল তাদেরকে এই ভিডিওটি না দেখার পরামর্শ রইল।
সম্প্রিতি ভারতের মুম্বায়ে এই গেমটি খেলতে গিয়ে একজন তরুন আত্মহত্যা করে এবং ভারতের মিডিয়ায় এটি খুব চাঞ্চল্যকর তথ্য হয়ে দাঁড়ায়। সে দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সোসিয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে সবাইকে এই গেম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণত মধ্যম আয়ের দেশের ছেলেমেয়েরাই এই গেমে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে তবে কিছু কিছু অধিক উন্নত রাষ্ট্রেও এটি ছড়িয়ে পরছে, এদের মধ্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীন উল্লেখযোগ্য।

*হিউম্যান এম্ব্রেডরি
শুরুতে ব্লু হোয়েল গেমটি মুলত একটি একক গেম হিসেবে রিলিজ হলেও পরে এটি আর একটি কিলার গেম “হিউম্যান এম্ব্রেডরি” এর সাথে যুক্ত হয়ে আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং অ্যামেরিকার বেশ কিছু রাষ্ট্রে যেমন, কানাডা, মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার মত দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
“হিউম্যান এম্ব্রেডরি” এটি একটি কিলার গেম হলেও এর ধরণ “ব্লু হোয়েল” থেকে সম্পুর্ন আলাদা । তবে এটির সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য এখনও পাওয়া যায় নি। এর তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে, সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে এটির সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

২০১৩ সালে “ব্লু হোয়েল” রিলিজ হলেও ২০১৫ সালের আগে এটি জনসম্মুখে একেবারেই অপরিচিত ছিলো এবং ২০১৬ এর আগে এর সঠিক কোন তথ্য পাওয়া জায়নি। এর আগে যারাই এ গেমটি খেলেছে তাদের মধ্যে ৯০% প্লেয়ারই সুইসাইড করেছে এবং যারা নিত্বান্তই ভাগ্যের জোরে বেঁচে ফিরেছে তাদের বেশির ভাগই মানুষিক ভাবে
বিকারগ্রস্থ অথবা ভয়ে তাদের অবস্থা এতটাই শচনীয় হয়েছে যে, তারা কোন ভাবেই এর সম্পর্কে মুখ খুলার সাহস পাইনি। ২০১৫ এর মাঝামাঝি সময়ে আর্জেন্টিনার এক তরুন গেমটির প্রথম ২০ লেভেল কম্পিলিট করে এর সম্পর্কে পুলিশের কাছে ক্লেম দিলেও সেখানকার পুলিশ খুব একটা গুরুত্ব দেয় নি।
২০১৬ সালে “নোভায়া গেজেটা” নামক একটি রাশিয়ার অনলাইন ভিত্তিক ম্যাগাজিন সর্বপ্রথম এর সম্পর্কে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে । তাদের জরিপ অনুযায়ী এই গেমটি খেলে রাশিয়ায় ১৩০ জন তরুন-তরুনির মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয় এবং গেমটির বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়। উক্ত খবর প্রকাশের পর রাশিয়ায় গেমটিকে তদন্তাধীন রাখা হয় এবং সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গেমটির মাস্টার মাইন্ডদের কে গ্রেফতারের জন্য তৎপর হয় ।

*Blue whale
প্রিয় পাঠক, আপনারা হয়ত অনেকেই এর ডাউনলোড লিঙ্ক পাওয়ার জন্য গুগল, ইয়াহু অথবা অন্যান্য ওয়েব পোর্টালে সার্চ করেছেন। কিন্তু কোনভাবেই এর লিংক খুজে পাচ্ছেন না , তাই না? আসলে সত্যি কথা বলতে ইন্টারনেটে এই গেমের কোন অস্তিত্বই নেই। হয়ত বলতে পারেন যে, ইন্টারনেটে না থাকলে, যারা এই গেমটি খেলেছে তারা এটিকে কোথা থেকে পেল !
আমি আপনাদের প্রথমেই বলেছি যে, এটি ডার্ক ওয়েবের একটি গেম। আমরা যে ইন্টারনেট পোর্টাল ইউজ করি সেটির নাম “world wide web” এবং গুগল, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি এসবই কিন্তু “world wide web” এরই একটি অংশ। আর আমাদের এই ইন্টারনেট জগতের বাইরে আরও একটি বিশাল জগত রয়েছে যার নাম “dark web”.
এটি “world wide web” থেকে একেবারেই আলাদা এবং সম্পুর্ন বিপরীত একটি ইন্টারনেট জগত।

“dark web” সম্পুর্নরূপে একটি অন্ধকার জগত এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর, অবৈধ ও খারাপ কাজের জন্যই এটি বিখ্যাত। এর ওয়েব সাইট গুলো সাধারণত খারাপ কাজের উদ্দ্বেশ্যেই তৈরি হয়ে থাকে। ইন্টারনেট জগতের ৮০-৮৫% অবৈধ ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমুলক কাজ মুলত “dark web” এয় সংঘতিত হয়। সাধারণত goole chrome, firefox কিংবা opera দিয়ে এই ওয়েবে প্রবেশ করা যায় না । ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে একটি বিশেষ ব্রাউজারের প্রয়োজন হয়। তো যাই হোক, ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে আর বেশি কিছু আলোচনা করছি না। যারা ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে জানেন না তারা এই লিংকে ক্লিক করে এর বিস্তারিত দেখে নিতে পারেন। ব্লু হোয়েল ডার্ক ওয়েবেই তৈরি হওয়া একটি গেম এবং ডার্ক ওয়েব থেকে ডাউনলোড করে facebook, twitter, instagram কিমবা vk.com এ এর লিংক গুলো শেয়ার করা হয়েছিল। যারাই এই লিংকগুলো থেকে এই গেমটি ডাউনলোড করেছিল তাদের সবাইকেই বিভিন্ন মজা ও সার্প্রাইজের কথা বলে গেমটি ইন্সটল করানো হয়েছিল।

তবে গেমটি এমন এক বিশেষ সিস্টেমে তৈরি করা হয়েছে যে, আপনি যে ডিভাইসেই এটি ইন্সটল দেন না কেন পরবর্তীতে আর কখনোই এটিকে আনইন্সটল করতে পারবেন না। আর এটি একবার ইন্সটল হয়ে গেলেই এর মাধ্যমে এই গেমের টিম আপনার ip location সহ সকল প্রকার পার্সনাল ইনফরমেশন ট্রাক করতে শুরু করবে এবং আপনাকে বাধ্য করবে গেমটি খেলতে। সুতরাং, বুঝতেইপারছেন যে এটি কতখানি ভয়ংকর।

আমি এতক্ষন আপনাদের ব্লু হোয়েলের বাইরের অংশ অর্থাৎ, বিভিন্ন দেশের জনসমাজে এর কতখানি ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করেছে, সে সম্পর্কে আলোচনা করলাম। আশাকরি কিছুটা হলেও গেমটির সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন এবং এটি আসলেই যে একটি কিলার গেম সেটাও বিশ্বাস করতে পেরেছেন। তাহলে আসুন এখন জানি গেমটির ভিতরের অংশ অর্থাৎ কি এমন আছে এই গেমের ভিতরে যা কিনা সকলকেই এর প্রতি আকৃষ্ট করছে !

*কলসি গাছ

এর সম্পর্কে বলার আগে আমি আপনাদেরকে একটি উদাহরণ দিতে চায়, আপনারা অনেকেই হয়তো “কলসি গাছের” নাম শুনেছেন। এই গাছটির বিশেষ্যত্ব হলো, এটি পোকা-মাকড় খায়। পোকা-মাকড় ধরার জন্য গাছটি কলসির মতো দেখতে একটি বিশেষ ফাঁদ তৈরি করে এবং এই কলসির ভিতর থেকে এক ধরনের চকচকে আঠালো জাতীয় রস নিঃসৃত্ব করে। যখন কোন কীট-পত্বঙ্গ এই গাছের আশেপাশে যায়, এর চকচকে অংশ দেখে
আকৃষ্ট হয়ে কলসির ভিতেরে প্রবেশ করে আর প্রবেশের সাথে সাথেই পোকাটি আঠায় আঁটকে যায়। এই সুযোগে গাছটি তার কলসির মুখ বন্ধ করে এবং পোকাটিকে খেয়ে ফেলে। খাওয়ার পর কলসির মুখ খুলে যায় এবং রস নিঃসরণ করে আবার চলতে থাকে নতুন শিকারের আয়োজন।
আবার অনেকেই দেখে থাকবেন যে, মাকড়াসার জালে আঁটকে পরা মাছি কিংবা কোন পোকার কি অবস্থা হয়। আঁটকানো অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এরা যতই ছুটাছুটি করে ততবেশি তারা জালে আঁটকে পড়ে।
ব্লু হোয়েল গেমটিও কলসি গাছ কিংবা মাকড়াসার জালের মতই পাতা একটি ফাঁদ। যে কেও এর ভিতরে প্রবেশ করলে এর থেকে বেরিয়ে আসার আর কোন সুযোগ থাকে না।

প্রথমেই আপনাদেরকে বলেছি যে, এটি একটি চ্যালেঞ্জিং গেম এবং এর ৫০ টি চ্যালেঞ্জ লেভেল বা স্তর রয়েছে। এটি মুলত একটি অনলাইন গেম অর্থাৎ ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া এই গেমটি খেলা যাবে না। গেমটির প্রতিটি লেভেল পুরনের আগে ও পরে গেমের টিম মেম্বাররা প্লেয়ারদের সাথে যোগাযোগ করে এবং পূর্ববর্তী লেভেল সঠিকভাবে সম্পুর্ন করতে পারলেই তাকে পরবর্তী লেভেল খেলার সুযোগ দেওয়া হয়।
গেমটির প্রথম ১০ লেভেল একেবারেই সোজা এবং যে কেওই এটি পুরন করতে পারবে। যেমন, বলা হবে সকাল ০৪:২০ এ উঠতে হবে, একটি হরর মুভি দেখতে হবে, আপনার প্রিয় খাবার খেতে হবে ইত্যাদি। কিন্তু এর লেভেল যতই বাড়তে থাকে ততো বেশি এটি ভংকর রূপ ধারণ করতে থাকে। এবং এর ৫০ নং লেভেলে প্লেয়ার কে সুইসাইড করার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়। আর খুব কম মানুষই আছে যারা এর থেকে বেঁচে ফিরেছে।

যেহেতু ব্লু হোয়েল টিনএজ অর্থাৎ ১৪-১৮ বছরের ছেলেমেদের উদ্দেশে তৈরি করা হয়েছে সেহেতু তাদেরকে ইম্প্রেস করার জন্য অনেক কিছুই রয়েছে এই গেমের ভিতর। আর এই বয়সি ছেলেমেয়েরা এমনিতেই প্রতিযোগিতা প্রবন বা চ্যলেঞ্জপ্রিয় হয়ে থাকে। এরা অপরিচিত মানুষদের বেশি বিশ্বাস করে এবং বাস্তব জগতের চাইতে অবাস্তবকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। এরা যেকোন চ্যালেঞ্জ গ্রহনের জন্য প্রস্তুত থাকে। যেমন ধরুন তিন বন্ধু, তাদের নাম যথাক্রমে A,B,ও C. এবং তাদের উভয়ের বয়সই ১৪-১৫ এর মাঝামাঝি। তারা তাদের স্কুলের মাঠে খেলা করছিল। মাঠের পাশে একটি বিশাল গাছের কাছে এসে B ও C এর মাথায় একটি নতুন বুদ্ধি উদয় হয়। A ছিলো B ও C র চাইতে কিছুটা ছোট। B এবং C লম্বায় A থেকে খানিকটা বড় হওয়ায় তাকে অনেকটা ভেংচি কেটে বলে উঠলো যে, দেখ A. তোর মতো একটি পুচকে ছেলে এই গাছটিতে কখনোই উঠতে পারবে না।
তখন খুব স্বাভাবিক ভাবেই A এর মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। তার মতো একটি বড় ছেলেকে পুচকে বলছে, আবার বলছে যে এই গাছটিতে সে উঠতে পারবে না। এটা কিছুটা হলেও তার পার্সনালিটিতে আঘাত করেছে। সুতরাং, সে নিজের অজান্তেই বলে বসে, কে বলেছে তোদের যে, আমি ওটাতে উঠতে পারব না, দেখতে চাস? তখন B আর C একসাথে বলে বসে, আমরা ৫০-১০০ টাকা করে বাজি ধরে বলতে পারি যে, তুই এটাতে উঠতে পারবি না।

A তখন টাকার জন্যই হোক অথবা নিজের পার্সনালিটি রক্ষার জন্যই হোক সে গাছটিতে উঠতে আরম্ভ করে। সে ভাবে না যে, এত বড় একটি গাছ বেয়ে উঠা তার পক্ষে আসলেই সম্ভব কিনা! কিংবা এই বিশাল গাছেটি থেকে পড়ে গেলে হাত-পা ভেঙ্গে গেলে কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, এইসবে তার কিছুই যায় আসে না। তার কাছে এই গাছে উঠাটাই সবথেকে বড় কথা, কারন তারা তার পার্সনালিটিতে আঘাত হেনেছে।

বেশির ভাগ টিনএজারা মুলত A, B ও C এর মতই অত্যাধিক চ্যালেঞ্জ প্রবল হয়ে থাকে। আবার অনেকেই আছে যারা সবার সাথে মিশতে পছন্দ করে না অথবা স্কুলে কিছু নির্দিষ্ট ফ্রেন্ড ছাড়া ক্লাসে আর কারও সাথেই মিশে না। যদি কোন দিন তার নির্দিষ্ট ফ্রেন্ড স্কুলে অনুপস্তিত থাকে, তাহলে তাদের আর কিছুই ভাল লাগে না। তখন বাধ্য হয়ে ক্লাস না করেই বাসায় ফিরে আসে। আবার বাসায় ফিরে এসেও একি অবস্থা হয়ে দাঁড়ায়। নিজের ঘরে বসে থেকে
অথবা টিভি দেখে দেখে তারা টায়ার্ড ও বোরড হয়ে যায় । তখন তাদেরকে একাকিত্ব ঘিরে ফেলে। শহরের বেশির ভাগ ছেলেমেদেরই একই অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, কিংবা ইন্সটাগ্রাম চালিয়েও তারা Bored হয়ে পরছে এবং একাকিত্ব তাদের গ্রাস করে ফেলছে। এই একাকিত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাদের নতুন কিছু চাই আর এর জন্যই তারা ইন্টারনেটে বিভিন্ন আজেবাজে বিষয় সার্চ করতে থাকে এবং বিভিন্ন লিংকে ক্লিক করতে থাকে,
আর এই আজেবাজে লিংকের মাধ্যমেই ব্লু হোয়েল তাদের সামনে এসে ধরা দেয় এবং তারা পা দেয় এর মরণ ফাঁদে!

চ্যালেঞ্জিং এর আরও একটি মুল মাধ্যমে হচ্ছে টেলিভিশন। টেলিভিশনে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রায়সই বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জিং অনুষ্ঠান প্রচার হয়ে থাকে। যেমন, কোন অনুষ্ঠানে দেখানো হয় একটি কালো কাপড় দিয়ে প্রতিটি প্রতিযোগিদের চোখ বেঁধে বেধে দেওয়া হয় এবং হাতে কিছু সংখ্যক বল দিয়ে তাদের ৮-১০ ফুট সামনে থাকা ছোট ঝুড়িতে বলগুলো ফেলতে বলা হয় , আবার অনেকসময় ঝুড়িতে অনেকগুলো বিভিন্ন রঙের বল রেখে দেওয়া হয় আর প্রতিযোগিদের বলা হয় যে, ৩০ অথবা ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে
কিছু নির্দিষ্ট রঙের বল আলাদা করতে বলা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে সবথেকে বেশি বল আলাদা করতে পারে তাকে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। আর প্রতিটি অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের আকর্ষনীয় সব পুরুস্কার দেওয়া হয়। এসব ছোট ছোট চ্যালেঞ্জের বাইরেও অনেক বড় বড় হার্ড চ্যালেঞ্জিং অনুষ্ঠানও প্রচার হয়ে থাকে যেমন, বিভিন্ন সাইন্স চ্যানেলে প্রচারিত “wild life chalenging program” যেখানে এক বা একাধিক মানুষকে পৃথিবীর এমন সব বিপদজনক স্থানে রেখে আসা হয় যেখানে
পদে পদে রয়েছে মৃত্যুর আশংকা। আধুনিক কোন সরঞ্জাম ছাড়া সম্পুর্ন বন্য উপায়ে জীবন-যাপন করতে হয় এবং মৃত্যুর মুখে নিজের জীবনটাকে টিকিয়ে রাখাটাই সবচাইতে বড় চ্যলেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই আছেন যারা এই ধরনের চ্যলেঞ্জ গ্রহণ করে থাকেন। এদের মধ্য “বিয়ার গ্রিলস” কে তো আমরা সবাই চিনি।

ব্লু হোয়েল গেমটি যখন কেও ওপেন করে তখন তাকে প্রথম চ্যালেঞ্জ আনলক করার জন্য রিকোয়েষ্ট করতে হয়। এরপর গেম এর টিম মেম্বাররা তার সাথে যোগাযোগ করে আর সে যদি টিনএজ হয় তাহলে তো কোন কথায় নেই। তখন তাকে বলা হবে যে, সে চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে আগ্রহী কি না? যদি আগ্রহী হয় তাহলে তাকে একটি ওয়ার্নিং দেওয়া হয় যে, এ গেমটির সবগুলো চ্যালেঞ্জ কমপ্লিট করতে গিয়ে তোমার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে, যদি রাজি থাকো তাহলে Accept কর অন্যথায় এটিকে
Reject করে দাও। তখন একজন টিনএজার ভাবে যে আমি তো গেমটি ঘরে বসে খেলব তাই তারা আমার কি এমন ক্ষতি করতে পারবে, so, আমি এটা accept করেই দেই। এর একটি নমুনা হলো –
victim – I want to play the game.
blue W. team – R u sure? There’s no way to go back.
– Yes. What does that mean? No way back?
– You can’t leave the game once u begin.
– am ready.
– carry out each task diligently and no one must know about it.
when u finish a task u send us a photo. at the end of the game,
u die. R u ready?
– And if I wanna get out?
– We have all your information. They will come after u.
bt don’t worry. The first chalenge has unlock for u.

আর এভাবেই unlock করে দেওয়া হয় গেমটির প্রথম চ্যালেঞ্জ। আমি প্রথমেই বলেছি এই গেমটির প্রথম ১০ টি লেভেল খুবই সহজ, আকর্ষনীয় ও চমকপ্রদ। সাধারণত বলা হয়ে থাকে যে, যার আকর্ষণ করার ক্ষমতা যত বেশি মানুষ তাকে ততোবেশি ভালোবাসে ও বিশ্বাস করে। গেমটিও একই কৌশল অবলম্বন করেছে। এটি শুরুতে খুবই মনভোলানো কথাবার্তা, মজার টিপস এবং ছোট ছোট চ্যালেঞ্জ দিয়ে যে কাওকেই আপন করে নেয়। তবে এর আকর্ষন করার ক্ষমতা এতটাই প্রবল যে,
যারায় এই গেমটি খেলেছে, তাদের সবাই এর প্রথম ১০ লেভেল খেলার পর এটিকে তাদের নিজের জীবনের একটি অংশ বানিয়ে ফেলেছিল। গেমটিতে তাদেরকে যে তথ্য দেওয়া হতো তারা যাচাই বাছাই না করেই তা বিশ্বাস করে ফেলত এবং সে অনুযায়ী কাজ করত। কারণ তারা জানত, যাকে জীবনের একটা অংশ বানিয়েছি সে নিশ্চই আমাদের সাথে কোন বেইমানি করবে না। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তাদের ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম এর পাসওয়ার্ড সহ বিভিন্ন পারসনাল ইনফরমেশন
হাতিয়ে নিতে শুরু করা হয়।

*ট্যাটু চ্যালেঞ্জ
প্রথম ১০টি চ্যালেঞ্জ কম্পিলিট হওয়ার পর গেমারকে পরবর্তী ১০ লেভেল খেলার জন্য প্রিপেয়ার করানো হয়। যেহুতু টিনএজরা কল্পনা প্রবল হয়ে থাকে সেহেতু এই লেভেল গুলোতে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রচুর কল্পনা করানো হয়। আর এই পর্বেও চলতে থাকে ছলেবলে কৌশলে তাদের পার্সনাল ইনফরমেশন হাতিয়ে নেওয়ার কাজ। আর একজন প্লেয়ার নিজের অজান্তেই তাদেরকে সব তথ্য দিতে থাকে।
এই পর্বে ১৫ লেভেলের পর গেমারকে একটি নীল তিমির একটি ছবি আঁকতে শেখানো হয় এবং পরবর্তী কোন এক লেভেলে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে উক্ত ছবিটি আঁকতে বলা হয়। বলা হয় যে, ব্লেড অথবা সুচ দিয়ে তোমার হাতে একটি ব্লু হোয়েলের (নীল তিমির) ছবি আঁক, কিন্তু সাবধান এর ক্ষত যেন বেশি গভীর না হয়। আর এভাবেই শেষ হয় আরও দশটি লেভেল ।

*ড্রাগ চ্যালেঞ্জ
প্রথম ২০টি চ্যালেঞ্জ কম্পিলিট হওয়ার পর পরবর্তী ২১-৩০ নং লেভেলে গেমার টিম তাদের কৌশল পাল্টে ফেলে। কারণ ইতিমধ্যেই তারা একজন গেমারের ছোট-খাটো সকল তথ্য ও পার্সনাল ইনফরমেশন নিয়ে নিয়েছে । এর পরই তারা গেমারকে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই পর্বের চ্যালেঞ্জগুলোর অনেকটা “হিপন্সিস” এর মাধ্যমে ঘটানো হয়। হিপ্নসিস হলো মানুষের মস্তিস্ক নিয়ন্ত্রন করার একটি প্রক্রিয়া। আর এই প্রক্রিয়াকে নিখুত ভাবে কাজে লাগিয়ে গেমারকে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করা হয়। যেমন, ঠান্ডার রাতে একটা হালকা ড্রেস পরে সারারাত জেগে হাকা এবং সারাদিন না খয়ে থাকা, পরিবারের সাথে ঝগড়া করা এবং বাড়ি থেকে টাকা চুড়ি করা, ঘনিষ্ট বন্ধু-বান্ধবের একান্তই কিছু ব্যক্তিগত জিনিশ চুরি করা এবং প্রমান হিসেবে সেগুলোর একটি করে ফটো আপলোড দেওয়া ইত্যাদি। ২৫ লেভেলের পর গেমারকে বিভিন্ন ড্রাগ নিতে অভ্যাস্ত করা হয় এবং খুব সুক্ষভাবে হিপ্নসিসের মাত্রা বৃদ্ধি করে লেভেল ৩০ পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

৩০ টি চ্যালেঞ্জ সম্পুর্ন হলে ব্লু হোয়েল টিম আরও বেশি কৌশলী হয়ে উঠে এবং তারা পরবর্তী লেভেল গুলো একেবারেই আনলক করতে চাই না। আর এদিকে ৩০ টি লেভেল কম্পিলিট করে একজন গেমারের অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, সে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে এর জন্য সে যেকোন কিছু করতে করতে প্রস্তুত থাকে। আর তারা এটাকেই সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে তারা গেমের ৩১ নং চ্যালেঞ্জ আনলক করে দেয় আর তাতে বলা হয় যে, তুমি নগ্ন পোজে বেশকিছু ফটো তুলে আমাদের কাছে আপলোড করো।
গেমার তখন ড্রাগের কারণে হোক অথবা হিপন্সিস জনিত কারনেই হোক সে গেমটার প্রতি এতটাই অ্যাফেক্টেড হয়ে পরে যে সে নিজের নগ্ন ফটো আপলোড দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। আর এ ভাবেই গেমটি তাকে পরবর্তী লেভেল গুলোতে বাধ্য করে অতি ভারিমাত্রার ড্রাগ নিতে, কারও সাথে সেক্স করে তার ফটো আপলোড দিতে আর গেমটির ৪০ নং চ্যালেঞ্জে বলা হয় যে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত পক্ষে ২৫ থেকে ৩০ টা সুচ প্রবেশ করিয়ে তার একটি ফটো আমাদের কাছে সেন্ড করো।

*dethly blue whale

৪০ টি চ্যালেঞ্জ কম্পিলিট হওয়ার পর গেমার এতটাই মানুষিক ভাবে বিকার গ্রস্থ ও ভীত হয়ে পরে যে, সে বার বার ব্লু হোয়েল টিমকে রিকোয়েষ্ট করতে থাকে, সে আর এই গেমটি খেলতে চায় না, সে আর চাপ নিতে পারছে না, তাকে ছেড়ে দেওয়া হোক। কিন্তু ব্লু হোয়েল টিম তাকে আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করতে তাকে ব্লাক মেইল করতে শুরু করে। বলে যে, তুমি যদি পরবর্তি চ্যালেঞ্জ গ্রহন না কর। তাহলে তোমার নগ্ন ফটো গুলো তোমার ফেসবুকে পোষ্ট করে দেওয়া হবে, তোমার ড্রাগ নেওয়ার সকল প্রমান পুলিশকে দিয়ে দেওয়া হবে, তোমার সেক্স করার ফটোগুলো তোমার বাবা-মায়ের কাছে প্রকাশ করে দেওয়া হবে, ফ্রেন্ডদের ব্যক্তিগত জিনিশ ও বাড়িতে টাকা চুড়ির ঘটনাগুলোও প্রকাশ করে দেওয়া হবে। তাদের এই ধরণের কথা শুনে গেমার আরও বেশি আতংকিত হয়ে পরে এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয় পরবর্তি চ্যালেঞ্জ accept করতে। সুতরাং আবার তাক বাধ্য করা হয় শরীরে ব্লেড কিংবা ছুরি চালাতে এবং ভারি মাত্রার ড্রাগ নিতে। গেমার যখন আর এ সব চাপ নিতে পারে না তখন সে আপন মনেই আত্নহনের পথ বেছে নেয়। গেমটির ৫০ নম্বর চ্যালেঞ্জে বলা হয় ,
এটি সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ, এর পর আমরা তোমাকে আর কোন ভাবে বিরক্ত করব না। এই চ্যালেঞ্জে তোমাকে আমাদের দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী শেষবারের মত একটি ড্রাগ সংগ্রহ করতে হবে। এটি নিয়ে কোন একটি উচু বিল্ডিং এর ছাদে উঠতে হবে এবং একেবারে কিণারায় দাড়িয়ে এটি তোমার শরীরে পুশ করতে হবে এবং প্রমান সরুপ এর একটি সেলফি তুলে আমাদেরকে দিতে হবে, যাতে করে আমরা বুঝতে পারি যে, তুমি সকল নির্দশনা গুলো সঠিক ভাবে পুরণ করেছ আর এরপরই তোমাকে সকল পার্সনাল ইনফরমেশন ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তুমি গেমটিকে আনইন্সটল করতে পারবে এবং তুমি সেফ থাকবে।

*সুইসাইড
নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথেই গেমার ড্রাগটি সংগ্রহ করে ফেলে এবং সেটি নিয়ে একটি ১৫ তলা আপার্ট্মেন্টের একবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে সেটিকে নিজের শরীরে পুশ করে দেয়। পুশ করার একটি সেলফি তুলে সেটি ব্লু হোয়েলে আপলোড করে এবং এর টিম মেম্বাররা এটি নিশ্চিত হয়ে তাকে কংগ্রাচুলেশন্স জানায় । বলে তুমি এই গেমের সকল লেভেল সম্পুর্ন করেছ এবং তোমাকে আমাদের আর দরকার নেই, তাই আজ থেকে তুমি মুক্ত। নিচে তাকিয়ে দেখ তোমার গন্ত্যব্য তোমাকে ডাকছে, সূতরাং,
বেশি দেরি করো না, এক্ষনি ঝাঁপ দাও। আর গেমার তখন ড্রাগ অ্যাফেক্টেড থাকার কারনে সম্পুর্ন হীতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং বুঝতে পারে না যে, তাকে কি করতে হবে। প্রচন্ড ঘু্মের চাপে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসে, সে চারদিকে ঝাপসা দেখতে শুরু করে। নিজের অজান্তেই সে সত্যি সত্যিই ঝাঁপ দিয়ে বসে এবং নিজের মুক্তির পথ খুজে নেয়। আর ব্লু হোয়েলও খুজতে থাকে তার পরবর্তী শিকারকে।

ব্লু হোয়েলের আরও আকর্ষনীয় বিষয় হলো এর simple graphical interface. এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে থাকা এর বেশ কিছু ব্রেইন ওয়াশ background music. গেমটির গ্রাফিক্স খুব সিম্পল হলেও এর পুরো ইন্টারফেস সকলেরই পছন্দ হবে। আর একজন মানুষকে মেডিটেট করার জন্য মিউজিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষকে হিপ্নসিস করার ক্ষেত্রে কিছু মিউজিক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্লু হোয়েলে এই বিষইটিকে খুব সুন্দর ভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। অনেকেই হয়তো ভাবছেন যে, একটি মিউজিক কিভাবে মানুষের ধ্যান-জ্ঞানকে এক করে ফেলতে পারে।কিন্তু আসলে এটিও সম্ভব।

মধ্যযুগে ইরানের কিছু দস্যুরা দস্যুবৃত্তির জন্য এক বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নির্জন মরুভূমিতে যখন কোন কাফেলা যেত, তারা তার আশেপাশে সন্তুর (ইরানি বাদ্যযন্ত্র) এর এমন এক রাগ সৃষ্টি করত যে, কাফেলার সকল লোকজন সে সুরে বিমহিত হয়ে পরত আর মাতাল হয়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকত। এই সুযোগে দস্যুরা তাদের সমস্ত অস্ত্রসস্ত্র, ধনসম্পদ ও মালামাল লুট করত। ব্লু হোয়েলের টিমও একই কৌশল কাজে লাগিয়েছে। গেমারকে ভারি কোন চ্যলেঞ্জ দেওয়ার আগে তাকে ড্রাগ এবং গেমটিতে কিছু ব্রেইন ওয়াস মিউজিক চালিয়ে দেওয়া হতো। হিপ্নসিস করার পূর্বে তারা এই মিউজিক গুলোকে প্রধান হাতিয়ার
হিসেবে ব্যবহার করত। এর ফলসরুপ গেমারের ধ্যান, মন ও জ্ঞান একটি বিন্দুতে পরিনত হত আর তাকে বাধ্য করা হত সামনের চ্যলেঞ্জগুলোকে accept করতে।

গেমটিতে বেশকিছু ব্রেইন ওয়াশ মিউজিক রয়েছে। তবে “all I want” নামের মিউজিকটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।এটি ইন্টারনেটে avalable আছে। গেমের মতই এটিও সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এরকম আরও একটি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এই গেমে রয়েছে । মিউজিকটির টাইটেল হলো “Runway”.তবে ইন্টারনেটে এর কোন avility নেই। আমি অনেক খুজেও এর কোন হদিস বার করতে পারি নি। তবে “All I want” মিউজিকটি আপনি ইচ্ছা করলেই শুনতে পারবেন।
ব্লু হোয়েলের তৈরি করা একটি ভিডিওসহ মিউজিকটি এই লিংকে দেওয়া আছে। আপনারা যারা শুনতে চান তারা এই লিংকে ক্লিক করে শুনতে পারেন। ভিডিও সহ পুরো মিউজিকটিই এখানে দেওয়া আছে। কেউ যদি ভাবেন যে এটি আমার কতখানি ব্রেইন ওয়াস করতে পারবে? তাহলে আমি বলব রাত 02:00 am এর পর অন্ধকার একটি ঘরে রিলাক্স হয়ে বসে অথবা শুয়ে মিউজিকটি শুনুন, আশা করছি নিজেই এর উত্তরটি পেয়ে যাবেন। এটি প্রথাগত ধারার বাইরের একটি মিউজিক । এটি শুনার পর কিছুটা হলেও আপনি নতুনত্বের স্বাদ পাবেন।

ব্লু হোয়েল গেমটি বিদেশে বেশ আতংক ছড়িয়ে রাখলেও আমাদের দেশে এর কনো প্রভাব নেই। রাশিয়াসহ বাইরের বেশকিছু রাষ্ট্র ইতিমধ্যেই গেমটি নির্মূল করার ব্যপারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেই সব দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ডার্ক ওয়েবের বিভিন্ন সাইট access করছে এবং বিভিন্ন জাইগায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই গেমের লিংক গুলোকে জব্দ করছে। বাংলাদেশে এর কোন প্রভাব না থাকলেও এর জন্য গনসচেনতা জাগিয়ে তুলা খুবই জরুরি। কেননা কেও জানে না কে কখন এই গেমের শিকার হয়ে পরবে। তাই এখনই সচেতন হোন এবং অপরকে সচেতন করুন। নিজের ছেলেমেয়েদের প্রতি খেয়াল রাখুন, তারা ফোনে অথবা পিসিতে কি করছে, কোন সাইটে
ঢুকছে, কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে, এসব বিষের প্রতি যত্নবান হোন। আর বাবা-মায়দের আমি অনুরোধ করে বলছি, প্লিজ আপনারা কেউ আপনাদের ১৪-১৫ বছরের সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিবেন না। তারা যতই বায়না করুক না কেন। ছেলেমেয়ে বায়না করবেই, কিন্তু তাদের সব বায়না পুরণ করে দেওয়া মানে তাদেরকে ধংশের মুখে ঠেলে দেওয়া। সুতরাং, সাবধান হন। তাদেরকে কোন মতেই স্মার্টফোন কিনে দিবেন না। যদি বাসা থেকে স্কুল খুব দূরে হয় এবং স্কুলে থাকা অবস্থায় ছেলেমেয়ের সাথে যোগাযোগ করার প্রয়োজন হয় কিংবা একান্তই কোন প্রয়োজনে তাদেরকে যদি ফোন দিতেই হয়, তাহলে একটি নরমাল কথা বলা ফোন দিন। এতে করে আপনার যেমন উদ্দেশ্য পুরন হবে অন্যদিকে আপনার সন্তানও সেফ থাকবে।

আমার লাইফে এ পর্যন্ত কোন দামি ফোন ইউজ করার সুযোগ হয়নি। অথচ আজকাল কার বাচ্চাদের দেখা যায়, তারা লেটেস্ট আইফোন নিয়ে ঘুরাঘুরি করছে। এটা ঠিক না। স্মার্টফোনে ব্লু হোয়েলই যে একমাত্র আতংক তা কিন্তু নয় একজন বাচ্চার কাছে একটি স্মার্টফোন থাকলে তার কি পরিমান ক্ষতি হতে পারে তা নিশ্চয় আপনাদেরকে বুঝাতে হবে না। তাই আবারও বলছি তাদেরকে স্মার্টফোন দেওয়া থেকে বিরত রাখুন। তাদের প্রতি যত্নবান হন, কাজের চাপে তাদের কখনই দূরে সরিয়ে দিবেন না। প্রতিদিন রাতে অন্তত পক্ষে এক ঘন্টা করে হলেও তাদেরকে সময় দিন এবং তাদের ভালোমন্দের প্রতি খেয়াল রাখুন। শাসন করতে হলে মেরে শাসন করবেন না,
তাদেরকে বুঝিয়ে বলুন অথবা হালকা ভাবে শাসন করুন। কোন ভুল করলে নিজ দায়িত্বে তাদের ভুলগুলোকে শুধরিয়ে দিন এবং তাদের ভিতর সামাজিক ও ধর্মীয় মুল্যবোধ জাগিয়ে তুলুন। তাহলে দেখবেন তারা কখনো আর ভুল পথে যাবে না এবং আপনারাও তাদের কাছে আজিবন শ্রেষ্ঠ বাবা-মা হয়েই থাকবেন। আর এভাবেই সন্তানদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করছি।

শেষ করার আগে আর একটি কথা, অনেকেই মনে করছেন যে, যেহুতু ব্লু হোয়েলের নির্মতাকে অ্যারেষ্ট করা হয়েছে সেহুতু এটি আর কোন আতঙ্কের বিষয় না। এটা একেবারেই ভুল। এর নির্মাতাকে গ্রেফতার করা হলেও এর টিম মেম্বাররা বিভিন্ন দেশে থেকে গেমটিকে সক্রিয় রেখেছে। আর যেহেতু এর ভয়াবহতা সবাই জেনে ফেলেছে সেহুতু এটি নতুন কোন কৌশলে আবার হাজির হতে পারে। তাই সাবধান হোন । কোন আজেবাজে লিংকে ঢুকবেন না কিংবা কোন আকর্ষনীয় অ্যাপ বা গেম দেখা মাত্রই ইন্সটল করে ফেলবেন না। কোন অ্যাপ বা গেম ইন্সটল করার আগে অন্তত্বঃপক্ষে একবাবের জন্য হোলেও ভেবে নিন যে, আসলেই এটি আপনার প্রয়োজন আছে কিনা। যদি না থাকে তাহলে তাকে এড়িয়ে চলায় ভালো। আপনার বন্ধু-বান্ধব কিংবা আশেপাশের কোন পরিচিত মানুষকে, ফেসবুক, টুইটার অথবা ইন্সটাগ্রামে #IaminWhale লিখে কোন পোষ্ট করতে দেখেন তাহলে বুঝে নিবেন, সে ব্লু হোয়েলের শিকার হয়েছে। কেননা এই গেমের কোন এক চ্যালেঞ্জে প্লেয়ারকে
বলা হয়, সোসিয়াল মিডিয়ায় #IaminWhale লিখে হ্যাস ট্যাগ দিতে। এরকম কোন পোষ্ট দেখলে তাকে অবস্যই গেমটির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্ক বলুন এবং গেমটি খেলতে নিষধ করুন, তার ফ্যামিলিতে ব্যাপারটি জানান আর তাকে মৃত্যর হাত থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন।

সবশেষে আমি আপনাদের দুইটি ভিডিও দিচ্ছি। যাদের ব্লু হোয়েল সম্পর্কে এখনো কৌতুহল মিটে নি, তার প্রথম ভিডিওতে দেখতে পাবেন, গেমটি ইন্সটল করার পর এতে ০১ থেক ৫০ লেভেল পর্যন্ত কি কি চ্যালেঞ্জ থাকে এবং দ্বিতীয় লিংকে দেখতে পাবেন এই গেমটির শিকার হয়ে একজন চাইনিজ তরুনি কিভাবে মৃত্যর পথ বেছে নিচ্ছে। দুটো লিংকই নিচে দেওয়া রইলো। যাদের ইচ্ছা হবে, দেখে নিবেন । ধন্যবাদ সবাইকে।

অনলাইন থেকে সংগ্রহ




ব্লু হোয়েল গেম কি ?

ঢাকার সেন্ট্রাল রোডের স্কুল পড়ুয়া মেধাবী এক কিশোরীর আত্মহত্যার পর সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইন্টারনেটভিত্তিক গেম ‘ব্লু হোয়েল’। বলা হচ্ছে, এটি এমন একটি গেম যেখানে ঢোকা যায়, কিন্তু বের হওয়া কঠিন।

আর বের হতে না পারা মানা আত্মহনন দেওয়া। এখন আপনার প্রশ্ন আসতেই পারে, কি এমন গেম যে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিতে হবে।

ব্লু হোয়েল মোটেও ইন্টারনেট ভিত্তিক অন্যান্য সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন কিংবা নিছক গেম নয়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক একটি ডিপওয়ে গেম। বলা হচ্ছে, যেসব কম বয়সী ছেলে-মেয়ে অবসাদে ভোগে, তারাই অসাবধানতাবশত এই গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো ক্লান্তি বা বিষণ্নতা দূর করার গেম নয়। আত্মহত্যার প্রবেশ পথ মাত্র।

ব্লু হোয়েল গেমে ৫০টি লেভেল রয়েছে। এক বা একাধিক কিউরেটর দ্বারা পরিচালিত এই গেমের শেষ লেভেলের টাস্কগুলো খুবই ভয়ংকর। তবে প্রথম দিকের লেভেল ও তার টাস্কগুলো বেশ মজার হওয়ায় এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। নিয়ম অনুযায়ী একবার এই গেম খেললে বের হওয়া যায় না। কেউ বের হতে চাইলেও তাদের চাপে রাখতে পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয় বলে প্রচলিত আছে।

এই গেমের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। যেমন ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা, সারা গায়ে আঁচড় কেটে রক্তাক্ত করা, কখনো ভোরে একাকি ছাদের কার্নিশে ঘুরে বেড়ানো, রেল লাইনে সময় কাটানো, ভয়ের সিনেমা দেখা ইত্যাদি। চ্যালেঞ্জ নেয়ার পর এসব ছবি কিউরেটরকে পাঠাতে হয়। ২৭তম দিনে হাত কেটে ব্লু হোয়েলের ছবি আঁকতে হয়। একবার এই গেম খেললে কিউরেটরের সব নির্দেশই মানা বাধ্যতামূলক। তার শেষের দিকের লেভেলে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বের হতে পারে না। তবে গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা। আর এর মাধ্যমেই ঘটে গেমের সমাপ্তি।

বলা হয়, এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনো ভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।

— বিডি-প্রতিদিন/০৯ অক্টোবর, ২০১৭/মাহবুব

ব্লু হোয়েল গেম; যেভাবে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে

কাশেম বিন হুসাইন: বর্তমান যুগ অনলাইনের। বিশ্বের উন্নত দেশ থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি দেশে ডিজিটালের জোয়ার বইছে। আর তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়ছে মানুষ। আর বর্তমান প্রজন্ম মেতে আছে তাদের স্মার্টফোন আর ভিডিও গেমে। তবে এ গেম প্রযুক্তিও আধুনিক হয়েছে।

সাধারণ ভিডিও গেমের বদলে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে অনলাইন গেম। সারাবিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে এখানে প্রতিযোগীতা করা যায়। এ কারণে বর্তমান প্রজন্ম নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ছেন। এক সময় তাদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে হতাশা। আর তারপরই এই অনলাইন গেমের মাধ্যমেই ঘটছে মর্মান্তিক ঘটনা।

অবাক করার মত বিষয় হলেও এটাই সত্যি যে, গেম খেলতে খেলতে এক সময় আত্মহত্যা করতেও হৃদয় কাঁপছে না তাদের।

বর্তমান বিশ্বের আতঙ্ক এক অনলাইন গেম নিয়ে। তার নাম ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’। যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের মত দেশগুলোতে এর বিপক্ষে স্কুল কলেজে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তরুণ-তরুণীদের এ গেম খেলা থেকে বিরত রাখার জন্য রীতিমত চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সেদেশের বিশেষজ্ঞরা।

ব্লু হোয়েল গেম কী?
অনলাইনে একটি কমিউনিটি তৈরি করে চলে এ প্রতিযোগীতা। এতে সর্বমোট ৫০টি ধাপ রয়েছে। আর ধাপগুলো খেলার জন্য ঐ কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিবে। আর প্রতিযোগী সে চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি আপলোড করবে।

শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেয়া হয়। যেমন: মধ্যরাতে ভূতের সিনেমা দেখা। খুব সকালে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটা এবং ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা।

তবে ধাপ বাড়ার সাথে সাথে কঠিন ও মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক। যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এ খেলার সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা। অর্থাত্ গেম শেষ করতে হলে প্রতিযোগীকে অাত্মহত্যা করতে হবে।

কেন যুবক-যুবতীরা আকৃষ্ট হচ্ছে:
শুরুতে তুলনামূলক সহজ এবং সাহস আছে কি না এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ায় তা যুবক-যুবতীদের কাছে আকৃষ্ট হয়। তবে একবার এ খেলায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। খেলার মাঝপথে বাদ দিতে চাইলে প্রতিযোগীকে ব্লাকমেইল করা হয়। এমনকি তার আপনজনদের ক্ষতি করার হুমকিও দেয়া হয়। আর একবার মোবাইলে এই অ্যাপটি ব্যবহারের পর তা আর ডিলিট করা যায় না।

কোথায় জন্ম:
এই খেলার জন্ম রাশিয়ায়। জন্মদাতা ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় প্রথম সূত্রপাত। ২০১৫ সালে প্রথম আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়।

তবে এহেন গর্হিত কাজের জন্য নিজেকে অপরাধী না বলে বরং সমাজ সংস্কারক বলে নিজেকে অভিহীত করে বুদেকিন। সে জানায়, এই চ্যালেঞ্জের যারা শিকার তারা এ সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য নয়।

এ গেম নিয়ে রীতিমত অবাক রাশিয়া পুলিশ। তদন্তের পর তারা জানায় অন্তত ১৬ জন কিশোরী এ গেমের কারণে আত্মহত্যা করেছে। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩০ জনের আত্মহত্যার জন্য এ গেম দায়ী।

গেম কিভাবে তরুণ-তরুণীদের আত্মঘাতী করছে সে বিষয়ে চিন্তিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ব্রিটেন-আমেরিকায় এ গেম জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। যার ফলে সে দেশগুলো তাদের স্কুল-কলেজ সমুহে এ গেমের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে।

তবে এ গেমের মূল অ্যাডমিন বুদেকিন আটক থাকলেও থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। যার ফলে এ গেমের প্রভাব বিরাজমান। সম্প্রতি ভারতে এ গেমের ফলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

 

 




কিডনি ভালো থাকে কি বেশি খেলে ?

একজন মানুষের পানি কতটুকু খেতে হবে, তা নির্ভর করে তার কাজের ধরন, দেহের আকার, পরিবেশ, আবহাওয়া ইত্যাদির ওপর। পানির চাহিদা বোঝার জন্য মস্তিষ্কে আছে পিপাসাকেন্দ্র, যা ঠিক করে দেয় কখন কতটুকু পানি পান করতে হবে। তাই মস্তিষ্ক যতক্ষণ কাজ করছে, ততক্ষণ পানির অভাবে জটিলতা সৃষ্টির অবকাশ নেই।

পানি বেশি খেলেই যে কিডনি ভালো রাখা সম্ভব, তাও পুরোপুরি ঠিক নয়; যদিও পর্যাপ্ত পানি পান মূত্রের ঘনত্ব স্বাভাবিক রাখে এবং সংক্রমণ রোধ করে। কিন্তু কিডনি খারাপ হওয়ার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কিছু ইমিউন রোগ, যা পানি খেয়ে রোধ করা সম্ভব নয়।

রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন অথবা পরিবারের কারও কিডনি সমস্যা থাকলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত।

kidny

ভীতিকর কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা এবং এর সমাধান করতে পারা কিডনির জন্য খুবই উপকারী। কারণ, এই ধরনের কাজ মানসিক চাপকে দূর করে এক ধরনের প্রশান্তি দেয়, যা কিডনিকে শক্তিশালী করতে ও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। কিডনির সঙ্গে শরীরের নিচের অংশের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

পরিশ্রম ও ব্যায়ামের ফলে দেহের পশ্চাৎদেশ ও পায়ের মাংসপেশী সমৃদ্ধ হয়। আর এই সমৃদ্ধ মাংসপেশী কিডনিকে আরও বেশি শক্তিশালী করে।

কিডনি ভালো রাখার ১০টি উপায়

মানুষের শরীরে দুটি কিডনি থাকে যেগুলো শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ছেঁকে ফেলে। কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিবছর অনেক মানুষ এ রোগে মৃত্যুবরণ করে। এ ধরনের রোগের চিকিৎসাও বেশ ব্যয়বহুল। তাই আগে থেকেই কিডনির যত্ন নেয়া উচিত। জেনে নিন কিডনি ভালো রাখার ১০টি উপায়।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন

প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।

লবণ কম খান

খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র ১ চা চামচ লবণের চাহিদা থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করার অভ্যাস করুন।

অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন

গরুর মাংস, শুকরের মাংস ইত্যাদি খেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এমনকি চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ইন্সট্যান্ট নুডলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাবার তালিকায় অতিরিক্ত প্রোটিন থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে এবং কিডনির দুর্বল কোষগুলোর ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রাণিজ প্রোটিন এড়িয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় প্রোটিন রাখুন।

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুন

রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর উপরে থাকলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কিডনি ভালো রাখতে রক্তচাপ সবসময় ১৩০/৮০ অথবা এর কম রাখার চেষ্টা করুন। রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা ও লবণ কম খাওয়া জরুরি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিয়মিত রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করান। সুগার বেশি থাকলে মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান

কম বেশি প্রায় সব ওষুধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধগুলো কিডনির জন্য একেবারেই ভালো নয়। নিয়ম না জেনে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খেলে আপনার অজান্তেই কিডনির বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই যে কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিন।

প্রয়োজনের বেশি ভিটামিন সি খাবেন না

মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি এর প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম বা এর কম ভিটামিন সি গ্রহণ করুন।

কোমল পানীয় ত্যাগ করুন

অনেকেই পানির বদলে কোমল পানীয় বা বিভিন্ন রকমের এনার্জি ড্রিঙ্কস খেয়ে থাকেন। এ ধরনের পানীয় কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন এবং যখনই তৃষ্ণা পায় পানি খেয়ে নিন।

ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন

ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে ধূমপায়ী ও মদ্যপায়ী ব্যক্তি একপর্যায়ে গিয়ে কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়।

কিডনির পরীক্ষা করান

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন অথবা পরিবারের কারও কিডনি সমস্যা থাকলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত