Warning: Use of undefined constant TDC_PATH_LEGACY - assumed 'TDC_PATH_LEGACY' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/triccntc/teachersnews24.com/wp-content/plugins/td-composer/td-composer.php on line 114
যেভাবে কক্ষপথে পৌঁছালো বঙ্গবন্ধু-১ - Teachers News24

যেভাবে কক্ষপথে পৌঁছালো বঙ্গবন্ধু-১

image_pdfimage_print

বেশ কয়েকবার তারিখ বদলের পর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে মহাকাশের পথে উড়াল দেয় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। উৎক্ষেপণের পর নির্ধারিত ৩৩ মিনিটেই স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে পৌঁছে যায়। রকেট উৎক্ষেপণ সংস্থা স্পেসএক্স টুইটারে জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে (জিটিও) স্যাটেলাইটটির অবতরণ নিশ্চিত করেছে।

উৎক্ষেপণের ৩৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড পর কক্ষপথে পৌঁছায়উৎক্ষেপণের ৩৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড পর কক্ষপথে পৌঁছায়

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কেপ কেনেডি সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে মহাকাশের পথে উড়াল দেয় বঙ্গবন্ধু-১। স্যাটেলাইটটি বহন করে নিয়ে যায় স্পেসএক্স কোম্পানির সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রকেট ফ্যালকন-৯ এর ব্লক-৫ সংস্করণ। সাড়ে তিন হাজার কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইট। রকেটটি মহাকাশে বাংলাদেশের ভাড়া নেওয়া অরবিটাল স্লট ১১৯.১ ডিগ্রিতে নিয়ে যাবে স্যাটেলাইটটিকে।

স্পেসএক্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (১১ মে) কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯এ থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। উৎক্ষেপণ শুরু হয় ৪টা ১৪ মিনিটে এবং শেষ হয় ৬টা ২১ মিনিটে। উৎক্ষেপণের ৩৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড পর স্যাটেলাইটটি জিটিওতে পৌঁছায়।

রকেট উৎক্ষেপণ শুরুরকেট উৎক্ষেপণ শুরু

স্পেসএক্স’র দেওয়া তথ্য অনুসারে, পুরো উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপটি কাউন্ট ডাউন এবং দ্বিতীয় ধাপটি হচ্ছে লঞ্চ, ল্যান্ডিং ও স্যাটেলাইট ডেপলয়মেন্ট। প্রথম ধাপে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ শুরু পর্যন্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপটিতে রয়েছে উৎক্ষেপণের পর অবতরণ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া।

সংস্থাটি জানায়, উৎক্ষেপণের ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড পর রকেট ম্যাক্স কিউতে পৌঁছায়। ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ধাপে মেইন ইঞ্জিন আলাদা হয়। ২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে দ্বিতীয় ধাপে ইঞ্জিন চালু হয়। ৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে ঘটে ফেয়ারিং ডেপলয়মেন্ট। ৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর প্রথম পর্বের এন্ট্রি বার্ন হয়। ৮ মিনিট ১০ সেকেন্ড পর প্রথম পর্বের অবতরণ, ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড পর দ্বিতীয় পর্বের ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন (এসইসিও-১) হয়। ২৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে দ্বিতীয় পর্যায়ের ইঞ্জিন চালু হওয়ার পর ২৮ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে দ্বিতীয় ধাপে ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন (এসইসিও-২) হয়। এরপর ৩৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে স্যাটেলাইটটি অরবিটে বা কক্ষপথে অবতরণ করে।

মেইন ইঞ্জিনের বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর চালু হয় দ্বিতীয় ইঞ্জিনমেইন ইঞ্জিনের বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর চালু হয় দ্বিতীয় ইঞ্জিন

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে ২৬টি ‍কু-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার ও ১৪টি সি-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এটি সক্রিয় হলে দেশের টেলিভিশন ও ব্রডব্যান্ড যোগাযোগে উন্নতি ঘটবে। এ স্যাটেলাইটের কারণে তিন ধরনের সেবা ও ৪০ ধরনের সুফল পাওয়া যাবে। এই স্যাটেলাইটটি অরবিটাল স্লট ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে অবস্থান করবে। এই অবস্থানে পৌঁছাতে থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অরবিটাল স্লট ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে পৌঁছে সেট হওয়ার পর সিগন্যাল পাঠাতে স্যাটেলাইটটির ১০-১২দিন সময় লাগতে পারে। এখন আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও কাজ নেই।’

দূর থেকে যেমন দেখা গেছে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণদূর থেকে যেমন দেখা গেছে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ

১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রির অরবিটাল স্লটে (নিরক্ষরেখায়) অবস্থান করবে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এটি উৎক্ষেপণের জন্য ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ১৫ বছরের জন্য অরবিটাল স্লট বা নিরক্ষরেখা (১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি) লিজ নিয়েছে বাংলাদেশ। ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে এ স্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। ১৫ বছরের চুক্তিটি করা হলেও তিন ধাপে তা ৪৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। এই প্রকল্পে সরকারের যে টাকা খরচ হবে তা স্যাটেলাইট ভাড়া দিয়ে ৮ বছরে তুলে এনে এই প্রকল্পকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান। স্যাটেলাইটের কাঠামো তৈরি, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানটির। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০টি ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অন্যগুলো ভাড়া দেওয়া হবে। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করা হয়েছে গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে।

 

 

You May Also Like

About the Author: Admin


Warning: Use of undefined constant TDC_PATH_LEGACY - assumed 'TDC_PATH_LEGACY' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/triccntc/teachersnews24.com/wp-content/plugins/td-composer/td-composer.php on line 114

9 Comments

  1. Pingback: vigar for sell
  2. Pingback: droga5.net
  3. Pingback: cialistodo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *