এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা পাচ্ছেন কি ?

পয়লা বৈশাখের আগে দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈশাখী ভাতা পাবেন। তবে বিশেষ কোনো ঘোষণা ছাড়া এবারো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা পাচ্ছেন না। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের শতভাগ সরকার প্রদান করে থাকে, জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্তি অনুযায়ী তারাও বৈশাখী ভাতা পাওয়ার কথা, কিন্তু অদৃশ্য কারণে তারা ভাতা পাননি। তবে সম্প্রতি সরকার ঘোষিত আশ্বাসে বলা হয়েছে বৈশাখী ভাতাও তারা পাবেন। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি পৃথক ঘোষণা দরকার। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো ঘোষণা সরকারের বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। তাই দ্বিতীয় বছরও সরকারের ঘোষিত এ সুবিধা থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সব সংগঠন শুরু থেকেই ‘বৈশাখী ভাতার’ দাবি করে আসছে। তারা এ দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের সাথে শিক্ষক নেতাদের বৈঠকের কথা থাকলেও সোমবার পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ নিয়ে সারা দেশে প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে রঙিন করতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগেই ২০১৫ সাল থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাংলা নববর্ষ থেকে এ ভাতা চালু করা হয়। চলতি অর্থ বছরের (২০১৮-১৯) বাজেটে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে। সারা দেশের সরকারি-আধা সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ভাতা দুই বছর থেকে পাচ্ছেন। সরকারি সব সুবিধা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আংশিক বা ঘোষিত অংশ পেয়ে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার ঘোষিত ‘বৈশাখী ভাতা’ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা পাবেন, এটিই শিক্ষক নেতাদের দাবি। তারা বলেছেন এটি শিক্ষকদের অধিকার। এ অধিকার থেকে শিক্ষকদের বঞ্চিত করা ঠিক হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়টিকে আমলাতন্ত্র্রের বেড়াজালে বন্দী করে রাখা হয়েছে। শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না।

শিক্ষক আন্দোলনের প্রবীণতম নেতাদের একজন অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বিশ্বাস করেন, ‘বৈশাখী ভাতা’ শিক্ষকেরা পাবেন। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হয়ে শিক্ষক নেতাদের সাথে জরুরি ভিত্তিতে শলাপরামর্শ করার কথা বলেন তিনি। আরো বলেন, আমলাতন্ত্রই এখানে বড় বাধা।

প্রবীণ আরেক শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মাযহারুল হান্নান বলেন, জাতীয় বেতন স্কেলভুক্ত শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা থেকে বঞ্চিত রেখে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। ঘোষণা শুরুর দিন থেকেই এটি শিক্ষকদের দেয়া উচিত ছিল। বৈশাখী ভাতা সরকারের একটি শুভ উদ্যোগ। এর সাথে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত না করায় শিক্ষকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে এটি চালু করা উচিত, শিক্ষার গুণগত মান বিকাশে শিক্ষকদের মাঝে এটি উৎসাহ জোগাবে।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ঘোষণা সময় থেকেই শিক্ষকদের ‘বৈশাখী ভাতা’ থেকে বঞ্চিত করে শিক্ষকদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণই করেছে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিনি এ বছরই এ ভাতা শিক্ষকদের জন্য বকেয়াসহ দেয়ার দাবি করেন। তিনি এ ব্যাপারে সরকার সমর্থক শিক্ষক নেতাদের ব্যর্থতারও অভিযোগ করেন।

স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ মহাসচিব অধ্যক্ষ মো: শাহজাহান সাজু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজ উদ্যোগে বৈশাখী ভাতা প্রবর্তন করেছেন। পয়লা বৈশাখ মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রামে-গঞ্জে বেশি পালিত হয়। অথচ শিক্ষকেরা এ ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি অবিলম্বে ও আসন্ন বৈশাখের আগেই এর ঘোষণার ও শিক্ষকদের জন্য এ ভাতা চালু করার জোর দাবি জানান।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সভাপতি ও শিক্ষক-সংগ্রামী ঐক্যজোটের সমন্বয়কারী মো: নজরুল ইসলাম রনি বলেন, বৈশাখী ভাতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অবদান। ২০১৫ সাল থেকে তা চালু হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ও ভাতা থেকে বঞ্চিত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার মা’ আখ্যায়িত করে তার (প্রধানমন্ত্রীর) নিজস্ব তহবিল থেকে হলেও বৈশাখী ভাতা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, সারা দেশের প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী অধীর আগ্রহে এ ঘোষণার অপেক্ষা করছেন।

247 thoughts on “এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা পাচ্ছেন কি ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*