পরীক্ষায় করণীয় ও উত্তর লেখার কৌশল এবং পরামর্শ

image_pdfimage_print

পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ হলো- পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র হাতে পেলে রোল, রেজিস্ট্রেশন ও বিষয় কোড লেখার আগে তোমাকে উত্তরপত্রের প্রতিটি পাতা উল্টিয়ে দেখতে হবে ভেতরের পাতাগুলো ঠিক আছে কি-না। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তবে তুমি কভার পৃষ্ঠার বা ওএমআর সিটের নির্দিষ্ট স্থানে রোল রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি লিখে তা ভরাট করে ফেলবে। আর যদি ভেতরের কোন পাতা ছেঁড়া বা নষ্ট থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শকের নিকট উত্তরপত্রটি বদল করে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিা বোর্ডে ও কেন্দ্রে উত্তরপত্রসমূহ বার বার যাচাই বাছাই করে দেখার পরেও নষ্ট উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীর হাতে পড়তে পারে। যদি উত্তরপত্রের পাতাগুলো উল্টিয়ে না দেখে রোল, রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি লিখে বৃত্ত ভরাট করে ফেল এবং উত্তরপত্রে মার্জিন দিতে গিয়ে ত্রুটির বিষয়টি তোমার নজরে আসে ‘তখন উত্তরপত্র পাল্টাতে সমস্যা দেখা না দিলেও তোমার মূল্যবান কিছু সময় যে নষ্ট হয়ে গেল তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাছাড়া পরীার শুরুতে এমন ঘটনায় তোমার মনে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই উত্তরপত্র হাতে এলে সবার আগেই উত্তরপত্রটি তোমাকে একবার নিরীা করে দেখতে হবে।
উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠা বা ওএমআর সিটের তিনটি অংশ থাকে। কেবল প্রথম অংশটি পরীার্থীদের ব্যবহারের জন্য এবং দ্বিতীয় অংশ পরীক/প্রধান পরীকের জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে। তৃতীয় অংশটি উত্তরপত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে। পরীার্থীকে ওএমআর সিটের তার নির্দিষ্ট অংশের নির্দিষ্ট স্থানে রোল,রেজিস্ট্রেশন ও বিষয় কোড লিখে তৎসংলগ্ন নিচের সংখ্যাগুলো ভরাট করে দিতে হয়। ওএমআর সিটের  দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশটি কোন ভাবেই পূরণ করা যাবে না এবং বৃত্ত ভরাটের েেত্র অবশ্যই কালো রঙের কালির বল পয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।
এবার কভার পৃষ্ঠার বৃত্ত  ভরাটের কাজটি অতি সতর্কতার সাথে তোমাকে করতে হবে। যদি তারপরেও কোন সংখ্যার বৃত্ত ভুল ভরাট হয়ে যায়, তবে সেেেত্র ভুল ভরাট হয়ে যাওয়া বৃত্তটি কোনরূপ ঘসাঘসি না করে বা না কেঁটে পুনরায় সঠিক সংখ্যার বৃত্তটি ভরাট করে দিতে হবে। বৃত্ত ভরাটের পর কভার পৃষ্ঠার পরের পাতায় যেখানে পরীার সাল, বিষয়, বিষয় কোড ও তারিখ লেখার জায়গা রয়েছে সেগুলো লিখে ফেলা উচিত। এবার সম্পূর্ণ উত্তরপত্রটি স্কেল ও পেন্সিল/কলম দ্বারা মার্জিন দিয়ে নিতে হবে। মার্জিন যাতে আঁকা বাঁকা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তোমার উত্তরপত্রের মার্জিন এক ইঞ্চির বেশি না হওয়া ভাল। আবার খুব ছোট বা অর্ধইঞ্চি মার্জিন দেয়া ঠিক নয়। মার্জিনের জন্য লালরঙ কলির কলম/পেন্সিল ব্যতিত অন্য যে কোন রঙ ব্যবহার করা যাবে। মনে রাখতে হবে, প্রশ্নপত্র তোমার হাতে আসার পূর্বেই এ কাজগুলো তোমাকে সম্পূর্ণরূপে শেষ করতে হবে। নতুবা উত্তর লেখার প্রকৃত সময় থেকে তোমার কিছুটা সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
পরীার হলে তোমার হাতে যখন প্রশ্নপত্র এসে ঁেপৗছাবে তখন প্রশ্নপত্রে বর্ণিত নির্দেশনা ভালভাবে ল্য করতে হবে। কোন বিভাগ থেকে কতটি প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে,আবার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া আবশ্যিক রয়েছে কি-না, সেদিকে তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে। এবার সৃজনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে লেখা শুরু করতে হবে যে প্রশ্নটির জ্ঞান স্তরের অর্থাৎ ‘ক’ নাম্বারের প্রশ্নের উত্তর তোমার সঠিক ভাবে জানা আছে। তোমার প্রথম প্রশ্নটি বা জ্ঞান স্তরের প্রশ্নটির উত্তর পরীকের নজরে ভুল প্রতীয়মান হলে মূল প্রশ্নের অন্যান্য প্রশ্ন অর্থাৎ খ,গ,ঘ নাম্বারের প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়নের বেলায় তোমার সম্পর্কে পরীকের খারাপ ধারনা জন্মাবে। আবার জ্ঞান স্তরের প্রশ্নের উত্তর এককথায় লেখার চেষ্টা করবে। কেননা পরীক তোমার কাছে কেবল সঠিক উত্তরটি আশা করেন। তাতে তোমারও সময় বাঁচবে। বিষয়টি পরিস্কার করার জন্য একটা উদাহরণ ল্য কর। প্রশ্ন-কঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার পান? উত্তরঃ ১৯১৩ সালে। তুমি হয়ত লিখতে চাইবেঃ ‘বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।’ জ্ঞান স্তরের প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য এমন বাহুল্য বর্জন করা উচিত।
সব প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় প্রশ্নের ক্রমিক নাম্বার দিয়ে উত্তর লিখতে হবে। আবার ‘ক’ নাম্বারের প্রশ্নের উত্তর লিখে একটু জায়গা ছেড়ে দিয়ে ‘খ’ নাম্বারের উত্তর লিখতে হবে। আবার অনুরূপ ভাবে ‘গ’ নাম্বার ও ‘ঘ’ নাম্বারের প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। তোমার উত্তর লেখার কাজ এ ভাবে চলতে থাকবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, তুমি যতবারই ‘ক’ ‘খ’ ‘গ’ ‘ঘ’ প্রশ্ন নাম্বারগুলো লিখবে ঠিক ততবারই তোমাকে মূল প্রশ্ন নাম্বার উলেখ করতে হবে। অর্থাৎ ১‘ক’, ১‘খ’, ১‘গ’, ১‘ঘ’, ‘এ ভাবে লিখতে হবে। তবে প্রশ্নপত্রের ধারাবাহিকতা রা করা আবশ্যিক নয়। তুমি ইচ্ছে করলে ৫‘ক’-এর উত্তর লিখে ৭‘গ’-এর উত্তর লিখতে পার। তবে এ েেত্র পরীক বিরক্ত হতে পারেন। তাই এ ভাবে উত্তর না লেখাই শ্রেয়। প্রশ্ন নাম্বার লেখার জন্য তুমি নীল কালি ব্যবহার করতে পার এবং মার্জিনের জন্যও নীল বা সবুজ কালি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে তোমার উত্তরপত্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। মাঝে মধ্যে ঘন্টা বা সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে সময়ের সাথে সংগতি রেখে তোমার উত্তর লেখার কাজটি চলতে পারে। মনে রাখতে হবে, ৬০ পূর্ণমানের বিষয়গুলোর প্রতিটি উদ্দীপকের উত্তর তোমাকে ২০/২১ মিনিটের মধ্যেই লেখা শেষ করতে হবে। নইলে তুমি পুরো ৬০ নম্বরের উত্তর দিতে পারবে না।

পরীক্ষার সময় এক ঘন্টা অতিবাহিত না হলে তোমাকে কিন্তু ক থেকে বের হবার অনুমতি দেয় হবে না। তাই এক ঘন্টার মধ্যে তোমাকে যাতে বাথরুম ডেকে না বসে সেজন্য পূর্ব থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

উত্তর লেখার সময় তোমাকে নজর রাখতে হবে যাতে লেখার লাইন বাঁকা না হয়। এ জন্য অবশ্য পূর্ব থেকেই অনুশীলনের প্রয়োজন। তা ছাড়া পরীার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকে তোমাকে প্রত্যহ  কমপে তিন ঘন্টা লিখতে হবে। তাহলে পরীার হলে লিখতে গিয়ে তোমার কান্তি আসবে না।
উত্তর লিখতে গিয়ে যাতে কাঁটাকাঁটি না হয় সেদিকেও তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে। একান্ত কাঁটাকাঁটি যদি করতেই হয়, তবে লেখার লাইনের ওপর দিয়ে লম্বালম্বি ভাবে কেঁটে দেয়া ভাল। আড়াআড়ি ভাবে বা ক্রসচিহ্ন দিয়ে কাঁটতে গেলে তা সহজে পরীকের চোখে পড়বে এবং তোমার উত্তরপত্রের সৌন্দর্য কিছুটা হলেও নষ্ট হবে।
পরীার হলে তোমার যখন অতিরিক্ত উত্তরপত্রের প্রয়োজন পড়বে, তখন কমপে মূল উত্তরপত্রের  একটা পৃষ্ঠা ফাঁকা থাকার পূর্বেই তুমি ক পরিদর্শককে অতিরিক্ত উত্তরপত্রের প্রয়োজনের কথাটা জানাতে হবে। এমন হতে পারে, ঐ কে অতিরিক্ত উত্তরপত্র শেষ হয়ে গেছে এবং তা আবার কে ঁেপৗছতে দুই মিনিট সময় লেগে যেতে পারে। অথবা পরীার্থীর হাজিরা স্বার গ্রহনে বা আন্য কোন কাজে করে শেষ প্রান্তে ক পরিদর্শক নিমগ্ন আছেন। তুমি যদি মূল উত্তরপত্রের সম্পূর্ণ অংশ লিখে অতিরিক্ত উত্তরপত্র চাও তবে তোমার ১/২ মিনিট সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তোমাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ক পরিদর্শক পরীক্ষার হলে যাঁরা আছেন ‘তাঁরা কোন না কোন স্কুলের শিক্ষক। সুতরাং তাঁদের প্রতি অতিঅবশ্যই শিক সুলভ আচরণ করতে হবে। এবার অতিরিক্ত উত্তরপত্র তোমার হাতে, পৌঁছালে পূর্বের নিয়মে মার্জিন দিয়ে নাও এবং উপরের বাম কর্ণার ঘেঁষে ১ লিখে রাখ। এ ভাবে দ্বিতীয়বার প্রয়োজন হলে ২ ও তার পরেরটিতে ৩ এবং যতবার অতিরিক্ত উত্তরপত্র  গ্রহন করবে উপরের কর্ণারে নম্বর দিয়ে রাখবে। যখন সময়ের শেষ প্রান্তে তোমার উত্তরপত্র সেলাই করার আবশ্যকতা দেখা দেবে; তখন অতিরিক্ত উত্তরপত্রের ক্রমিক সংখ্যাগুলো দ্রুত মিলিয়ে নিয়ে তোমার উত্তরপত্র সেলাই করে নাও। এতে তোমার সময় নষ্ট হবে না এবং অতিরিক্ত উত্তরপত্রগুলো উলোট-পালোট হবার সুযোগ থাকবে না।
তোমার উত্তর লেখার কাজ শেষ হবার পর পরীক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত সময় তোমার হাতে থাকলে তুমি উত্তরপত্র জমা না দিয়ে বরং চূড়ান্ত ঘন্টাপড়া অবধি আগাগোড়া উত্তরপত্রটি বার বার ভালভাবে পড়ে নেবে এবং কোন ভুল নজরে আসলে তা সংশোধন করবে।
এবার একটা কথা বলেই শেষ করছি, ভাল ফলাফল করতে হলে অবশ্যই তোমাকে শতভাগ প্রশ্নের উত্তর পরীার খাতায় লিখতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য পূর্ব থেকেই মনের মধ্যে  সংকল্প সুদৃঢ় করে রাখতে হবে। জয় হোক সবার।

– তৌহিদ-উল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক, লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

2 thoughts on “পরীক্ষায় করণীয় ও উত্তর লেখার কৌশল এবং পরামর্শ

  • November 14, 2018 at 7:04 pm
    Permalink

    PSC পরীক্ষার প্রথম পৃষ্ঠা কি রকম হবে?দয়া করে ছবিটা দিলে উপকৃত হব

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Please wait...

Subscribe to our Site

Want to be notified when our article is published? Enter your email address and name below to be the first to know.