জান্নাতিদের প্রথম খাবার কি হবে জানেন কি?

এক ইহুদী পাদ্রী রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করল,
“জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করার
পর সর্ব প্রথম তাদেরকে কী খাবার
পরিবেশন করা হবে?” রাসূলুল্লাহ
সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেন, “মাছের কলিজা”। ইহুদী
জিজ্ঞেস করল, “এর পর কী পরিবেশন করা হবে?” রাসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এরপর জান্নাতীদের জন্য জান্নাতে পালিত গরুর গোশত পরিবেশন করা হবে”।
এরপর ইহুদী জিজ্ঞেস করল, “খাওয়ার পর পানীয় কী কী পরিবেশন করা হবে?” রাসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সালসাবীল নামক ঝর্ণার পানি”। ইহুদী পাদ্রী বলল, “তুমি সত্য বলেছ…”। (সহীহ
মুসলিম- কিতাবুল হায়েজ)

জান্নাতীদের খাবার ও পানীয় বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
‘সকাল সন্ধ্যায় তাদের জন্য রিজিকের ব্যবস্থা থাকবে। [সুরা মারইয়াম : ৬২] ।
জান্নাতের শরাব পান করার পর কোনো প্রকার মাতলামি ভাব দেখা দিবে না। [সুরা আস্‌-সাফফাত : ৪১-৪৭]
জান্নাতীদেরকে এমন শরাব পান করানো হবে যার মধ্যে আদার স্বাদ থাকবে। [সুরা আদ‌-দাহর : ১৫-১৮]
জান্নাতীদের পানের জন্য সুস্বাদু পানি, সুমিষ্ট দুধ, সুস্বাদু শরাব, পরিষ্কার স্বচ্ছ মধুর নদীও জান্নাতে বিদ্যমান থাকবে। [সুরা মুহাম্মদ : ১৫]
হাদিসে আছেÑ রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোলাম সাওবান রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসুল সা. এর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ইতোমধ্যে ইহুদিদের পাদ্রীদের মধ্য থেকে একজন পাদ্রী আসল এবং জিজ্ঞেস করল, ‘যে দিন আকাশ ও জমিন প্রথম পরিবর্তন করা হবে তখন মানুষ কোথায় থাকবে?’ রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ‘পুলসেরাতের নিকটবর্তী এক অন্ধকার স্থানে’। অতঃপর ইহুদি পাদ্রী জিজ্ঞেস করল, ‘সর্বপ্রথম কে পুলসিরাত পার হবে?’ তিনি বললেন, ‘গরিব মুহাজিরগণ (মক্কা থেকে মদীনার হিজরতকারী)’। ওই ইহুদি পাদ্রী আবার জিজ্ঞেস করল, ‘জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর সর্বপ্রথম তাদেরকে কী খাবার পরিবেশন করা হবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ‘মাছের কলিজা’। ইহুদি জিজ্ঞেস করল, ‘এর পর কী পরিবেশন করা হবে?’ রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ‘এরপর জান্নাতিদের জন্য জান্নাতে পালিত গরুর গোশত পরিবেশন করা হবে’। এরপর ইহুদি জিজ্ঞেস করল, ‘খাওয়ার পর পানীয় কী কী পরিবেশন করা হবে?’ রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ‘সালসাবীল নামক ঝরনার পানি’। ইহুদি পাদ্রী বলল, ‘তুমি সত্য বলেছৃ’। [মুসলিম]
অন্য হাদিসে হজরত আবু সাঈদ খুদরি রা. রাসুল সা. থেকে বর্ণনা করে বলেন, কিয়ামতের দিন এ পৃথিবী একটি রুটির ন্যায় হবে। আল্লাহ্‌ স্বীয় হস্তে তা এমনভাবে উলট-পালট করবেন যেমন তোমাদের কেউ সফররত অবস্থায় তার রুটিকে উলট পালট কর। আর ওই রুটি দিয়ে জান্নাতিদেরকে মেহমানদারী করা হবে। [মুসলিম]।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*