এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈশাখী বোনাস পেতে যাচ্ছেন

image_pdfimage_print

 এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈশাখী বোনাস পেতে যাচ্ছেন

বৈশাখী বোনাস পেতে যাচ্ছেন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে এবার অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে এসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এ ভাতা পাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রূহী রহমান বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈশাখী বোনাস দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি। এটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এদিকে, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা না আসায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে প্রয়োজনে তারা আন্দোলনে নামবেন বলে জানালেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম রনি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। সব সরকারি চাকরিজীবীরা বৈশাখী বোনাস পেলে আমাদের নিতে কেন কার্পণ্য করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন তুলে তিনি দ্রুত এ সুবিধা প্রদানে সরকারি ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত সচিব রূহি রহমান বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের বকেয়া এপ্রিল মাসের বেতনের সঙ্গে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী বোনাস দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই খাতে বরাদ্দ চাওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্তের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন এই বোনাসটি বকেয়া হিসেবে দেয়া হবে।

শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সরকারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা পাচ্ছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এ ভাতা পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই ভাতা থেকে বঞ্চিত হলে আবারও বৈষম্যের শিকার হবেন।

জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা ছিল বৈশাখী ভাতার অন্তর্ভুক্ত হবেন। যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শিক্ষকরা নতুন বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটবে।

উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন স্কেলে বেতন পেলেও অর্থ সঙ্কটের কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে বর্ধিত বেতন দিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি মাসেও তারা বেতন তুলেছেন আগের (সপ্তম) বেতন স্কেলে। অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বর্ধিত বেতন দিতে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লাগছে। এটি সংশোধিত বাজেটে সমন্বয় করার কথা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Please wait...

Subscribe to our Site

Want to be notified when our article is published? Enter your email address and name below to be the first to know.