*কলারমোচার পুষ্টিগুণ* জেনে নিন

কলার মোচা আয়রনসমৃদ্ধ একটি সবজি। দেহে রক্ত বাড়ায় এর আয়রন বা লৌহ। রক্তের মূল উপাদান হিমোগ্লোবিন। এই হিমোগ্লোবিনকেই শক্তিশালী করে এই কলার মোচা। এই মোচা হতে পারে নানা জাত ও ধরনের কলাগাছের। কলার মোচার খোসা ভক্ষণযোগ্য নয়। খেতে হয় ভেতরের ফুলগুলো। কলার মোচার ভেতরের আয়রন ত্বক, চুল ইত্যাদি ভালো রাখতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি। আয়োডিন গলগন্ড বা গয়টার রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এর নানা উপকরণ দাঁত মজবুত রাখে। রক্তশূন্যতা দূর করে এ সবজি। এতে আরো রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ`, যা রাতকানা রোগের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করে। মোচা পরিমাণমতো তেল দিয়ে ভাজি করলে খুবই সুস্বাদু হয়। এটি অনেকের অতি প্রিয় খাবার। হাড়ের জটিলতা দূর করে ঈষৎ লাল রংয়ের চোখা এই সবজি। মনোপোজ হওয়া নারীদের হাড় মজবুত রাখে কলার মোচা। শরীরে শক্তি বাড়ায় কলার মোচা। তবে টাটকা খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। হাড়ের জটিল কোনো অপারেশনের পর শরীরের রক্ত বাড়াতে এবং হাড় দ্রুত শক্তিশালী হতে সাহায্য করে মোচা। রাতকানা রোগ আছে এমন শিশুদের জন্য কলার মোচা খুবই দরকারি৷ গর্ভস্থ শিশুর প্রায় ৭০ ভাগ মস্তিষ্কের গঠন মায়ের পেটে থাকাকালে হয়ে যায়৷ তাই যেসব মা কলার মোচা, কাঁচকলার তরকারি নিয়মিত খান, তাঁদের রক্তশূন্যতা সহজে আক্রমণ করে না৷ বয়স্ক নারী-পুরুষ ও বাড়ন্ত শিশু, খোলায়াড় বা যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ এই সবজি৷। কলার মোচা সিদ্ধ করে পেঁয়াজ, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে ভর্তা করে খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কলার মোচা খুবই উপকারী। যাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, তারা কলার মোচা ভর্তা বা ডালনা খেলে উপকার পাবেন। মোচা টাটকা খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে কলার মোচা বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*