পবিত্র হজ্ব ও উমরার সংক্ষিপ্ত নিয়মকানুন জানুন

image_pdfimage_print

হজ্ব ও উমরার সংক্ষিপ্ত নিয়মকানুন

হজ্বের ফরজ ৩টি
১। ইহরাম বাধা
২। উ’কুফে আ’রাফা (আরাফাতের ময়দানে অবস্থান)
৩। তাওয়াফুয্ যিয়ারাত
হজ্বের ওয়াজিব ৬টি
(১) ‘সাফা ও মারওয়া’ পাহাড় দ্বয়ের মাঝে ৭ বার সায়ী করা।
(২) অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ্জ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যদয় পর্যন্ত এক মুহুতের্র জন্য হলেও অবস্থান করা।
(৩) মিনায় তিন শয়তান (জামারাত) সমূহকে পাথর নিক্ষেপ করা।
(৪) ‘হজ্জে তামাত্তু’ ও ‘ক্বিরান’ কারীগণ ‘হজ্জ’ সমাপনের জন্য দমে শোকর করা।
(৫) ইহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা।
(৬) মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালীন তাওয়াফ করা। এছাড়া আর যে সমস্ত আমল রয়েছে সব সুন্নত অথবা মুস্তাহাব।
উমরার ফরজ ও ওয়াজিব :
ফরজ দুইটি: (১) ইহরাম পরিধান করা (২) তাওয়াফ
ওয়াজিব দুইটি: (১) সাফা ও মারওয়া মধ্যবর্তী (সবুজ বাতি) স্থানে সাতবার সায়ী করা (২) মাথার চুল
মুন্ডানো বা ছাটা।
হজ্জের প্রকার ও নিয়তসমূহ :
প্রথম প্রকার হজ্জে ইফরাদ-
বর্ণনা: ওমরাহ্ ব্যতিত শুধু হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা এবং হজ্জের সাথে ওমরাহকে না মিলানো। (বদলী হজ্জের জন্যও এই হজ্জ)।
নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াসছির হুলিওয়াতা কাব্বালহুমিন্নি। (বাংলা নিয়ত- আল্লাহ আমি ইফরাদ হজ্জের উদ্দেশ্যে আপনার সন্তুষ্টির জন্য ইহরাম বাধলাম। তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন)।
দ্বিতীয় প্রকার হজ্জে ক্বিরান-
বর্ণনা: একত্রে একই স্থান থেকে হজ্জ ও ওমরার নিয়্যাত করে হজ্জের সাথে ওমরাহকে মিলানো এবং একই ইহরামে উভয়টি আদায় করা।
নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উ’মরাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাক্কাব্বাল মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি আপনার উদ্দেশ্যে হজ্জে ক্বিরানের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন।
তৃতীয় প্রকার হজ্জে তামাত্তু-
বর্ণনা: একই সফরে পৃথক পৃথক ভাবে ‘ইহরাম’ পরিধান করে ‘হজ্জ ও ওমরাহ’ আদায় করা। প্রথম ইহরাম ও ওমরাহর নিয়্যাত করে তা পালন শেষে চুল কেটে ‘ইহরাম’ খুলে হালাল হয়ে দ্বিতীয় বার নতুন করে হজ্জের নিয়্যাতে ৮ই জিলহজ্জ ‘মক্কা শরীফ’ থেকে হজ্জের জন্য ইহরাম বাধা। তামাত্তু করার ইচ্ছা থাকলে প্রথমে ওমরার নিয়্যাত করে ইহরাম বাঁধুন।
শুধু ওমরাহর নিয়্যাত :
আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উম’রাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাক্কাব্বাল মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি ওমরাহ্ পালনের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।
শুধু হজ্জের নিয়্যাত :
আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াচ্ছিরহু-লী অ-তাকাব্বালহু মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য ইহরাম বেধে নিয়ত করলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।
তাওয়াফের বিবরণ :
হাজীদের সর্বপ্রথম কাজই হলো (তামাত্তু ও ক্বেরান কারীগণ) নিজের মালছামানগুছিয়ে রেখে পাকপবিত্র হয়ে মোটেই দেরী না করে ‘হারাম শরীফে’ হাজিরা দেওয়া এবং ‘তাওয়াফ’ করা। ওমরাহ এবং হজ্জের তাওয়াফ ব্যাতিত নফল তাওয়াফ ও করা যায়। যেমন: রাসূল (সা:), সাহাবা-আওলিয়া, আহ্লে বাইত, মা-বাবা, পীর-উস্তাদ ও অন্যান্য মুরব্বী বা সন্তানদের স্মরনে বা তাঁদের নামে তাওয়াফ করা।

তাওয়াফের ওয়াজিব সমূহ :
(১) শরীর পাক-সাফ রাখা, ওযু করা। মহিলাদের হায়েজ নেফাছ অবস্থায় তাওয়াফ করা জায়েজ নাই।
(২) ছতর ঢাকা। অর্থাৎ যেটুকু ঢাকা প্রত্যেক পুরুষ-নারীর জন্য ফরজ।
(৩) ‘হাতীমে কা’বার’ বাইরে থেকে ‘তাওয়াফ’ করা।
(৪) পায়ে হেঁটে ‘তাওয়াফ’ করা। অক্ষম ব্যক্তি খাটিয়ার মাধ্যমে ‘তাওয়াফ’ করতে পারেন।
(৫) ‘হাজরে আস্ওয়াদ’ থেকে শুরুকরে ডানদিক দিয়ে ‘তাওয়াফ’ শুরুকরা।
(৬) এক নাগাড়ে বিরতিহীন ভাবে ‘সাতবার চক্কর’ দিয়ে ‘তাওয়াফ’ পূর্ণ করা।
(৭) ‘সাত চক্করে’ এক ‘তাওয়াফ’, এটা পূর্ণ হলেই ‘তাওয়াফের’ নামাজ পড়া।
তাওয়াফের সুন্নত কার্যাবলী :
(১) ‘তাওয়াফে’র শুরুতে ‘হাজরে আসওয়াদ’ এর দিকে মুখ করা।
(২) সম্ভব হলে ‘হাজরে আস্ওয়াদ’ চুম্বন করা। নতুবা হাত দ্বারা দূর থেকে ইশারা করা, এবং মুখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ ’ বলা।
(৩) ‘হাজরে আস্ওয়াদ’ বরাবর দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরিমা’র ন্যায় উভয় হাত সিনা পর্যন্ত উঠান।
(৪) যে ‘তাওয়াফে’র পরে ‘সাঈ’ আছে তাতে ‘এযতেবা’ করা। অর্থাৎ ইহরামের চাদরের (উপরের অংশের) দুই মাথা ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলে দেওয়া।
(৫) ‘সাঈ’ যুক্ত ‘তাওয়াফে’র প্রথম তিন চক্করে ‘রমল’ করা। অর্থাৎ বীরের মত হেলে দুলে জোর ক্বদমে (একের পর এক পা ফেলে) চলা।
(৬) বাকী চার চক্কর সাধারণ গতিতে (ধীরে ধীরে) সম্পন্ন করা।
(৭) প্রত্যেক চক্কর তাওয়াফ শেষ করে এবং শেষ চক্করেরও পরে ‘হাজরে আস্ওয়াদ’কে চুম্বন করা।
সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে বিসমিল্লাহে আল্লাহ আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ্”দোয়াটি পাঠ করা এবং ৩ নং নিয়মের ন্যায় দাড়িয়ে ইশারা করে ‘তাওয়াফ’ শেষ করা।
তাওয়াফের নিয়্যাত :
আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদু তাওয়াফা বাইতিকাল হারাম ফায়াচ্ছিরহু-লী, ওয়া তাক্বাব্বাল-হু-মিন্নী, সাবাআ’তা আশ্ওয়াত্বিন লিল্লাহি তায়া’লা। বাংলায় নিয়ত- হে আল্লাহ আমি তাওয়াফ পালনের জন্য নিয়ত করলাম।
সায়ীর নিয়ম :
‘হজ্জ ও ওমরাহ’ ছাড়া নফল ‘তাওয়াফে’র কোন সায়ী নাই। কারো নামে ওমরাহ করতে হলেও সায়ী করতে হবে। সায়ী অর্থ দৌড়ানো। এটা ‘ছাফা’ পাহাড় থেকে প্রথমে শুরু করতে হবে। ছাফা থেকে মারওয়া। মারওয়া থেকে ছাফায়। এভাবে সাতবার সায়ীর সময় প্রথম তিন চক্কর সবুজ বাতির মাঝের অংশটুকু দৌড়ে দৌড়ে হেলে দুলে যাওয়া সুন্নাত (পুরুষদের জন্য)। পরের চার চক্কর সাধারণ গতিতে সম্পন্ন করতে হবে।
সায়ীর সহজ দোয়া-
সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া-লা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়া লা-হাওলা, ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আ’লিয়্যিল আ’যীম, রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়াআনতাল আ-আজ্জুল আকরাম।
সায়ীর কুরআনী দোয়া-
‘ইন্নাছ্ ছাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন্ শাআ’ইরিল্লাহ্ ফামান হাজ্জাল বাইতা আও-ই’ তামারা ফালা জুনাহা আ’লাইহি আইয়াত্ত্বাওয়াফা বিহিমা ওমান তাত্বাওয়াআ খাইরান ফা-ইন্নাল্লাহা শাকিরুণ আ’লীম।” উপরোক্ত দুই দোয়া সাতবার চক্করের সময় হাটতে চলতে পড়তে হবে। পরেরটি না পারলে উপরেরটিই যথেষ্ট হবে।
হজ্জে তামাত্তুর ১৫টি করনীয় কাজ
৪টি ফরজ
(১) ওমরাহর ইহরাম (বাংলাদেশ)।
(২) হজ্জের ইহরাম (৮ তারিখ মক্কায়)
(৩) উ’কুফে আরাফা (৯ই জিলহজ্জ সূর্য হেলার পর থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত)।
(৪) তাওয়াফে জিয়ারত (১০ তারিখ অথবা ১১, ১২ তারিখ)
১১টি ওয়াজিব
(১) তাওয়াফে ওমরাহ (মক্কায় গিয়েই)
(২) ওমরাহর সায়ী (ওমরাহ তাওয়াফের পরই)
(৩) মাথা মুন্ডানো (ওমরাহর পর)।
(৪) হজ্জের সায়ী
(৫) উ’কুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ্জ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যদয় পর্যন্ত এক মুহুর্তের জন্য হলেও অবস্থান করা।
(৬) বড় শয়তানকে ৭টি পাথর মারা ( ১০ই জিলহজ্ব তারিখ সূর্য হেলার বা ১২টা পূর্বে) সুন্নত।
(৭) দমের শোকর (কুরবানী) আদায় করা (পাথর মেরে ১০ তারিখ)।
(৮) ইহরাম খোলার পূর্বে মাথা মুন্ডানো অথবা দম দিতে হবে।
(৯) ১১ তারিখ তিন শয়তানকে ৭+৭+৭=২১টি পাথর মারা।
(১০) ১২ তারিখে তিন শয়তানকে ৭+৭+৭=২১টি পাথর মারা (সর্বমোট তিন দিনে ৭+২১+২১=৪৯টি পাথর মারতে হবে)।
(১১) বিদায়ী তাওয়াফ।
দিনওয়ারী তামাত্তু হজ্বের সংক্ষিপ্ত আমল সমূহ :
৭ই জিলহজ্ব : হজ্ব এর প্রস্তুতি শুরু
মূলত: ৮ই জিলহজ্ব সূর্য উদয়ের পরই মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা সুন্নত। কিন্তু আজকাল অতিরিক্ত লোকসমাগমের কারণে ৭ই জিলহজ্ব রাতেই মোয়াল্লিমের গাড়ীতে হাজীদেরকে মিনায় পৌঁছানোর কাজ শুরু করিয়া দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে দলবদ্ধভাবে মোয়াল্লিমের গাড়ীতে যাওয়াই উত্তম।
৮ই জিলহজ্জ : হজ্ব এর ১ম দিন
ইহরাম অবস্থায় (ফরয) মক্কা থেকে হজ্জের নিয়্যাতে মিনায় রওয়ানা হোন।
এ দিনের কাজ তিনটি
(১) ইহরাম (ফরজ) (২) যোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও ৯ তারিখ ফজর সহ মোট ৫ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় আদায় করা (সুন্নত)। (৩) মিনা রাত্রিযাপন (সুন্নত)।
৯ই জিলহজ্জ : হজ্ব এর ২য় দিন
১) উ’কুফে আরাফা বা আরাফায় অবস্থান (ফরজ)। ২) উ’কুফে মুযদালিফা বা মুযদালিফায় অবস্থান (ওয়াজিব)।
আরাফাতে অবস্থান (ফরজ) :
– ফজরের নামাজ মিনায় পড়ে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওয়ানা হোন।
– আরাফাতের দিন সূর্য হেলার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ফরয।
– নিজ তাবুতে যোহরের ওয়াক্তে যোহর ও আছরের ওয়াক্তে আছরের নামায আরাফাতে আদায় করুন (মসজিদে নামিরায় না গেলে)। নামাজ জামায়াতের সাথে পড়া উত্তম।
উল্লেখ্য: আরাফাতে যোহর এবং আছরের নামায মসজিদে নামিরাতে জামাতের সাথে আদায় করলে এক আযান দুই ইকামতে এক সাথে যোহর এবং আছরের নামায আদায় করতে হয় (জমে তাক্বদীম)।
উ’কুফে মুযদালিফায় (ওয়াজিব)
– সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামায না পড়ে মুযদালিফায় রওনা হোন।
– মুযদালিফায় পৌছে এশার ওয়াক্তে এক আযান দুই এক্বামাতে একত্রে মাগরিব ও এশার নামায আদায় করুন। এটা ওয়াজিব এবং এটার নাম ‘জামে তাখীর’। এই নামায জামাতে পড়া উত্তম।
– মুযদালিফায় থাকাকালীন পাহাড়ে অথবা তার পাদদেশে যে কোন ঘাস দুবলা থেকে খুঁজে খুঁজে পাথর মারার জন্য ৭২ টি (চানাবুটের ন্যায় কঙ্কর) ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করে নিন।
১০/১১/১২ তিন দিনে (৪৯টি পাথর) তিন শয়তানকে মারতে হবে।
– ১ম দিন ৭টি
– ২য় দিন ২১টি
– ৩য় দিন ২১টি
(সর্বমোট তিন দিনে ৭+২১+২১=৪৯টি )। তবে মিসিং হতে পারে বলে বেশী (৭২) নেওয়া সুন্নাত।
– মুজদালিফা রাত্রিযাপন (ওয়াজিব)।
১০ই জিলহজ্জ : হজ্ব এর ৩য় দিন
এ দিনের মোট কাজ ৪টি (১) বড় শয়তানকে পাথর মারা (২) কুরবানী (৩) মাথা মুন্ডানো (৪) তাওয়াফে যিয়ারাত করা।
– মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে সূর্য উদয়ের আগ পর্যন্ত অবস্থান করুন (ওয়াজিব)।
– মিনায় পৌছে প্রথমে একমাত্র বড় শয়তানকে ৭টি পাথর মারুন (ওয়াজিব)। বড় শয়তানকে পাথর মারার সুন্নত সময় হল সূর্যোদয় থেকে সূর্য ঢলার পূর্ব (যোহর) পর্যন্ত, তবে সতর্ক থাকুন এ সময়ে অনেকে ভিড়ের কারণে মারা যায়, আর সূর্য ঢলার পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত হল জায়েয এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পর থেকে পরবর্তী সূবহে সাদেক পর্যন্ত মকরুহে তানজিহী (ছোট মাকরূহ্) সময়, তবে মহিলা ও দূর্বলদের জন্য মাকরূহ্ নয়।
– তারপর কোরবানী করুন (ওয়াজিব)।
– তারপর মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটুন (ওয়াজিব)।
– এরপর ইহরাম খুলে হালাল হয়ে স্বাভাবিক পোষাক পরিধান করুন। কিন্তু কোরবানী পূর্বে নয়।
– তারপর আজকেই সম্ভব হলে তাওয়াফে যিয়ারতের জন্য মক্কায় যাবেন (ফরয)। আজকেই (১০ই জিলহজ্ব) তাওয়াফে জিয়ারত সর্বোত্তম।
– তাওয়াফ শেষে মিনায় এসে রাত্রি যাপন করুন (সুন্নত)।
১১ই জিলহজ্জ : হজ্ব এর ৪র্থ দিন
– ১০ তারিখে কুরবানী তাওয়াফে যিয়ারত ও কোরবানী, চুল মুন্ডানো বা ছাটা না করে থাকলে আজ করুন।
– সূর্য হেলার পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্বে পর্যন্ত (সুন্নত সময়) মিনায় প্রথমে ছোট, তারপর মেজ অত:পর বড় শয়তানকে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর মারুন (ওয়াজিব)। উল্লেখ্য সূর্য হেলার আগে পাথর মারলে আদায় হবে না। পুণরায় মারতে হবে বা দম দিতে হবে। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর থেকে সূবহে সাদিক পর্যন্ত মাকরূহে তাহনজিহী সময়, তবে দূর্বল ও মহিলাদের জন্য মাকরূহ্ নয়।
– মিনায় রাত্রি যাপন করুন (সুন্নত)।
১২ই জিলহজ্জ : হজ্ব এর ৫ম দিন
– ১০ তারিখে তাওয়াফে যিয়ারত ও কোরবানী, না করে থাকলে আজ সূর্যাস্তের পূর্বে অবশ্যই করুন। তাওয়াফে যিয়ারতের ওয়াজিব সময় ১০ই যিলহজ্ব সূবহে সাদিক থেকে ১২ই যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত (শেষ সময়)।
– সূর্য হেলার পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্বে পর্যন্ত (সুন্নত সময়) মিনায় প্রথমে ছোট, তারপর মেজ অত:পর বড় শয়তানকে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর মারুন (ওয়াজিব)। উল্লেখ্য সূর্য হেলার আগে পাথর মারলে আদায় হবে না। পুণরায় মারতে হবে বা দম দিতে হবে। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর থেকে সূবহে সাদিক পর্যন্ত মাকরূহে তাহনজিহী সময়, তবে দূর্বল ও মহিলাদের জন্য মাকরূহ্ নয়।
– সূর্যাস্তের পূর্বে মক্কা চলে আসা (জায়েয)।
১৩ই জিলহজ্জ : ১২ তারিখ দিবাগত রাত্র কেউ মিনায় অবস্থান করলে ১৩ তারিখে পাথর মারা ওয়াজিব।

– ১৩ই জিলহজ্ব মিনায় শয়তান সমূহকে পাথর মেরে মক্কায় আসা উত্তম, এর সুন্নত সময় সূর্য হেলার পর থেকে সূর্যস্ত পর্যন্ত, দুপুরের পূর্বেও পাথর মারা জায়েয তবে মাকরূহ্ হবে। পাথর মারা নিয়ম ১১-১২ জিলহজ্ব এর অনুরুপ।
জরুরী কথা:
১। মক্কার বাহিরের লোকদের জন্য দেশে ফিরার পূর্ব বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব।
২। ৮ই যিলহজ্জ বা এর আগে মক্কা থেকে মিনায় রওয়ানার পূর্বে ইহরামের সাথে নফল তাওয়াফ করে হজ্জের সায়ী যদি না করে থাকেন তবে তাওয়াফে যিয়ারতের পর হজ্জের সায়ী অবশ্যই করুন (ওয়াজিব)।
৩। হজ্জের পূর্বে বা পরে হুজুর (সা:) এর কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব।
যিয়ারাতে মদিনাহ
হজ্জের পূর্বে অথবা পরে (সুবিধামত) সময়ে হাজীদল তথা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা:) এর পাগলপাড়া উম্মতগণ এক মূহুর্তে একদিন/তথা ৮ দিনের জন্য (সম্ভব হলে) নতুবা এক রাত হলেও মদিনা শরীফে যান এবং রাসূলে পাক (সা:) এর রওজা মোবারক যিয়ারত, রিয়াদুল জান্নাতে বসা (নামাজ আদায় করা) জান্নাতুল বাকী যিয়ারত করা এবং বিশেষত: ৮ দিনে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করাসহ বহু ঐতিহাসিক স্থান তথা উহুদ পাহাড় ও বদর প্রান্তর দেখার সৌভাগ্য অর্জন করে থাকেন। এছাড়া মদিনা শরীফে আর কোন কাজ নেই। মূলত: মদিনা শরীফে মসজিদে নববীতে নামাজ ও রাসূলের পাক (সা:) এর রওজা শরীফ যিয়ারতই হল প্রধান কাজ। যদি সম্ভব হয় বা সময় সুযোগ থাকে তাহলে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ (সুন্নত) রয়েছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ৮দিন=৪০ ওয়াক্ত থাকতেই হবে। এটা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। আসলে এটা সুন্নত এবং হজ্জের অংশ নয়। মূলত: আশেকে রাসূল (সা:) দের জন্য রাসূলে পাক (সা:) এর রওজা মোবারক যিয়ারতের নিয়্যাতে যাওয়াই হল মূল।
বদলী হজ্জ
যে সকল মুসলিম নর-নারীর উপর হজ্জ ফরজ ছিল, তাঁদের মধ্যে যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে অথবা জীবিত কিন্তু শারিরীক দুর্বলতা ও অসুস্থতা ও অমতার কারণে হজ্জ করতে অপারগ হয়, তাহলে অন্য কাউকে দিয়ে বিশেষ করে বিজ্ঞ আলেম বা হজ্জে পারদর্শী ব্যক্তি দ্বারা তাঁর বদলী হজ্জ করাতে পারবে। অর্থাৎ যাঁর জন্য বদলী হজ্জ করা হবে তাঁরই নামে ইহরাম পরিধান ও নিয়্যাত করে অন্য একজন হজ্জ আদায় করতে পারবে।
সংকলিত

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Please wait...

Subscribe to our Site

Want to be notified when our article is published? Enter your email address and name below to be the first to know.