পর্যায়ক্রমে সব স্তরের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন

মাধ্যমিক স্তরের ন্যায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সব স্তরের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করে সুখপাঠ্য, সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। একই সঙ্গে বই ও পরীক্ষার বোঝাও কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে কমিটির সভায় নাহিদ বলেন, শিক্ষকের নৈতিকতা, শিক্ষক হিসেবে আরো ভালো করে নিবোদিত প্রাণ হয়ে গড়ে তোলা, সেই সঙ্গে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য, বইয়ের বোঝা কমানো, বই আরো সহজতর করার বিষয়ে শিক্ষাবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন।

শিক্ষাবিদরা পাঠ্যপুস্তক আরো সহজ করার পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের পাঠ্যপুস্তকগুলোকে আরো সহজতর করা, বোঝা কমানো, সুখপাঠ্য করা, আরো সহজ ভাষায় লেখা এবং ক্লাসরুমে পড়ানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।

‘আমরা সব পাঠ্যপুস্তকই এরকম করতে চাই, যাতে সহজভাবে পড়ে যেন বুঝতে পারে ও আয়ত্ত করতে পারে। এই ধরনের সহজপাঠ্য, সুন্দর ছবি ব্যবহার করতে চাই।’

শিক্ষাবিদরা ইন্সপেকশন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে নাহিদ বলেন, কাজগুলো কতটুকু হয় এবং কোথায় ত্রুটি থেকে যায় সেগুলো মূল্যায়ন করা দরকার। সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়েল অতিরিক্ত সচিব মুফাদ আহমদ বলেন, এবার জেএসসিতে তিনটি বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা হয়নি। সেগুলো স্কুলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এসএসসিতে এবার দু’টি বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা হবে না। ভবিষ্যতে পাঠ্যপুসস্তক কমিয়ে আনার বিষয়গুলো আসবে।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের গদবাধা নিয়ম থেকে বের হয়ে এসেছে সেজন্য এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় তুলনামূলক কম শিক্ষার্থী ভালো জিপিএ পেয়েছে বলে জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

তিনি বলেন, আপাতত দৃষ্টিতে বোঝায় না যে লেখাপড়া খারাপ হয়ে গেছে। লেখাপড়ার স্ট্যান্ডার্ডটা একটু মেইনটেন করা হয়েছে। ঠিক করে খাতা দেখতে পারলে ছেলেমেয়েদের ঠিক করে মূল্যায়ন করা সম্ভব।

আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আমেরিকার পাঠ্যবই সহজ, সরল, প্রাঞ্জল এবং আনন্দময়। যে কেউ পড়তে গেলে উপস্যাসের মতো মনে হয়। আমার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা লিখবেন, পরে

সেই লেখাটাকে আরো সহজ ভঙ্গিতে লিখবেন। যাতে মাস্টার না লাগে। আমাদের মাস্টার এতো বেশি লাগে যে ছাত্রের চেয়ে মাস্টার বেশি লাগে।

অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, স্বীকৃত শিক্ষকদের নিয়ে মন্ত্রণালয় আলোচনা করে পদক্ষেপ নিচ্ছে, এটা একটা অভিনন্দনযোগ্য। মাঠ পর্যায়ের শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা করলে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা পাবো।

পরামর্শক কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমদ, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, তাসলিমা বেগম, বেগম তানজিল আশ্রাফ এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*