‘ তথ্যপ্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে প্রাথমিক শিক্ষায়’

image_pdfimage_print

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার নতুন প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শিশু, কিশোরদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা তথ্যপ্রযুক্তি চর্চার ক্ষেত্রে মাইলফলক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রোগ্রামিং মেধার বিকাশ ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্রকে বিকশিত করে।

মঙ্গলবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি মিলনায়তনে জাতীয় শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০১৮ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের প্রোগ্রামিংয়ের ওপর শিক্ষা দিতে হবে। কারণ প্রোগ্রামিংয়ের চর্চাটা ছোট থেকেই হওয়া উচিত। আমাদের সন্তানেরা অনেক মেধাবী। আমরা আমাদের যে প্রজন্মকে এখন প্রাইমারি স্কুলে যেতে দেখি, তাদেরকে স্মার্টফোনের ব্যবহার শেখাতে হয় না। তাই আমরা তাদের এমন স্থানে নিয়ে যেতে চাই যেন তারা ছোট থেকেই প্রোগ্রামিং জানতে পারে।

আগামী দিনে কায়িক পরিশ্রমের কোনো গুরুত্ব থাকবে না উল্লেখ করে তিনি মেধার যথাযথ বিকাশের মাধ্যমে নিজেদের আগামী শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিশু, কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের প্রোগ্রামার হবে। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে বাস্তবায়নে ৪৩ হাজার ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করাসহ তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসমৃদ্ধ জাতি গঠন করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন প্রোগ্রামিং, কোডিংসহ তথ্যপ্রযুক্তিতে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করতে পারে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি সৃজনশীলতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব জুয়েনা আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিসিসি এর নির্বাহী পরিচাল পার্থপ্রতীম দেব, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন সামস ও বিসিসি এর পরিচালক ইনামুল হক।

শিশুদের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় আগ্রহী করতে চলতি বছর মার্চ মাস থেকে সারা দেশে ১৮০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে কম্পিউটার কাউন্সিল ও ইয়াং বাংলা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ২টি গ্রুপে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত জুনিয়র এবং ৯ম থেকে ১০ম পর্যন্ত সিনিয়র গ্রুপে ভাগ করা হয়।

দেশের সকল জেলা হতে ৫ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। পরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক গ্রুপের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মাঝে ল্যাপটপ, সার্টিফিকেট, একসেট বই, স্মার্টফোন ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।

44 thoughts on “‘ তথ্যপ্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে প্রাথমিক শিক্ষায়’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Please wait...

Subscribe to our Site

Want to be notified when our article is published? Enter your email address and name below to be the first to know.